ভর মৌসুমেও পর্যটন খাতে বিপর্যয়ের শঙ্কা

আসন্ন নির্বাচনের প্রভাব

  ইয়াসিন রহমান ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভর মৌসুমেও পর্যটন খাতে বিপর্যয়ের শঙ্কা
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

চলতি বছরের ডিসেম্বরে হতে পারে জাতীয় নির্বাচন। এ জন্য দেশের সবকটি রাজনৈতিক দলের প্রস্তুতি চলছে।

চলছে নিজেদের মধ্যে হিসাব কষাকষি। নানাভাবে হচ্ছে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ।

পাড়ার চায়ের দোকান থেকে গণপরিবহন- সব খানেই বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী আমেজ। এদিকে আসন্ন নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হবে সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।

এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে পর্যটন শিল্পে বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে স্কুল-কলেজগুলোতে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। এ মাসের শেষ দিকেই তা শেষ হবে। আগামী মাস থেকেই জমে ওঠার কথা পর্যটন খাত। কিন্তু রাজনৈতিক আশঙ্কার কথা ভেবে এখন অনেকেই আগাম বুকিং দিচ্ছেন না। আগে এই সময়েই কক্সবাজারের হোটেলগুলো ২-৩ মাসের জন্য আগাম বুকিং হয়ে যেত। এবার তা হয়নি।

ট্যুরিজম ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জামিউল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, সামনে একাদশ জাতীয় নির্বাচন। এ জন্য এবার ভর মৌসুমে পর্যটন খাতে অবশ্যই এক ধরনের বিপর্যয় দেখা দেবে।

কারণ নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটুক আর না ঘটুক, এ সময় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ভ্রমণপিয়াসুদের মনে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

এ সময় নির্বাচনকে ঘিরে দেশের বাইরের পর্যটকও কম আসবে। সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশের পর্যটক কম আসার অনুমান করা হচ্ছে। তাই এই খাতে এবার মৌসুমে একটা মন্দা ভাব যাবে।

এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের বেশিরভাগ হোটেল-মোটেল এখন ফাঁকা। গত বছরের এই সময়ে যা পর্যটক ছিল, এখন তাও নেই। কক্সবাজারের লং বিচ হোটেলের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর এখনও তেমন কোনো পর্যটক নেই। আমরা সারা বছর ডিসেম্বরের দিকে তাকিয়ে থাকি। আর লং বিচ হোটেলে কক্ষ রয়েছে ১০৪টি।

প্রতিবছর ডিসেম্বরের প্রথম দিকে সব কক্ষই বুকিং হয়ে যায়। আগে থেকে বুকিং না দিলে কোনো কক্ষ পাওয়া যায় না। কিন্তু এই বছর প্রায় সব কক্ষই এখনও ফাঁকা আছে।

এদিকে কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, নির্বাচন ঘিরে পর্যটকদের মনে যে এক ধরনের আতঙ্ক রয়েছে। ঠিক তেমনভাবে আমরা যারা হোটেল মালিক আছি তাদের মনেও শঙ্কা রয়েছে।

কারণ ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন। আর এই সময় পর্যটন মৌসুম। আর নির্বাচনে কোনো কারণে সহিংসতা হোক বা না হোক এই সময় পর্যটকরা কোথাও ঘুরতে আসতে চায় না। এছাড়া বর্হিবিশ্ব বাংলাদেশের নির্বাচন সম্পর্কে একটা ধারণা রাখে। সে ধারণা থেকে এবার জাতীয় নির্বাচনের সময় বিদেশি পর্যটক কম আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আর কক্সবাজারে যে পরিমাণ দেশের বাইরের পর্যটক আসে তার ৮০ শতাংশ কোন না কোন এনজিওতে কাজ করে। এছাড়া বাকি ২০ শতাংশ আসে শুধু ভালো একটা সময় কাটাতে।

এবার মৌসুমে নির্বাচনের জন্য ৮০ শতাংশ থেকে কম এলেও বাকি ২০ শতাংশ সাধারণ বিদেশি পর্যটক আসবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এ জন্য আমরা ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে এ খাতের সঙ্গে জড়িতরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

অন্যদিকে পর্যটন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পর্যটকদের পছন্দের বেড়ানোর তালিকায় এক নম্বরে আছে কক্সবাজার। পরের অবস্থানে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।

পছন্দের তালিকার তৃতীয় অবস্থানে আছে সিলেট। হজরত শাহজালাল ও শাহপরানের মাজার জিয়ারত ছাড়াও সিলেটের চা-বাগানসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জায়গাগুলোতে যাচ্ছেন পর্যটকেরা।

বেড়ানোর তালিকায় আরও আছে সুন্দরবন, কুয়াকাটা, সেন্ট মার্টিন, পাহাড়পুর প্রভৃতি। কিন্তু প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে এসব এলাকার হোটেল-মোটেল রিসোর্টগুলোতে বুকিং দেয়ার প্রতিযোগিতা লেগে যায়। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত এমন কিছুই হয়নি।

দেশের লোকাল পর্যটক গাইড প্রতিষ্ঠান রাজধানী টুরিজমের প্রধান নির্বাহী জাবের আহমেদ পলাশ বলেন, আমরা সাধারণত অভ্যন্তরীণ টুরিজম সেবা দিয়ে থাকি। তবে জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে হওয়ায় আমরা শঙ্কায় আছি।

কারণ এ সময় পর্যটন মৌসুম। আর নির্বাচনের সময় পর্যটকদের মনে নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করে। যার কারণে মনে হচ্ছে প্রতি বছরের চেয়ে এ বছর ২০ শতাংশ কম পর্যটক পাব।

তিনি আরও বলেন, আশা করি সরকার এই বিষয়গুলো যথাযথ ব্যবস্থা রেখেছেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সচেষ্ট থাকবেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×