রমজানে পণ্যের দাম সহনীয় রাখা

মাঠে বাজার মনিটরিং সেল

ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ২৫৬ প্রতিষ্ঠানকে ১৭ লাখ টাকার বেশি জরিমানা

  ইয়াসিন রহমান ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জরিমানা

চলতি বছর রমজানে নিত্যপণ্যের দাম যাতে না বাড়ে, এজন্য সরকার নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রমজানের দুই মাস আগেই সারা দেশে মিল পর্যায় থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের বিশেষ মনিটরিং সেল নামানো হয়েছে।

১০ ফেব্রুয়ারি থেকে কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং শুরু করেছে অধিদফতর। ভোক্তার সঙ্গে বিভিন্ন অনিয়মে এ পর্যন্ত ২৫৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ভোক্তা আইনের বিভিন্ন ধারায় এসব প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৭ লাখ টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক (উপসচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, রমজানে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নির্দেশে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বাজার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। তারা কাজ শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই সচেতন করতে চাই। তারা যেন কোনো কারসাজির আশ্রয় না নেয়। এরই মধ্যে ভোক্তা আইনে সারা দেশের ২৫৬ প্রতিষ্ঠানকে ১৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এবার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সারা দেশে প্রতিদিন দুটি ঝটিকা অভিযান চালানো হবে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি বা খাবারে ভেজাল দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন জরিমানা করে সতর্ক করা হচ্ছে, পরে একই অনিয়ম পেলে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. জাহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, পণ্যের দাম যাতে না বাড়ে এজন্য শুনেছি বাজারে মনিটরিং টিম কাজ করছে। এটা ভালো পদক্ষেপ, কিন্তু বাজারে যে পরিমাণে চালের দাম হঠাৎ করে বেড়েছে সে অনুপাতে কমছে না। এজন্য মনিটরিং সেলকে পদক্ষেপ নিতে হবে। বাজারে ভোজ্য তেল ও সবজির দাম বাড়তি। দাম বাড়ার তালিকায় আছে মুরগি ও ডিমের দাম। এ পণ্যগুলোর দাম কমাতে বা সহনীয় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা করতে মনিটরিং টিমকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম কেন বেড়েছে, তা খতিয়ে দেখছে বিশেষ মনিটরিং সেল। চালের বিষয়ে মিল পর্যায় থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষভাবে মুরগি ও ডিমের দাম কেন বেড়েছে, তা খতিয়ে দেখতে সেলের কর্মকর্তারা খামারি থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। যেখানে দাম বাড়ানোর অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানেই দোষীদের ভোক্তা আইনে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারওয়ান বাজারের এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। রমজান এলেই পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের নামে নানা ধরনের অপতৎপরতা শুরু হয়। ইফতার পার্টির নামে চলে চাঁদাবাজি। খেসারত দিতে হয় ব্যবসায়ীদের। এ টাকা তুলতে গিয়ে পণ্যমূল্য বেড়ে যায়। আর এ দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার সময় আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হয়। এজন্য চাঁদাবাজি বন্ধেও মনিটরিং সেলের নজর রাখা উচিত। তা না হলে আমাদের মতো বিক্রেতাদের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা আছে।

আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×