সচিবদের সঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রীর বৈঠক

তিন কারণে প্রকল্পে গতি কমছে

দাতাদের কাছ থেকে ঋণ প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়া * পরিচালকদের প্রকল্প স্থানে না থাকা * ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বৈঠক

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির অন্যতম কারণ দাতাদের কাছ থেকে ঋণ প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়া। এছাড়া প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্প স্থানে না থাকা এবং ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতাকেও দায়ী করছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে রোববার মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব সমস্যার কথা জানান। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি বাড়াতে এবং প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা সচিব নূরুল আমিন এবং কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য আসিফ-উজ-জামান। উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক সহায়তা প্রাপ্তির বিলম্বের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হচ্ছে। কিন্তু দোষ বা চাপ পড়েছে আমাদের ওপর। কেননা আপনারা আমাদের কাছে প্রশ্ন করতে পারছেন। কিন্তু তাদের তো আর প্রশ্ন করা যায় না। তবে ঋণদাতাদের নিজস্ব কিছু আইনকানুন আছে, সেটি তারা মেনে চলে। আবার আমাদেরও কিছু আইনকানুন আছে আমরা সেগুলো মেনে চলি। ফলে এখানে অনেক সময় মিস ম্যাচিং (অমিল) হয়। এ ব্যাপারে ইআরডিকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও জটিলতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হয় বলে জানান মন্ত্রী। এজন্য ব্যবস্থা নিতে ভূমি সচিবকে বলা হয়েছে। তাছাড়া মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো বা এমটিবিএফ সংশোধনের কথাও বলেছেন অনেকে। সেটিও আগামীতে করা হবে।

উন্নয়ন প্রকল্পের গতি বাড়াতে তাগিদ দিয়ে এমএ মান্নান বলেন, গতি বাড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। তবে মনে রাখতে হবে গতি বাড়াতে গিয়ে যাতে মানের দিকটি উপেক্ষিত না হয়। কাজের মান বজায় রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন বাড়াতে হবে। মন্ত্রী বলেন, সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা প্রস্তুত। সব সময় সব ধরনের সেবা দেয়া হবে। তবে প্রকল্পের গতি বাড়ানোর বিকল্প নেই।

সূত্র জানায়, বৈঠকে কয়েকজন সচিব বৈদেশিক ঋণের অর্থ সঠিক সময়ে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন। তারা বলেন, এ কারণে টাকা হাতে না পেয়ে বরাদ্দ সমর্পণ করতে হয়। উন্নয়নসহযোগীদের বিশেষ করে চীনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রকল্প হাতে নিয়ে এখন বাস্তবায়ন বিলম্ব হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে কমার্শিয়াল কন্টাক্ট হলেও ঋণ চুক্তি সঠিক সময়ে হচ্ছে না।

ব্রিফিং এ পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোকে নিজের কাজ ভাবতে হবে। এটি ভেবে প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্পের কোলে-পিঠে থাকতে হবে। এটি প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন থাকলেও অনেক পিডি সেটি করছেন না। এ বিষয়টি আমরা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করব।

প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্প স্থানে না থাকাকে ভয়ংকর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কিছু প্রকল্প আছে মাঠে থাকতে হয় না। বদ্ধ ঘরে থেকে করতে পারব। প্রকল্প ঢাকায় হলে ঢাকায় থাকতে হবে, চট্টগ্রামে হলে চট্টগ্রামেই থাকতে হবে। মূল কথা হল, প্রকল্পের পরিচালকরা প্রকল্পকে ওন (ধারণ) করে প্রকল্পকে কাছে রাখবে। এটা প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন। আমি লক্ষ করেছি, সেটা মানা হয় না প্রায় ক্ষেত্রেই।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার অন্যতম কারণ ভূমি অধিগ্রহণ বলেও মনে করেন এমএ মান্নান। এজন্য ভূমি সচিবকে নির্দেশনা দেন জনবল নিয়োগসহ কীভাবে বিষয়টি সমাধান করা যাবে, তা খুঁজে দেখার জন্য। প্রকল্পের গতি বাড়াতে এই ধরনের সভা প্রতি তিন মাস পর হবে বলেও জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ পাওয়া ১ হাজার ৪৫১টি প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন চায় সরকার। রোবারের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল- গত ৭ মাসে এডিপির বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা। তাতে দেখা যায়, অর্ধেকের বেশি সময় পার করার পর প্রকল্পের অগ্রগতির হার ৩৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত অর্থবছরে এই হার ছিল ৩৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×