কাটছাঁট হচ্ছে এডিপি

সরকারি তহবিলের অর্থ বরাদ্দে চাপ বাড়ছে

২৮ হাজার কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ চায় মন্ত্রণালয় ও বিভাগ * ৯ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক অর্থ বরাদ্দ কমছে

  হামিদ-উজ-জামান ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এডিপি

সংশোধন হতে যাওয়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সরকারি তহবিলের অর্থের ব্যাপক চাহিদা দিয়েছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। এক্ষেত্রে মূল এডিপির তুলনায় ২৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা বেশি চাওয়া হয়েছে- যা ২৫ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে বৈদেশিক সহায়তা ব্যয়ের ক্ষেত্রে বড় অংকের বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ৫৭ কোটি টাকা কমানোর কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের খসড়া হিসাব থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে রোববার পর্যন্ত সংশোধিত এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, ঋণদাতাদের নিজস্ব কিছু আইন-কানুন আছে, সেটি তারা মেনে চলেন। আবার আমাদেরও কিছু আইন-কানুন আছে আমরাও সেগুলো মেনে চলি। ফলে অনেক সময় মিস ম্যাচিং হয়। তাই বৈদেশিক সহায়তা পেতে দেরি হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নও দেরি হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এমএম আকাশ রোববার যুগান্তরকে বলেন, বৈদেশিক অর্থ ব্যয় হ্রাসের কারণ হল এ অর্থ ব্যয় করার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম-কানুন মানতে হয়। এছাড়া কঠোর মনিটরিং থাকে। আর সরকারি তহবিলের অর্থ যেমন ইচ্ছে তেমনভাবে খরচ করা যায়। এ কারণেই সরকারি তহবিলের টাকার চাহিদা বেশি।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের এডিপিতে সরকারি তহবিলের বরাদ্দ ছিল এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। সেখান থেকে সংশোধিত এডিপিতে ২৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা বাড়িয়ে চাহিদা দেয়া হয়েছে এক লাখ ৪১ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে বরাদ্দ ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা। সেখান থেকে ৯ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে চাহিদা দেয়া হয়েছে ৫১ হাজার কোটি টাকা। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে বরাদ্দ ছিল সাত হাজার ৮৬৯ হাজার টাকা। সেখান থেকে ৫৭ কোটি টাকা কমিয়ে চাহিদা সাত হাজার ৮১১ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এডিপিতে বরাদ্দ ছিল এক লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী দুই লাখ ৫৪৫ কোটি টাকা বাড়ছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী যুগান্তরকে বলেন, চলতি অর্থবছরের সাত মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো এডিপি বাস্তবায়নে অনেকটাই ভালো করেছে। বলতে গেলে সক্ষমতা দেখিয়েছে। তাই হয়তো তারা বেশি আশাবাদী হচ্ছে। আগামী পাঁচ মাসে বেশি টাকা ব্যয় করতে পারবে। সে জন্যই সরকারি তহবিলের অর্থবরাদ্দ বেশি চাওয়া হচ্ছে। এছাড়া সরকারি অর্থ সহজে ব্যয় করা যায় এবং কোনো ঝামেলা থাকে না। অপরদিকে, বৈদেশিক অর্থের ক্ষেত্রে নানা প্রক্রিয়া পার করতে হয়। এসব করতে অনেক সময় চলে যায়। ফলে বৈদেশিক অর্থ ব্যয় কম হয়। একই সঙ্গে যারা ঋণ দেয় তাদেরও নানা তদারকির বিষয় থাকে।

প্রস্তাবিত আরএডিপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ উল্লেখযোগ্য হারে সরকারি খাতের অর্থ বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে পাঁচ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চার হাজার ৬৯ কোটি টাকা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে দুই হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে দুই হাজার ৬২৪ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে তিন হাজার ৮১৯ কোটি টাকা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে দুই হাজার ২৯৬ কোটি টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দুই হাজার ২৪৬ কোটি টাকা, সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে এক হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা, জননিরাপত্ত বিভাগ থেকে এক হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এক হাজার ৬০২ কোটি টাকা এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে এক হাজার ১৫৪ কোটি টাকা বেশি চাওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নে জন্য বেশ কিছু কৌশল নিচ্ছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এগুলো হল- সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্ব চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভাগের ৪৪৬টি প্রকল্প (বিনিয়োগ ৪৩০টি ও কারিগরি সহায়তা ১৬টি) সমাপ্তির নির্ধারিত রয়েছে। নির্ধারিত এসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় বিভাগ, সেক্টর ডিভিশনের সমন্বয়ে গত বছরের ৩, ৫ ও ৬ ডিসেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই সভার আলোচনা অনুযায়ী মোট ৩৪৮টি প্রকল্প নিশ্চিতভাবে ২০১৯ সালের জুনে সমাপ্ত করা সম্ভব হবে বলে মন্ত্রণালয় বিভাগসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয়। অন্যদিকে প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপিতে মোট ৩৪৪টি (বিনিয়োগ ৩২৭, কারিগরি ১৭) প্রকল্প সমাপ্তির জন্য প্রস্তাব করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পগুলো সমাপ্ত করে জনগণের কাছে প্রকল্পের সুফল পৌঁছে দিতে। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে বরাদ্দ নিশ্চিত করার কথাও বলা হচ্ছে। এছাড়া চলমান প্রকল্প সংশোধন ও মেয়াদ বৃদ্ধিতে বিশেষ সচেতনতা, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর মধ্যে থেকে প্রকল্প গ্রহণ, বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের গতি বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×