ব্যাসেল ইন্সটিটিউট অব কমন্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স ও জাতিসংঘের জরিপ

কর প্রদানে বেশি আগ্রহী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ পঞ্চম

নাগরিকদের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কর দিতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী জার্মানির জনগণ * অনাগ্রহী দেশের তালিকায় তলানিতে মন্টেনেগ্রো, ব্রাজিল ও মেসিডোনিয়া

  ইকবাল হোসেন ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কর

সাধারণভাবে প্রচলিত আছে বাংলাদেশের জনগণ কর দিতে অনাগ্রহী। কিন্তু নাগরিকদের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়নে কর দিতে বেশি আগ্রহী এদেশের মানুষরা। ব্যাসেল ইন্সটিটিউট অব কমন্স ও ইকোনমিক্সে ও জাতিসংঘের করা এক যৌথ জরিপ সে তথ্যই দিচ্ছে।

এতে যেসব দেশের মানুষ অবকাঠামোগত উন্নয়নে কর দিতে বেশি আগ্রহী তার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সে তালিকায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। তালিকার শীর্ষে রয়েছে জার্মানি। বিশ্বের ১৪১টি দেশের ১৬ হাজার অধিবাসীর মতামতের ভিত্তিতে এ জরিপ করা হয় এবং সূচক ধরা হয়েছে ১ থেকে ১০-এর মধ্যে।

বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা, যার অন্যতম উৎস ভ্যাট। গত বছর এ খাতে ঘাটতি ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৫০ শতাংশ কম। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের অবকাঠামোগত কর দেয়ায় আগ্রহ খুবই প্রশংসনীয়। জরিপে বাংলাদেশ ১০-এর সাড়ে ৫ পেয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত করের বোঝা বহনকারী দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে।

১৫ শতাংশ বেশি কর দিতে হয় এ দেশের জনগণকে। তার পরেও দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কর দিতে আগ্রহী জার্মান জনগণ। জরিপে ১০ পয়েন্টের মধ্যে ৭ পয়েন্ট পেয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে জার্মানি। ব্যাসেল ইন্সটিটিউটের করা তালিকার দ্বিতীয় দেশ কম্বোডিয়া। কৃষি ও পর্যটন নির্ভরশীল এ দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা ততটা উন্নত না হলেও জনগণের কর দেয়ায় আগ্রহীদের ভিত্তিতে তারা বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। জরিপে দেখা গেছে ৬ দশমিক ৭ পয়েন্ট পেয়েছে দেশটির জনগণ।

তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া। এটি ইউরোপের সবচেয়ে ছোট দেশগুলোর একটি। মাত্র ৮৩ হাজার বর্গকিলোমিটারের এ দেশটি অর্থনৈতিকভাবে উন্নত ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে বেশ উপরেই রয়েছে। আর দেশটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। সেই দেশের জনগণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর দিতে আগ্রহী বলে ৬ দশমিক ৪ পয়েন্ট পেয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে তারা।

তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে কসোভো। দেশটি সার্বিয়া থেকে নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা করেছিল ২০০৮ সালে। এর ২ বছর পর পশ্চিমা বিশ্বের স্বীকৃতি মেলে। ছোট এ দেশের জনসংখ্যা ২ কোটি ১০ লাখ, প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২২০ জন বসবাস করে। কিন্তু ব্যাসেল ইন্সটিটিউটের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে দেশটি। ৫ দশমিক ৬ পয়েন্ট পেয়েছে দেশটির জনগণ। ব্যাসেল ইন্সটিটিউটের এ তালিকায় সবচেয়ে বিস্ময় জাগিয়েছে আফগানিস্তান। তালেবান হামলা, জঙ্গি-সংঘাত সব ছাপিয়ে দেশটির জনগণ করবিষয়ক আগ্রহের কারণে পেয়েছে ৫ দশমিক দুই পয়েন্ট।

পাকিস্তানও পেয়েছে ৫ দশমিক ২ পয়েন্ট। ব্যাসেল ইন্সটিটিউটের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ছোট ছোট ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশগুলোর জনগণই নাকি অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর দিতে বেশ আগ্রহী। নেপাল, বসনিয়া-হারজেগোভিনা, আলবেনিয়া, সার্বিয়ার মতো দেশগুলোর জনগণ চিকিৎসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের উন্নয়নে কর দিতে বেশ আগ্রহী। এ দেশগুলো ৪ দশমিক ৯ থেকে ৫ পর্যন্ত পয়েন্ট পেয়েছে।

দেশের মানুষ অবকাঠামোগত উন্নয়নে কর দিতে আগ্রহী নয়, এমন দেশের তালিকায় আছে- মন্টেনেগ্রো, ব্রাজিল এবং মেসিডোনিয়া। এ তিন দেশের জনগণের পয়েন্টের তালিকা তিনের ঘরে। এখানে মন্টেনেগ্রো ৩ দশমিক ৯, ব্রাজিল ৩ দশমিক ৪ এবং মেসিডোনিয়া ৩ দশমিক ২ পয়েন্ট পেয়েছে। আগামী মার্চ মাসে ব্যাসেলের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশিত হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×