সব রফতানি খাতকে সমান সুবিধা দেয়া হবে

প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রফতানি

আগামী অর্থবছরের বাজেটে সব রফতানি খাতকে সমান সুবিধা দেয়া হবে। এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ে সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

এনবিআরের সম্মেলনকক্ষে বুধবার আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ইলেকট্রনিক্স-ইলেকট্রিক্যাল পণ্য আমদানিকারক ও উৎপাদক, মোবাইল ফোন উৎপাদক ও রফতানিকারক, বেসিস, কম্পিউটার সমিতির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, তৈরি পোশাক খাতকে সহায়তা দেয়ায় এখন বিশ্বের দ্বিতীয় পোশাক উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। অন্য কোনো দেশ পোশাক উৎপাদনে ভালো করলে পোশাক রফতানি নিয়ে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু রফতানি ঝুড়িতে নতুন নতুন পণ্য থাকলে সামগ্রিক রফতানি আয় স্থিতিশীল থাকবে। বর্তমানে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইলেকট্রনিক্স খাত ভালো করছে। দেশেই উন্নত মানের পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। এসব পণ্য রফতানি করতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে চাই। পোশাক খাতের মতো অন্য খাতকেও বন্ডসহ অন্যান্য সুবিধা দেয়া হবে।

তিনি বলেন, এখন এনবিআর শুধু রাজস্ব আদায়ে কাজ করছে না, শিল্পের উন্নয়নেও কাজ করছে। দেশের ইলেট্রনিক্স সামগ্রী উৎপাদনে অনেক দূর এগিয়েছে, তাদের সহযোগিতা করা হবে। তবে বর্তমানে উৎপাদনকারী ও সংযোজনকারীরা একই সুবিধা পাচ্ছেন। আগামীতে উৎপাদনকারী ও সংযোজনকারীরা একই সুবিধা পাবেন না। এখানে পৃথক প্রজ্ঞাপন করে দেয়া হবে।

বাংলাদেশ রেফ্রিজারেটর ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, টিভি, ফ্রিজ উৎপাদনে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়েছে। সে জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা দেয়া প্রয়োজন। কিছু অসাধু আমদানিকারক মিথ্যা ঘোষণায় এসব পণ্য আমদানি করে বাজার নষ্ট করছে। এ খাতে সংযোজন ও উৎপাদন দুটি আলাদা করে দেয়া এবং শুল্ককর আলাদা করার প্রস্তাব করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বাজেটে ম্যানুফেকচারিং ও অ্যাসেম্বলিং বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয়ার আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

বেসিসের পক্ষ থেকে বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক এবং পেমেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পুরো পেমেন্ট সিস্টেমকে আরও সহজ ও রেগুলার মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। এতে সরকার বছরে ৩০০-৪০০ কোটি টাকা আয় করতে পারবে।

সভায় বেসিসের সহ-সভাপতি (অর্থ) মুশফিকুর রহমান বলেন, আইটি-আইটিইএস খাতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর্পোরেট কর মওকুফ রয়েছে। কিন্তু এনবিআরের কাছ থেকে এই কর্পোরেট কর মওকুফের সনদ পেতে পেতে ২-৩ মাস সময় লেগে যায়। এতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। এ প্রস্তাবের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আইটি-আইটিইএস-এর জন্য ১ বছর মেয়াদকালীন কর্পোরেট ট্যাক্স মওকুফ সনদ ৩ বছর মেয়াদকাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হবে।

সভায় বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, বর্তমানে ৩০ শতাংশ মোবাইল ম্যানুফেকচারিং হচ্ছে, ২০২০ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ হবে। এ খাতে দক্ষ জনবল গড়ে উঠা ও মেশিনারিজ স্থাপনে এসএমটি লাইন স্থাপনের সময়সীমা ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, মোবাইলের মাদারবোর্ড উৎপাদনের সুযোগ দিলে বড় বড় কোম্পানি এদেশে কারখানা স্থাপন করবে। তৈরি হবে এ খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ প্রতিষ্ঠান। এ খাতের জন্য তিনি দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা দাবি করেন। সংগঠনের একজন সহ-সভাপতি বলেন, আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে স্মার্টফোন আমদানি হচ্ছে। এ দিকে নজর দিতে এবং দেশে স্মার্টফোন উৎপাদনক্ষম করে তুলতে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন তিনি।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির প্রেসিডেন্ট মো. সাহিদ-উল-মনির বলেন, ২২ ইঞ্চি পর্যন্ত মনিটর আমদানির সুযোগ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে গ্রাফিক্সের কাজে ২৮ থেকে ৩০ ইঞ্চি মনিটর ব্যবহৃত হয়। সে জন্য ২২ ইঞ্চির পরিবর্তে ২৮-৩০ ইঞ্চি আমদানি করার সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব করেন। এছাড়া কম্পিউটার হার্ডওয়্যার আমদানিতে শর্ত শিথিল করার প্রস্তাব করেন তিনি। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মনিটর ঘোষণা দিয়ে টিভি আমদানি করে। এনবিআর একটু কঠোর হলে আমদানিকারকরা এক কাস্টমস হাউস থেকে অন্য হাউসে যায়। এ নিয়ে ঝামেলায় আছি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×