‘নিনজা’ ফুলকপি চাষে বাম্পার ফলন

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাজাহান সরকার, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

নিনজা’ ফুলকপি

সাটুরিয়ায় এ বছর শীত মৌসুমে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করে বাম্পার ফলন হয়েছে। সবজিখ্যাত হরগজ ইউনিয়নের দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ যেন ফুলকপির রাজ্য। একেকটি কপির ওজন ১ থেকে ২ কেজি।

দাম একটু চড়া হলেও আগাম সবজি সাটুরিয়ার ফুলকপির ক্রেতাদের কাছে বেশ কদর রয়েছে।

এসব বাহারি ফুলকপি কিনতে বিভিন্ন জেলার সবজি ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ভোরে পিকআপ ভ্যান নিয়ে ভিড় জমান সাটুরিয়ার হরগজে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে সাটুরিয়ার ফুলকপি চলে যায় রাজধানীসহ কয়েকটি জেলায়। জাপান থেকে আমদানি করা ‘নিনজা’ জাতের ফুলকপি চাষ করে শুধু বাম্পার ফলনই নয়, বাম্পার মূল্যও পেয়েছেন চাষীরা।

চড়া দামে বিক্রি করতে পেরে চাষীদের মুখে ফুটেছে চওড়া হাসি। রোববার এমনই দৃশ্য দেখা গেছে উপজেলার হরগজে। সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার সবজি চাষের গুরুখ্যাত বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আ খ ম নুরুল হক দীর্ঘদিন ধরে অন্তত ১০ বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেন।

এ বছর তিনি জাপান থেকে আমদানি করা আগাম জাতের ‘নিনজা’ ফুলকপির বীজ সংগ্রহ করেন। বীজতলা থেকে আগস্টের শেষ সপ্তাহে প্রায় ৫৩ হাজার ফুলকপি চারা জমিতে রোপণ করেন। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পুরস্কার পাওয়া সবজিচাষী নুরুল হক দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ফুলকপির বাম্পার ফলন করেন। নতুন জাতের এ ফুলকপি বৃষ্টিতে ফলনের কোনো ক্ষতি হয়নি।

অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করেন ফুলকপি বিক্রি।

কথা হয় রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত সফল সবজিচাষী নুরুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি নিজেও মজুরদের সঙ্গে হাতে-কলমে কাজ করি।

গত বছর ১ লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ১০ লাখ টাকার ফুলকপি বিক্রি করি। বিগত বছরের তুলনায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে, ফুলকপির দামও বাম্পার পেয়েছি। নুরুল হককে অনুসরণ করে ওই এলাকার রফিক, সালাম, আ. কাদেরসহ অনেক শিক্ষিত বেকার যুবকও আগাম জাতের সবজি চাষের ওপর ঝুঁকে পড়েছেন।

চাকরির আশা ছেড়ে দিয়ে তাই তারা এখন সবজি চাষ করে অল্পদিনে বনে যাচ্ছেন লাখপতি। অল্প জমিতে সামান্য মূলধন নিয়ে সবজি চাষে অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি, ঝুঁকিও কম।