শেয়ারবাজারে ফের তারল্য সংকট

আস্থা সংকট না কাটলে বাজার ইতিবাচক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই- ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ারবাজার

শেয়ারবাজারে সংকট যেন পিছু ছাড়ছে না। একেক সময় একেক ধরনের সংকটে বাজার বিকাশ হচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ৫শ’ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন।

মঙ্গলবার কিছুটা বাড়লেও সামগ্রিকভাবে ডিএসইর সূচক পতনের ধারায়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আস্থা সংকটে বাজারে এভাবে পতন হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হলে বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, গত কয়েক বছর পর্যন্ত বাজার নিস্তেজ ছিল। এর অন্যতম কারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সংকট রয়েছে। এখনও ওই সংকট কাটেনি। আর আস্থা সংকট না কাটলে বাজার ইতিবাচক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ভয় রয়েছে।

এটি দূর করতে হবে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের নিশ্চয়তা দিতে হবে, কারসাজির মাধ্যমে কেউ তার পুঁজি হাতিয়ে নিলে বিচার হবে। তিনি আরও বলেন, বাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে প্রণোদনার কথা আসছে। কিন্তু প্রণোদনা দিলে বাজার সাময়িকভাবে উপকৃত হয়। এটি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। তার মতে, দেশের শেয়ারবাজার অবমূল্যায়িত। কিন্তু বিনিয়োগ হুজুগে মাতে। এতে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে চাহিদা ও সরবরাহ উভয় দিক থেকেই সংকট রয়েছে। চাহিদার দিক থেকে সংকট হল বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। কেউ কেউ একে জুয়ার হার মনে করে। এক্ষেত্রে বাজার সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে। ফলে বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী আসছে না। এ অবস্থার উন্নয়নে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের মতে, অতীতে যারা কারসাজি করছে, সবার আগে তাদের বিচার করতে হবে। সর্বোপরি বাজারে একটি বার্তা দিতে হবে, কারসাজির মাধ্যমে কেউ তাদের পুঁজি হাতিয়ে নিলে বিচার হবে। অন্যদিকে সরবরাহের দিক থেকে সংকট রয়েছে। এ কারণে বাজারে কোনো ভালো কোম্পানি আসছে না। গত ৫ বছরে যেসব কোম্পানি এসেছে, তার অধিকাংশ কোম্পানির দাম ইস্যু মূল্যের নিচে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কোম্পানি না আসার মূল কারণ হল ব্যাংক। কারণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, ব্যাংক থেকে টাকা নিলে আর ফেরত দিতে হয় না। যে কারণে খেলাপি ঋণ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এ কারণে কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করে বাড়তি ঝামেলায় পড়তে চায় না।

তবে একক দিন হিসেবে মঙ্গলবার বাজার ছিল কিছুটা ইতিবাচক। ওইদিন ডিএসইতে ৩৪৫টি কোম্পানির ৮ কোটি ৮২ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৪৭৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৪২টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ২৭৯টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ৫০ দশমিক ৯১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬০৪ দশমিক ৯০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ৫ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৭ দশমিক ৯০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই শরীয়াহ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক ৮২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৮৩ দশমিক ০১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ৪ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

সিএসই : চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে মঙ্গলবার ২৩৪টি প্রতিষ্ঠানের ১২ কোটি ৪৫ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ৬৪টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

শীর্ষ দশ কোম্পানি : মঙ্গলবার ডিএসইতে যে প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হল- ব্র্যাক ব্যাংক, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, ইউনাইটেড পাওয়ার, স্কয়ার ফার্মা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, সিঙ্গার বিডি, মুন্নু সিরামিকস, মেরিকো ইন্ডাস্ট্রিজ, বাটা সুজ এবং লিগেসী ফুটওয়্যার।

ডিএসইতে মঙ্গলবার যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হল- মেরিকো ইন্ডাস্ট্রিজ, রেকিট বেনকেইজার, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির দ্বিতীয় মিউচুয়াল ফান্ড, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, ব্যাংক এশিয়া এবং রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হল- ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, লিগেসী ফুটওয়্যার, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, তাক্কাফুল ইন্স্যুরেন্স, বিডি অটোকারস, মুন্নু সিরামিকস, আইসিবি সোনালি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এসএস স্টিল, বিআইএফসি এবং নদার্ন ইন্স্যুরেন্স।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×