দেশে ফল উৎপাদন

শীর্ষে তরমুজ দ্বিতীয় আম

  ইয়াসিন রহমান ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তরমুজ

দেশে এখন সারা বছরই বিভিন্ন জাতের ফল উৎপাদন হচ্ছে। আবহাওয়া ও ভূ-প্রকৃতি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল উৎপাদনের জন্য বেশি উপযোগী বাংলাদেশ। এ কারণে ফলের উৎপাদন বাড়ছে। পরিকল্পিতভাবে আবাদ করলে ফলের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৭০ ধরনের ফল উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে উৎপাদনের দিক দিয়ে তরমুজ সবচেয়ে এগিয়ে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল হিসেবেও তরমুজ একটি বিশেষ অবস্থান ধরে রেখেছে। এর পরেই আছে আম। তারপর কলা, কাঁঠাল ও নারিকেল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত অর্থবছর সারা দেশে প্রায় ৭ লাখ ১৫ হাজার ৯৪১ হেক্টর জমিতে ফলের আবাদ হয়। এর মধ্যে এক কোটি ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৩ টন ফল উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে তরমুজ আবাদ হয় প্রায় ৪৫ হাজার ৭৪২ হেক্টর জমিতে আর উৎপাদন ২১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৯ টন। অন্যান্য ফলের মধ্যে আম ১ লাখ ৭৪ হাজার ২০৮ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়, উৎপাদন ২১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৪৩ টন। কলা ৮৯ হাজার ৯০৮ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়, উৎপাদন ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৯১৭ টন। কাঁঠাল ৭৬ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। উৎপাদন হয় ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৫৪৯ টন। নারিকেল ৪৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয় ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৯১ টন।

ডিএই’র বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক নুরল ইসলাম বলেন, বরিশাল অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন চরাঞ্চলে তরমুজের উৎপাদন অনেক বেশি হয়। তরমুজ মৌসুমি ফল হলেও কালো জাতের তরমুজ সারা বছরই পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় নদীতে চর জেগে ওঠায় সেখানে তরমুজ চাষ হচ্ছে। যে কারণে এবার তরমুজের উৎপাদন বেশি হয়েছে। এছাড়া গত বছর ভোলা, রাঙাবালী, পটুয়াখালীতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। আকর্ষণীয় রং এবং রসালো মিষ্টি স্বাদের তরমুজে খুব সামান্য ক্যালরি আছে। ফলটি খেলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না। তরমুজের ৯২ শতাংশই পানি। শরীরে পানির অভাব পূরণে ফলের মধ্যে তরমুজই হল আদর্শ ফল। গ্রীষ্মের খরতাপে সতেজ থাকতে ফলটির ভূমিকা অতুলনীয়। এছাড়া তরমুজে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম ও আঁশ। মৌসুমি এ ফলটির রয়েছে নানা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তরমুজ হল ভিটামিন ‘বি৬’-এর চমৎকার উৎস, যা মস্তিষ্ক সচল রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পুষ্টিবিদদের মতে, দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদায় এখনও ফলের ঘাটতি রয়ে গেছে। দৈনিক মাথাপিছু ২০০ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত। তবে বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ফল উৎপাদন হচ্ছে মাঠ থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছতে এর আরও ৩৫-৪০ শতাংশ অপচয় ও বিনষ্ট হচ্ছে। সনাতন পদ্ধতিতে ফল সংগ্রহ, অসতর্ক ও অযত্ন-অবহেলায় নাড়াচাড়া, অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিবহনজনিত কারণে এ অপচয় হচ্ছে। এর ফলে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় ফলের জোগান পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪৫-৫০ শতাংশ। উন্নত বীজ, সেচ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাঠে ফসলের উৎপাদন বেড়ে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও উদ্যান ফসলের উৎপাদন বিশেষ করে ফলের উৎপাদন এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছেনি।

ডিএই’র তথ্য অনুযায়ী, দেশে তরমুজ উৎপাদনের শীর্ষে বরিশাল অঞ্চল। বরিশালে ৩৫ হাজার ৩২৮ হেক্টর জমিতে ফলটির চাষ করা হয়, উৎপাদন হয়েছে ১৯ লাখ ২১ হাজার ৯৩১ টন। চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৪ হাজার ৬২৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়, উৎপাদন হয়েছে ৮৩ হাজার ৭৪৬ টন। এদিকে আমের উৎপাদনে শীর্ষে রাজশাহী অঞ্চল। এ অঞ্চলে ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে ফলটির আবাদ হয়, উৎপাদন হয়েছে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৭৯৯ টন। এর পরেই আছে ঢাকা অঞ্চল। ঢাকা এবং এর আশপাশ জেলায় ২১ হাজার ৯৬৬ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×