শেয়ারবাজারে লেনদেন খরা

মঙ্গলবার ২৫১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা ১৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন * ডিএসইর প্রধান সূচক ২৯ পয়েন্ট কমে ৫২১৭ পয়েন্টে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ারবাজার

পতনের বৃত্ত থেকে শেয়ারবাজারকে বের করতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হলেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।

বরং টানা দরপতন অব্যাহত রয়েছে। সেইসঙ্গে দেখা দিয়েছে চরম লেনদেন খরা। মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। সেইসঙ্গে কমেছে সবকটি মূল্যসূচক।

মূল্যসূচক ও সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের পাশাপাশি ডিএসইতে দেখা দিয়েছে লেনদেন খরা। মঙ্গলবার বাজারটিতে ২০১৮ সালের ২৫ মার্চের পর সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। টাকার অঙ্কে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৫১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩০৫ কোটি ৩ লাখ টাকার। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৫৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জানুয়ারি মাসে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান হয়। প্রায় এক মাস টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে। কিন্তু জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে এসে ছন্দপতন ঘটে শেয়ারবাজারে। দেখা দেয় টানা দরপতন।

এরপর সাড়ে ৩ মাস কেটে গেলেও দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি শেয়ারবাজার। ফলে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শেয়ারবাজারের সমস্য সমাধানে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়। সরকারের উপরমহলের নির্দেশে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (বিএসইসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংক।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকের এক্সপোজার সংশোধনীর ইঙ্গিত দেয়া হয়। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) দেয়া হচ্ছে ৮৫৬ কোটি টাকার তহবিল। শেয়ারবাজার থেকে যাতে টাকা বের হয়ে না যায়, সে জন্য বন্ধ করা হয়েছে প্লেসমেন্ট। নতুন করে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

শেয়ারবাজারে গতি ফেরাতে এমন নানামুখী উদ্যোগ নেয়ার পরও দরপতন অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২১৭ পয়েন্টে নেমে গেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৩ পয়েন্টে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮২৫ পয়েন্টে নেমে গেছে।

মূল্যসূচকে এই পতনের দিনে ডিএসইতে যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে প্রায় তার তিনগুণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৭৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২১৯টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৫২টির।

বাজারটিতে টাকার পরিমাণে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ফরচুন সুজের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৫ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকার লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে যমুনা ব্যাংক এবং ৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা লেনদেনে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ব্র্যাক ব্যাংক।

এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, মুন্নু সিরামিক, পাওয়ার গ্রীড, গ্রামীণফোন, লিগাসি ফুটওয়্যার, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল এবং এস্কয়ার নিট কম্পোজিট। ডিএসইতে এদিন টপটেন গেইনার বা দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল আইসিবি এএমসিএল সোনালি ব্যাংক লিমিটেড ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। গেইনারের তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে- লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, বঙ্গজ, রয়েছে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, রহিম টেক্সটাইল, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, জেনেক্স ইনফোসিস ও এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১। ডিএসইতে মঙ্গলবার টপটেন লুজার বা দরপতনের তালিকায় শীর্ষে স্থানে রয়েছে আরএন স্পিনিং মিলস। কোম্পানির শেয়ার দর আগের দিনের চেয়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বা ৪০ পয়সা কমেছে। তালিকায় উঠে আসা অন্যান্য কোম্পানি হচ্ছে- আরামিট সিমেন্ট, ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড, ফ্যামিলিটেক্স, এনএলআই ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, নাভানা সিএনজি, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, জিল বাংলা ও অ্যাপোলো ইস্পাত। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএসইএক্স ৫৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬৬৫ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকার। লেনদেনে অংশ নেয়া ২২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৫২টির, কমেছে ১৪২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×