রোজার বাজার

কারসাজি করে পণ্যের দাম বাড়ালে শাস্তি

মাঠে থাকবে বিভিন্ন সংস্থার মোবাইল কোর্ট

  ইয়াসিন রহমান ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কারসাজি

আসন্ন রোজার মাসে বাজারে যাতে কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম না বাড়ে সেজন্য সরকার থেকে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রোজায় বাজারে পণ্যের চাহিদা, সরবরাহ, উৎপাদন ও আমদানি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করা হচ্ছে।

বড় বড় আড়ত, পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে গিয়ে পণ্য সরবরাহ ও মজুদের তথ্য নেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত হয়েছে রোজায় বাজারে পণ্যের চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি রয়েছে। তারা মনে করে এই অবস্থায় পণ্যের দাম বাড়ার কোনো যুক্তি নেই। তারপরেও কেউ কারসাজি করে দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, এবার বাজার তদারকিতে থাকবে বেশ কয়েকটি সংস্থা। এর মধ্যে মোবাইল কোর্ট নিয়ে বাজারে থাকবে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, কৃষি বিপণন অধিদফতর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও সিটি কর্পোরেশনের বাজার মনিটরিং সেল। তারা পণ্যমূল্যে কোনো কারসাজির প্রমাণ পেলে শাস্তি দেবে। প্রয়োজনে ট্রেড লাইসেন্স স্থগিত করে দেবে। এছাড়া সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ বাহিনীও বাজার তদারকি করবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকেও নিয়মিত বাজারের ওপর নজর রাখা হবে। ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই থেকেও বাজার তদারকি করা হবে। এর বাইরে স্থানীয় প্রশাসন থেকে নিয়মিত বাজারে তদারকি করা হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসনকে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওই কমিটি থেকে তারা প্রয়োজন বোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে।

তদারকি সংস্থাগুলো বাজারে পণ্যমূল্যের পাশাপাশি ভেজাল পণ্যের বিষয়টি দেখবে। পণ্যে ভেজাল দিলেও কঠোর ব্যবস্থা নেবে তারা।

কৃষি বিপণন অধিদফতর সূত্র জানায়, কৃষি পণ্যে কারসাজি করলে তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন স্থগিত করে দেবে। নিবন্ধন ছাড়া যাতে কেউ পাইকারি পর্যায়ে বা আড়তদার হিসেবে ব্যবসা করতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তাতে রমজানে যে পণ্যগুলোর বেশি চাহিদা থাকে সেগুলোর সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না। কারণ চাহিদার তুলনায় বেশি মজুদ আছে। তাই আশা করছি রমজানে কোনো পণ্যের দাম বাড়বে না। মূল্য ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। তবে কারসাজি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর কৌশল নেয়া হলে অপরাধী ব্যবসায়ীকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। এ জন্য বহুমুখী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনজুর মোরশেদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, রমজান উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইতিমধ্যে বাজারে বিশেষ মনিটরিং সেল কাজ করছে, যা রমজান মাসজুড়ে চলবে। এ সময় কোনো ব্যবসায়ী অসাধু পন্থায় পণ্যের দাম বাড়ালে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

নিত্যপণ্যের মজুদ ও রমজানে এসব পণ্যের মূল্য বিষয়ে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মুখ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, রমজানের বাজার মোকাবেলায় প্রস্তুত টিসিবি। ইতিমধ্যে টিসিবির আমদানি ও স্থানীয়ভাবে কেনা ভোজ্যতেল, ছোলা, চিনি, মসুর ডাল গুদামে ঢুকেছে। সব মিলিয়ে রমজানের ৮-১০ দিন আগে থেকেই খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি শুরু হবে।

ইতিমধ্যে সরকারের নির্দেশনায় রমজাননির্ভর পাঁচ পণ্য- ছোলা, চিনি, খেঁজুর, ভোজ্যতেল ও পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ গড়ে তোলা হয়েছে। আমদানির পাইপলাইনে আছে আরও বিপুল পরিমাণ পণ্য। বাজারে এই পাঁচ পণ্যের দাম মাসের ব্যবধানে স্বাভাবিক আছে। ফলে আসছে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর কেউ রমজানে কারসাজি করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে কঠোর শাস্তির হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, রমজানে মূলত কয়েকটা কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে। এর মধ্যে একটি হল- চাহিদার তুলনায় পণ্য সরবরাহ কম। তবে কৃত্রিমভাবে ঘাটতি দেখিয়ে অনেক সময় দাম বাড়ানো হয়। তাই সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন, যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা সংকট তৈরি করতে না পারে। আর এতোগুলো সংস্থা বাজার তদারকির কাজ করবে। তাদের মধ্যেও সমন্বয় রাখতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×