বিজিএমইএ নির্বাচন বানচালের আশঙ্কা

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় স্বাধীনতা পরিষদ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আশঙ্কা

বিজিএমইএ নির্বাচন বানচালের আশঙ্কা করছেন স্বাধীনতা পরিষদ নেতারা। ৬ এপ্রিলের নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক নবগঠিত এই পরিষদের নেতারা বলছেন, সাধারণ সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও নেতৃত্ব চাপিয়ে দিতে সংগঠনটির সাবেক সভাপতিদের ফোরাম কাজ করছে। আবার সমঝোতার নির্বাচন করার দিকেই এগোচ্ছে তারা। যদিও সাধারণ সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান।

রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় রোববার স্বাধীনতা পরিষদ নেতারা এসব অভিযোগ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন রশিদ জনিসহ সাধারণ গার্মেন্টস মালিকরা।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিজিএমইএতে নির্বাচন হচ্ছে না। এখনও নির্বাচন না করার ধারা অব্যাহত আছে। সাবেক সভাপতিদের ফোরাম জোর করে নেতৃত্ব চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এ নেতৃত্ব সাধারণ সদস্যদের ভাগ্যোন্নয়নে ভূমিকা রাখে না, কারণ তারা কারও প্রতি দায়বদ্ধ নয়। যেখানে দেশে ও জাতীয় ক্ষেত্রে অবসরে যাওয়ার পর সরকারি কর্মকর্তারা ও সংসদ সদস্যরা ক্ষমতাশূন্য হয়ে যান, সেখানে সাবেক সভাপতিদের ক্ষমতা বাড়ে।

তিনি আরও বলেন, সাবেক সভাপতিদের ফোরাম একবার ‘ফোরাম’ থেকে, আরেকবার ‘সম্মিলিত পরিষদ’ থেকে সভাপতি নির্বাচন করে দেন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের নেতৃত্ব মানতে হয়। যারা নেতৃত্বকে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের অবহেলিত হতে হয়। ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন না হওয়াই এজন্য দায়ী বলে মনে করেন তিনি।

ঘুষ ছাড়া বিজিএমইএতে ইউডি ইস্যু হয় না- এমন মন্তব্য করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিজিএমইএতে গেলে অসহায় লাগে। আমাদের চাঁদার টাকায় বেতন নেয়া কর্মচারীদের স্যার মনে হয়। যারা নেতৃত্ব মানতে অস্বীকার করে, তাদের দেরিতে ইউডি দেয়া হয়। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুমিল্লায় অত্যাধুনিক কারখানা করলেও শুধু বিজিএমইএ একজন সদস্যকে দিয়ে অ্যাসেসমেন্ট করাতে ৪ মাস সময় লেগেছে। এ সময় রফতানি করতে পারেনি। উল্টো ব্যাংক সুদ গুনতে হয়েছে।

আগামী নির্বাচনে স্বাধীনতা পরিষদ অংশ নেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে ৪ হাজার গার্মেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। কেন বন্ধ হল, এক্ষেত্রে সরকারের পলিসির সমস্যা আছে কি না? ব্যাংক ঋণের ঝামেলা আছে কি না? নাকি অন্য সমস্যা আছে? বিজিএমইএতে রিসার্স সেল থাকলেও সে বিষয়ে কোনো দিন গবেষণা করা হয়নি। তাই পোশাক খাতের অস্তিত্বের প্রশ্নে নির্বাচন হওয়া উচিত। পোশাক খাতের সঠিক সমস্যা সরকারের কাছে তুলে ধরতে স্বাধীনতা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেবে। এ বিষয়ে সব সদস্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সবাই চায় ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে। এবার নির্বাচন পেছানোর পাঁয়তারা হলে স্বাধীনতা পরিষদ আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজিএমইএতে আর্থিক স্বচ্ছতাও নেই- এমন মন্তব্য করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিজিএমইএ লাভজনক সংগঠন। প্রতিবছর বার্ষিক চাঁদা ও ইউডি ইস্যু বাবদ ১০০ কোটি টাকা আয় হয়। এ অর্থ কীভাবে খরচ করা হয়, তার স্বচ্ছতা নেই। অথচ এফবিসিসিআই ব্যবসায়ীদের প্রধান সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও তাদের এত আয় নেই।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বিজিএমইতে ৩৫টি পরিচালক পদ আছে। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে ২৬টি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯টি। ২০১৩ সালের পর থেকে বিজিএমইএতে সরাসরি সদস্যদের ভোটে নির্বাচন হয়নি। সাবেক সভাপতি সংগঠন একবার ‘ফোরাম’ ও একবার ‘সম্মিলিত পরিষদ’ থেকে সভাপতি মনোনয়ন দিয়ে আসছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×