ডিএসইতে দেড় মাসের সর্বোচ্চ লেনদেন

নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় সংখ্যক বিনিয়োগকারী শেয়ার হাতবদল করছে। ফলে বাজারে এর প্রভাব পড়ছে

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ছে। সোমবার দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) মিলে ৮৩৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮০৩ কোটি টাকা এবং সিএসইতে ৩২ কোটি টাকা। ডিএসইর এ লেনদেন গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ৭ অক্টোবর ডিএসইতে ৮৪৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। এছাড়া উভয় শেয়ারবাজারেই সোমবার মূল্যসূচক ও বাজারমূলধন কিছুটা বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় একটি সংখ্যক বিনিয়োগকারী তাদের শেয়ার হাতবদল করছে। ফলে বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। তবে এসব শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হচ্ছে। ফলে এসব কোম্পানির শেয়ার মূল্যে খুব বেশি প্রভাব নেই।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে চলতি মাসে শেয়ারবাজারে ব্যাপক উত্থান-পতন হয়েছে। এর মধ্যে পতনের পাল্লা ভারি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই পতনের সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের এক ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল। কারণ চীনের কাছে শেয়ার বিক্রির টাকা সাম্প্রতিক সময়ে সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ওই টাকা তিন বছর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের শর্তে ১০ শতাংশ কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বর্তমানে বাজারে মূলধনী মুনাফায় কর ১৫ শতাংশ। কিন্তু চীন থেকে পাওয়া টাকার ক্ষেত্রে তা ৫ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ, তাদের ডিলার শেয়ার আগেই বিক্রি করে দিয়েছে। সরকারের কাছ থেকে কর ছাড়ের সুযোগ নেয়ার জন্য তারা এ কাজ করেছেন। এছাড়াও আইনে একজন সদস্যের ডিলার অ্যাকাউন্টে যে পরিমাণ শেয়ার থাকার কথা, বর্তমানে তা নেই। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এদিকে একক দিন হিসাবে ডিএসইতে সোমবার ৩১৫টি কোম্পানির ১৭ কোটি ৬১ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৮০৩ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের দিনের চেয়ে যা ২৪৭ কোটি টাকা বেশি। ডিএসইর এ লেনদেন গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। লেনদেনকৃত কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ১৫৭টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ১ দশমিক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৭ দশমিক ১১ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক দশমিক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৫৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ দশমিক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২১৪ দশমিক ৫১ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে বাজারে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম ও লেনদেন বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বাজারের জন্য ভালো সংকেত নয়।

সিএসই : চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে এদিন ২৪১টি প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ১ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৩১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৯৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ১১৮টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৮ দশমিক ২৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার ১৩৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসই ৩০ মূল্যসূচক আগের দিনের ৬৫ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৫০৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসইর বাজারমূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×