কর আদায় বেড়েছে ২০ গুণ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কর আদায় বেড়েছে ২০ গুণ
আয়কর দিতে লম্বা লাইন। ছবি যুগান্তর

এবার নিয়ে নবমবারের মতো আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে আটটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১০ সালে প্রথম আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়। এরপর থেকে প্রতি বছরই এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

একই সঙ্গে এর কলেবর বাড়ছে। শুরু থেকে গত বছর পর্যন্ত মেলায় কর আদায়ের পরিমাণ বেড়েছে ২০ গুণ। একই সঙ্গে বেড়েছে সেবা গ্রহণকারীদের সংখ্যাও।

আয়কর সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা ও মানুষের মনে লুকিয়ে থাকা করভীতি দূর করার লক্ষ্য নিয়েই আয়কর মেলা শুরু হয়। এখন সে মেলাই ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের কাছ থেকে আয়কর আদায়ের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। মেলায় শুধু কর আদায় নয়, মেলায় সেবাগ্রহীতার সংখ্যা, রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা, নতুন টিআইএন নেয়ার সংখ্যাও বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি হচ্ছে প্রচার। মানুষও মেলায় কর দিতে উৎসাহিত হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। সেবার শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রামে মেলা হয়। মেলায় ৬০ হাজার ৫১২ জন সেবা নেন। নতুন টিআইএন নেয় ৫ হাজার ৬৩৮ জন।

আর আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন ৫২ হাজার ৫৪৪ জন। এ থেকে আয়কর আদায় হয় ১১৩ কোটি টাকা। এরপর প্রতি বছরই মেলার স্পটের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে সেবাগ্রহীতা, রিটার্ন দাখিল ও নতুন টিআইএনধারীর সংখ্যা। সর্বশেষ গতবার ১৬৭টি স্পটে আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় সেবা নেন ৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭৩ জন। আয়কর রিটার্ন জমা দেন ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৪৮৭ জন। আয়কর আদায় হয় ২ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। আর নতুন ই-টিআইএন নেন ২৯ হাজার ২৫৪ জন।

কেন জনপ্রিয়তা পেল আয়কর মেলা : মূলত আয়কর মেলায় করদাতারা যেসব সেবা পান, সার্কেল অফিসগুলোতে সেসব সেবা না পাওয়ার কারণে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতারা রিটার্ন জমা দিতে মেলার জন্য অপেক্ষা করেন। এছাড়া ঝক্কি-ঝামেলা ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে অল্প সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারায় মেলার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। যেমন এবারের মেলায় করদাতাদের ১০ ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে।

এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মেলা থেকে বিনামূল্যে আয়কর রিটার্ন, ই-টিআইএন আবেদন ফরম এবং চালান ফরম দেয়া হচ্ছে। করের টাকা জমা দিতে সোনালী, জনতা ও বেসিক ব্যাংকের বুথ রয়েছে। সার্কেলে রিটার্ন জমা দিতে হলে, প্রথমে ফরম পূরণ করে ব্যাংকে লাইন ধরে টাকা জমা দিতে হয়। মেলায় রিটার্ন জমা ও ব্যাংকের বুথ একসঙ্গে পাওয়ায় করদাতাদের ঝামেলা কমেছে।

মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ করদাতাদের জন্য মেলায় পৃথক বুথ রয়েছে। বিনামূল্যে নতুন করদাতারা ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন ও পুরাতন টিআইএনধারী রি-রেজিস্ট্রেশন করে দেয়া হচ্ছে। সার্কেল অফিস থেকে এ সেবা নিতে হয়রানি হতে হয়।

এর বাইরে আয়কর অধ্যাদেশে নতুন নতুন আইন যুক্ত করার কারণেও করদাতার সংখ্যা হু-হু করে বেড়েছে। যেমন সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা হলে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়।

একই সঙ্গে রিটার্ন দাখিল না করলে বেতন বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেয়া হয়। এ কারণে অনেক সরকারি চাকরিজীবী রিটার্ন জমা দিয়েছেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেসরকারি চাকরিজীবীদের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করতে আইনে পরিবর্তন আনা হয়। সেখানে বলা হয়, চাকরিজীবী যদি রিটার্ন জমা না দেন তাহলে তাকে দেয়া বেতন প্রতিষ্ঠানের আয় হিসেবে গণ্য করা হবে এবং ওই অর্থের ওপর নির্ধারিত হারে ট্যাক্স কেটে নেয়া হবে। এ ধারা যুক্ত করার কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের রিটার্ন দাখিলে বাধ্য করে।

এনবিআর সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকারি চাকরিজীবীদের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করতে আইনে পরিবর্তন আনা হয়। যাদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা, তাদের করের আওতার বাইরে থাকার কথা।

এ আইনের কারণে যত সরকারি চাকরিজীবী রিটার্ন জমা দিয়েছেন তার মধ্যে ৯০ শতাংশই কর দিয়েছেন। অর্থাৎ আগে তারা করযোগ্য হলেও কর দিতেন না। এরপরের বার বেসরকারি চাকরিজীবীদের রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। এ আইনের কারণে রিটার্ন জমার সংখ্যা আশানুরূপভাবে বেড়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×