সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী

পুঁজিবাজার খারাপ অবস্থানে নেই

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘আমি মনে করি পুঁজিবাজার ঠিক আছে। খারাপ অবস্থানে নেই।’ বাজারের ধারাবাহিক দরপতনকে কেন্দ্র করে সোমবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন, কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামী, ড.স্বপন কুমার বালা এবং খোন্দকার কামালুজ্জামান।

অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমি মনে করি পুঁজিবাজার ঠিক আছে। খারাপ অবস্থানে নেই। সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা লিখেছেন শেয়ারবাজার নেই, বাংলাদেশ নেই। সব শেষ হয়ে গেছে। তিনি প্রশ্ন করেন কোথায় সে রকম ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ছিল ৪ হাজার ৫০০ পয়েন্ট। সেখান থেকে ৫ হাজার ৯০০ পয়েন্টে গিয়েছিল। এখনও ৫ হাজার ৩০০ আছে। তিনি বলেন, পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

অর্থনীতি ভালো হলে পুঁজিবাজার ভালো হয়। আর পুঁজিবাজার উঠানামা করতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮৯ সালে জাপানে সূচক ছিল ৩৯ হাজার। সেখান থেকে ২০০৭ সাল হাজারে এসেছিল। আমেরিকাতে ১৭ হাজার থেকে ৭ হাজারে এসেছিল। ভারতেও ৭ হাজার আসছিল। পরে আবার ২২ থেকে ২৩ হাজারে চলে গেছে। সব জায়গাতে এভাবে উঠানামা করে।

সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, আপনারা ভয় দেখালে হবে না। আর এখানে পুঁজিবাজার অন্য জায়গার মতো না। অন্য জায়গাতে পুঁজিবাজারে যারা আসেন, তারা বুঝেশুনে আসেন। লেখাপড়া জানেন। বাজার সম্পর্কে বোঝেন। কিন্তু অত্যন্ত দুভার্গ্যজনক হল আমাদের এখানে যারা বাজার বোঝেন, তাদের সংখ্যা খুব কম। সবাই যদি বুঝতেন, তবে আমাদের এত দুশ্চিন্তা করার দরকার ছিল না। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের এখানে অনেক আইনকানুন হচ্ছে। পুঁজিবাজারের ওপর আমাদের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান অনেক কিছু হচ্ছে। সামনে বাজেট আসছে। আমরাও চাচ্ছি বড় বড় বিনিয়োগের অর্থ যেন পুঁজিবাজার থেকে আসে।

মন্ত্রী বলেন, সূচক পতনের পেছনে কেউ না কেউ আছে। না হলে কিছুদিন পরপর এভাবে হবে কেন। ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালে আমরা এ বিষয়গুলো দেখেছি। এর পেছনে যারা আছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। তার মতে, দেশের অর্থনীতি বড় হবে, আর পুঁজিবাজার পিছিয়ে থাকবে এমনটি হতে পারে না। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে যারা আছে, তারা ব্যবসায়ী। আর সারা পৃথিবীতে দেখেন, ব্যবসায়ীদের জেলে পাঠানোর সংখ্যা খুব কম। কিন্তু আমাদের এখানে পাঠানো হয়। ফলে ব্যবস্থাও নেয়া হয়। তিনি বলেন, এখানে আইন করা আছে। আইন অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। শেয়ারবাজারে কোম্পানি নিয়ে আসার ব্যাপারে তিনি বলেন, এখানে কোম্পানি নিয়ে আসা যাবে না। কেউ ইচ্ছা করে এখানে আসলে আসবে, না হলে জোর করে আনা যাবে না। গত ৩ মাস ধরে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ২৪ জানুয়ারি ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল ৫ হাজার ৯৫০ পয়েন্ট। ২১ এপ্রিল এ সূচক ৫ হাজার ৩২৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এ সময় সূচক কমেছে ৬২৬ পয়েন্ট। শতকরা হিসাবে তা ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বাজার মূলধন ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ ৩ মাসে বাজার মূলধন প্রায় ২৪ হাজার টাকা কমেছে। এদিকে দরপতনের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছেন বিনিয়োগকারীরা। প্রতিদিনই ডিএসইর সামনে বিক্ষোভও করছেন তারা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×