গ্লোবাল ওয়েলথ মাইগ্রেশন রিভিউ প্রতিবেদন

ধনীদের দেশ ত্যাগে চীন শীর্ষে

২০১৮ সালে ১৫ হাজার ধনকুবের চীন ছেড়েছেন * ১২ হাজার ধনী আশ্রয় নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়

  শিল্প বাণিজ্য ডেস্ক ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চীনের ব্যবসায়ী
ফাইল ছবি

নিজ দেশ ছেড়ে বিদেশের মাটিতে দলে দলে পা রাখছেন বিত্তশালীরা। ২০১৮ সালে বিশ্বে দেশত্যাগী ধনকুবেরদের তালিকায় শীর্ষ দেশ চীন। রাশিয়া ও ভারত যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

অপরদিকে একই সময়ে বিত্তশালীরা বেশি আশ্রয় নিয়েছেন অস্ট্রিলিয়ায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়। ‘গ্লোবাল ওয়েলথ মাইগ্রেশন রিভিউ রিপোর্ট ২০১৯’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। অ্যাফ্রো এশিয়া ব্যাংক এবং নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথের যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি এটি প্রকাশিত হয়েছে।

যে কারণে বিত্তশালীরা নিজ দেশ ছেড়ে বিদেশের মাটিতে পা রাখছেন তার প্রধান কারণই হল নিরাপত্তা। নিরাপত্তাহীনতার জন্যই তারা দেশে থাকা আর ঠিক বলে মনে করছেন না- এমনটাই বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। এই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখা হয়েছে- মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তা, জলবায়ু, পরিবেশ, সন্তানের শিক্ষার পরিকাঠামো, কাজের পরিবেশ, আর্থিক দুশ্চিন্তা, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, জীবনযাত্রার মান এবং ধর্মীয় উত্তেজনা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ২০১৮ সালে সবচেয়ে বেশি প্রায় ১৫ হাজার ধনকুবের চীন ছেড়েছেন। এসময় রাশিয়া থেকে প্রায় ৭ হাজার, ভারতের ৫ হাজার, তুরস্কের ৪ হাজার, ফ্রান্সের ৩ হাজার, যুক্তরাজ্যের ৩ হাজার, ব্রাজিলের ২ হাজার, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়ার ১ হাজার করে ধনী নিজ দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

অপরদিকে, ২০১৮ সালে সবচেয়ে বেশি ১২ হাজার ধনী আশ্রয় নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। এসময় যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছেন ১০ হাজার বিত্তশালী। কানাডায় ৪ হাজার, সুইজারল্যান্ডে ৩ হাজার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ক্যারাবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ২ হাজার করে ধনী আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইসরাইল, পুর্তগাল, গ্রীস ও স্পেনে প্রায় ১ হাজার করে ধনকুবের আশ্রয় নিয়েছেন।

বিত্তশালী বলতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ধনীদের কথাই। অর্থনীতির ভাষায় তার নাম ‘এইচএনডব্লিউআই বা হাই নেটওয়ার্দ ইন্ডিভিজুয়াল’। যাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ ১০ লাখ ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা, তাদেরই রাখা হয়েছে বিত্তশালী বা ধনকুবেরদের তালিকায়। বিশ্বে এই ধরনের বিত্তশালীদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি।

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে। চীন সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দশক ধরে চীন ধনকুবের তৈরি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সে সঙ্গে গত কয়েক বছরে চীন থেকে বিত্তশালীদের নানা দেশে পাড়ি দেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতীয় ধনকুবের তিন লাখ ২৭ হাজার জন। বিশ্বে বিত্তশালীদের সংখ্যার নিরিখে বর্তমানে দেশটির অবস্থান নয় নম্বরে।

প্রতিবেদনে ভারত সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যেই জার্মানি এবং ব্রিটেনকে টপকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার দৌড়ে রয়েছে ভারত। আগামী দশ বছরের মধ্যে ভারতের জাতীয় উৎপাদন ৮ হাজার ১৪৮ বিলিয়ন ডলার (৫ কোটি ৬৭ লাখ কোটি রুপি) থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮১৪ বিলিয়ন ডলার (১৫ কোটি ৮৮ লাখ কোটি রুপি) হবে, এমন লক্ষ্যমাত্রা দেশটির। গত এক বছরে মোট উৎপাদন কমলেও এই মুহূর্তে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত।

ভারতের মোট উৎপাদন বাড়লেও একই সঙ্গে বাড়ছে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য। অর্থাৎ বিত্তশালীদের সংখ্যা বাড়লেও আরও গরিব হচ্ছেন অর্থনীতির নিচের তলায় থাকা মানুষেরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ৪৮ শতাংশ সম্পত্তিই সাড়ে তিন লাখ মানুষের হাতে। বাকি ৫২ শতাংশ সম্পত্তি আছে প্রায় ১৩০ কোটি মানুষের হাতে। তাই বিত্তশালীরা দেশ ছাড়লে সেই সম্পত্তিও দেশ ছাড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে নিরাপদ করার মাধ্যমেই বিত্তশালীদের দেশ ছাড়ার সংখ্যা কমানো যেতে পারে বলে বলা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, ভারতে এখনও যত ধনকুবের দেশ ছাড়েছেন, তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় ধনকুবের তৈরিও হচ্ছে দেশটিতে। তাই স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা ফিরলে ফের দেশে থেকেই সম্পদের পরিমাণ বাড়াতে পারবেন তারা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×