নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি কমেছে

নির্বাচনের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না- পরিকল্পনামন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নভেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। এছাড়া খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৯ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তৈরি করা প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য দেলোয়ার বখত, আসিফ-উজ-জামান, শামীমা নার্গিসসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর মূল্যস্ফীতি স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। কেননা বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি বরং কমেছে। পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। যেসব পণ্য আমরা আমদানি করি সেসব পণ্যের দাম বাড়েনি।

মন্ত্রী জানান, গত বছর নভেম্বর মাসে ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচের দাম ছিল ১৬ টাকা। এ বছর এখন ১০০ গ্রামের দাম ৮ টাকা। পেঁয়াজ গত বছর ছিল ৮৪ টাকা ৯২ পয়সা কেজি, এবার নেমেছে ৪৮ টাকায়। মাঝারি আকারের একটি কুমড়া ৬০ টাকা, এবার ৫০ টাকা। রসুন ছিল ১১০ টাকা কেজি এখন ১০০ টাকা কেজি। চিনি প্রতি কেজি ছিল ৬০ টাকা, এখন ৫৮ টাকা কেজি। চাল গড়ে প্রতিকেজি ছিল ৫০ টাকা ৩৮ পয়সা, এ বছর ৪৮ টাকা কেজি। হলুদ এক কেজির দাম ছিল ২০০ টাকা, এ বছর ১৯০ টাকা। এভাবে প্রত্যেকটা জিনিসের দাম কমেছে। তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি কমার আর একটি কারণ হচ্ছে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার গত এক বছর ধরেই স্থিতিশীল রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নির্বাচনের কারণে ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না। কেননা এ সময় ঈদ বা নববর্ষের মতো নতুন জামাকাপড় কেউ কেনে না। শুধু চিনির চাহিদা একটু বেড়ে যায়। কিন্তু চাল তো বেশি করে কেউ খায় না। তাই যে উদ্দেশ্যে টাকা খরচ করার কথা প্রার্থীরা যদি সে উদ্দেশ্যেই খরচ করে তাহলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না। কর্মসংস্থান বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বাড়ছে। তবে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে সেভাবে বাড়েনি। এর কারণ এ খাতে যে পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা ছিল তা আমরা দিতে পারিনি। ফলে কর্মসংস্থান কাক্সিক্ষত হারে হয়নি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং গত বছর একই সময়ে ছিল ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

অন্যদিকে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২১ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে ছিল ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×