পরিশোধের সামর্থ্য নেই স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের

বিশ্বব্যাংকের ঋণের দায়মুক্তি

৫৯২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা শোধ দেবে সরকার

  হামিদ-উজ-জামান ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বব্যাংকের ঋণের দায়মুক্তি

বিশ্ব্যবাংকের কাছ থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধের দায়মুক্তি দিয়েছে সরকার। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সামর্থ্য না থাকায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে এই ঋণ পরিশোধ করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিলের অর্থেই।

বাংলাদেশে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় ‘রিজিওনাল কানেকটিভিটি প্রজেক্ট-১ : ডেভেলপমেন্ট অব শেওলা, ভোমরা, রামগড় ল্যান্ডপোর্ট অ্যান্ড আপগ্রেডেশন অব সিকিউরিটি সিস্টেম অব বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়নে এ ঋণ নেয়া হয়। ঋণের পরিমাণ ৫৯২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এর আগে ২৪ মে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহাজান খান। চিঠিটি ৫ জুন গ্রহণ করে অর্থমন্ত্রীর দফতর। সেখানে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে নেয়া এ ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষে নেই। তাই এ ঋণকে সংস্থাটির জন্য সরকারি অনুদান হিসেবে ঘোষণার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্বব্যাংক উইংয়ের প্রধান মাহমুদা বেগম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ অথরিটি হওয়ায় সরকার নির্দিষ্ট সুদে ঋণ দিতে চেয়েছিল। সেভাবেই প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণ এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণ চুক্তি হয়।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানায়, এ ঋণ পরিশোধ করতে তাদের সামর্থ্য নেই। সরকারের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে এটি চাওয়া হয়। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি করলে ঋণ ইফেকটিভ হতে অনেক বেশি দেরি হচ্ছিল। এ অবস্থায় ইআরডির পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিকবার আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুদান হিসেবে ঋণটি দিতে চুক্তি হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দুই বছর পিছিয়েছে। এখনও এক টাকাও ছাড় করেনি বিশ্বব্যাংক। তাছাড়া সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের একটি মিশন ঘুরে গেছে। তারা প্রকল্পটির বাস্তবায়নের অবস্থা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

সূত্র জানায়, নৌপরিবহনমন্ত্রীর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ মূলত একটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে সরকারি রাজস্ব আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে সহায়তা করাই এ সংস্থার মূল কাজ।

সেবা প্রদানের মাধ্যমে এ কর্তৃপক্ষ খুব অল্প পরিমাণ ট্যারিফ আদায় করে থাকে, যা দিয়ে কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বন্দরগুলোর পরিচালন ব্যয়, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্বল্প ব্যয় সংবলিত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকে।

বর্তমানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে বেনাপোল ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ঋণ নিয়েছে ১৪৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এ ঋণ সংস্থাটির মাধ্যমে পরিশোধযোগ্য। এ অবস্থায় সংস্থাটির অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ ও তা পরিশোধ করা দুঃসাধ্য।

সরকার যদি এ ঋণকে সংস্থাটির জন্য অনুদান হিসেবে বিবেচনা না করে তাহলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন দুরূহ হবে এবং এত বিপুল পরিমাণ ঋণ কর্তৃপক্ষের স্বল্প আয় দিয়ে পরিশোধ করা দুঃসাধ্য হবে। এজন্য প্রকল্পটির ঋণ পরিশোধের দায় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষকে না দেয়ার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এ অবস্থায় বিশ্বব্যাংকের দেয়া ঋণকে অনুদান হিসেবে বিবেচনার জন্য সানুগ্রহ অনুরোধ করছি।

সূত্র জানায়, সরকার সিলেট জেলার শেওলা শুল্ক স্টেশনকে ২০১৫ সালের জুন স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে। নবঘোষিত এ স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য জমিসহ প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো নির্মাণ করা প্রয়োজন। এছাড়া ভোমরা স্থলবন্দরের ন্যূনতম অবকাঠামো উন্নয়ন করে ২০১৩ সালের মে মাস থেকে কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে যে পরিমাণে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পরিচালনা হয় সে তুলনায় নির্মিত অবকাঠামো অপ্রতুল। ফলে বন্দরটি সম্প্রসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এছাড়া বন্দরের বিদ্যমান কিছু অবকাঠামোও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি, প্রতিবেশী দেশে স্থলপথে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কানেকটিভিটি বৃদ্ধির জন্য সরকার খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলাধীন রামগড় শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর ঘোষণা করা হয়।

এ স্থলবন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি মালামাল সংরক্ষণ ও লোডিং এবং আনলোডিং কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন। অন্যদিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন করে একত্রীভূতকরণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ‘রিজিওনাল কানেকটিভিটি প্রজেক্ট-১ : ডেভেলপমেন্ট অব শেওলা, ভোমরা, রামগড় ল্যান্ডপোর্ট অ্যান্ড আপগ্রেডেশন অব সিকিউরিটি সিস্টেম অব বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট’ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়।

গত বছরের ১১ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ৫৯২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় করার লক্ষ্য রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×