টাকার প্রবাহ কমছে শেয়ারবাজারে

এক সপ্তাহে লেনদেন কমেছে ১ হাজার কোটি, বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার কোটি টাকা

  মনির হোসেন ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ারবাজার

নির্বাচনের পরই চাঙ্গা হয়েছিল শেয়ারবাজার। দীর্ঘদিন পর গতি ফিরেছিল লেনদেনে। মূল্যসূচকেও এর প্রভাব ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কমে এসেছে বাজারের গতি। গত এক সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন কমেছে ১ হাজার ৫২ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে যা ২০ শতাংশ। এ ছাড়া বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার কোটি টাকা।

অর্থাৎ তারল্য প্রবাহ কমছে। সামগ্রিকভাবে বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। এ দিকে দীর্ঘদিনেও শেয়ারবাজারে দুর্বল কোম্পানির আধিপত্য বন্ধ করা যায়নি। তবে টানা একমাস বাড়লেও গত সপ্তাহে বীমা খাতের কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সংকট ছিল। এখনও তা কাটেনি। আর আস্থা সংকট না কাটলে বাজার ইতিবাচক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। তিনি আরও বলেন, বাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে প্রণোদনার কথা আসছে। কিন্তু প্রণোদনা দিলে বাজারে সাময়িকভাবে উপকৃত হয়। এটি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়।

তার মতে, দেশের শেয়ারবাজার অবমূল্যায়িত। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা হুজুগে মাতে। এতে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজার অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ফলে প্রণোদনার পরিবর্তে এখানে আইন-কানুন সংস্কার জরুরি। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যসব সূচক এগিয়ে গেলেও শেয়ারবাজার পিছিয়েছে। কিন্তু শেয়ারবাজার পিছিয়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনাও ঘটেনি।

গত সপ্তাহে ৫ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৪ হাজার ১১৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৮২৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে ৫ দিনে ৫ হাজার ১৭১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। এ হিসাবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ১ হাজার ৫২ কোটি টাকা। আর প্রতিদিন গড়ে লেনদেন কমেছে ২১০ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে যা ৭ দশমিক ১২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে মূল্যসূচক ৯ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার কোটি টাকা।

এ দিকে সপ্তাহজুড়ে শীর্ষ দশ কোম্পানির ১ হাজার ৫৬ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৫ শতাংশের বেশি। একক কোম্পানি হিসেবে গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ইউনাইটেড পাওয়ার। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ৩১৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের ১৮৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। খুলনা পাওয়ারের লেনদেন ৯৫ কোটি টাকা, গ্রামীণফোন ৭৫ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৭৫ কোটি, মুন্নু সিরামিক ৭০ কোটি, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ৬২ কোটি, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ৬০ কোটি, সিঙ্গার বাংলাদেশ ৬০ কোটি এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ৫৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ৩০ জানুয়ারি মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর বাজারে উত্থান-পতন হয়েছে। ব্রোকারেজ হাউসগুলোয় কেউ কেউ বলছেন, মুদ্রানীতিতে আগামী ৬ মাসের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমানো হয়েছে। বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রানীতির সঙ্গে শেয়ারবাজারের খুব বেশি সম্পর্ক নেই। ২০১০ সালে মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেছিলেন, ফটকা বাজারের লাগাম টেনে ধরা হবে। এরপর কয়েকদিন শেয়ারবাজারে টানা পতন হয়েছিল। তখন থেকে মুদ্রনীতির সঙ্গে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের একটি মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। মুদ্রানীতি এলেই তারা শেয়ারবাজারের সম্পর্ক খোঁজেন।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে সেগুলো হল- বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ, লিবরা ইনফিউশন, মুন্নু জুটেক্স, সুরিদ ইন্ডাস্ট্রিজ, মারিকো বাংলাদেশ, এটলাস বাংলাদেশ, গ্লাসকো স্মিথ কেলাইন, রেকিড অ্যান্ড বেনকেইজার, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স এবং সোনার বাংলার ইন্স্যুরেন্স। আর যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হল- প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, পুরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, জনতা ইন্স্যুরেন্স, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, এশিয়ার ইন্স্যুরেন্স, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, নর্দান জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, রূপালী ইন্স্যুরেন্স এবং পিপলস ইন্স্যুরেন্স।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×