সংশোধিত এডিপি ১ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা

সরকারি তহবিলের অর্থ ঠিক রেখেই বরাদ্দ দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয় * সাত মাসে বাস্তবায়ন ৩৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ

  হামিদ-উজ-জামান ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে বাদ যাচ্ছে না সরকারি তহবিলের বরাদ্দ। তবে বৈদেশিক সহায়তা থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। এ অবস্থায় সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। সরকারি অংশ থেকে ঠিক রেখে বরাদ্দ নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে এখনও লিখিত নির্দেশনা না এলেও পরিকল্পনা কমিশনকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে এ অংকটি এখনও প্রাথমিক বলে জানা গেছে। মূল এডিপির আকার হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের বরাদ্দ ৯৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৫৭ হাজার কোটি টাকা এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ৮ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। এ বরাদ্দের মধ্যে সরকারি অংশের ৯৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা ঠিকই থাকছে বলে নিশ্চিত করেছে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম রোববার যুগান্তরকে বলেন, গত চার বছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়ন অনেক ভালো। তাই সরকারি তহবিলের বরাদ্দ কমানোর কোনো কারণ নেই। তাছাড়া অতিবৃষ্টির কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট অবকাঠানো নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো পুনর্বাসন করতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন। সেই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অনেক বেশি এগিয়ে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত সঠিক। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের ৭ মাসে এডিপি বাস্তবায়নে অগ্রগতি অনেক বেশি। জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে ৫৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা, অর্থাৎ এডিপি বাস্তবায়ন হার ৩৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এটি গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বাস্তবায়ন। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে খরচ হয়েছে ২৮ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২৩ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ২ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছিল ৩৯ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা, যা শতাংশের দিক থেকে ৩২ দশমিক ৪১ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২৫ হাজার ৮৯৯ কোটি, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১০ হাজার ৬০৯ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। এসব দিক বিবেচনা করে অর্থ মন্ত্রণালয় সরকারি তহবিলের অংশ কাটছাঁট করেনি। তবে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার বরাদ্দ কাটছাঁট হবে কিনা, সেটি এখনও চূড়ান্ত নয়। দ্বিতীয় কল নোটিশের জবাব পেলে পরিকল্পনা কমিশন বুঝতে পারবে কমবে না বাড়বে, নাকি অপরিবর্তিত থাকবে। তবে কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন এ খাতেও বরাদ্দ অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা বেশি। সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের এডিপি থেকে বাদ যাচ্ছে ৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৫৭ হাজার কোটি টাকা। সেখান থেকে কাটছাঁট করে নামিয়ে আনা হচ্ছে ৫২ হাজার ৫০ কোটি টাকায়। ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে এ অংক চূড়ান্ত করে পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। গত ৩১ ডিসেম্বর এবং ১ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে সংস্থাটি। দু’দিনের এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংশোধিত এডিপি প্রণয়নের জন্য সব বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পের প্রকল্প সাহায্য বরাদ্দের প্রাক্কলন নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে এডিপি বরাদ্দের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ব্যয়ের ভিত্তিতে সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্পভিত্তিক বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছর এডিপির আকার ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। সেখান থেকে সংশোধিত এডিপি করা হয় ১ লাখ ১৯ হাজার ২৯৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকার। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ৭৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তা ৩৩ হাজার কোটি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৫৯৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে মূল এডিপি থেকে বাদ দেয়া হয় ৪ হাজার ৫০ কোটি ৩ লাখ টাকা। বৈদেশিক সহায়তা থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা কমলেও পরবর্তীতে সরকারি তহবিলের অংশ বাড়িয়ে দেয়া হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter