এসডিজি বাস্তবায়নে রোডম্যাপ তৈরির নির্দেশ
jugantor
এসডিজি বাস্তবায়নে রোডম্যাপ তৈরির নির্দেশ

  মিজান চৌধুরী  

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য) বাস্তবায়নে ১৭টির পরিবর্তে ৩৪টি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে বাংলাদেশকে। জাতিসংঘ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশকে এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য ১৭টি লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু সরকার মনে করছে, এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে ৩৪টি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি সংক্রান্ত এক বৈঠকে নেয়া হয় এই সিদ্ধান্ত। বৈঠকে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ৪৩টি মন্ত্রণালয়কে চার দফা নির্দেশ দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি বলেন, আগামী জুন-জুলাইয়ে এসডিজি বিষয়ক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে খুব শিগগিরই পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়।

জানা গেছে, ২০৩০ সালে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বিশ্বগড়ে তুলতে জাতিসংঘ ২৭টি লক্ষ্য অর্জন নিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) ঘোষণা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশকে তা অর্জনে লক্ষ্য পূরণ করতে হবে।

সূত্র মতে, বৈঠকে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বলা হয় এসডিজির মূল্য প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘কাউকে বাদ দিয়ে নয় নীতি’। এই প্রতিপাদ্য অনুসরণ করতে গেলে ৩৪টি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। ওই বৈঠকে পরবর্তীতে ৩৪টি লক্ষ্য চূড়ান্ত করা হয় বাংলাদেশের জন্য।

বৈঠকে এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ ও অর্জনের সূচক পর্যালোচনার নির্দেশ দেয়া হয় ওয়ার্কিং কমিটিকে। এ ছাড়া আসন্ন বাজেটে অনুন্নয়ন খাতে এসডিজি ব্যয় নির্ধারণের নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি আগামী এক বছরের এসডিজির বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রণয়ন করে মুখ্য সমন্বয়ক বরাবর দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসডিজি বাস্তবায়নে এনজিও, সিএসও, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি খাত থেকে তাদের কর্ম-পরিকল্পনা সংগ্রহের কথা বলা হয়।

জানা গেছে, এসডিজি বাস্তবায়নের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ২০ শতাংশ উন্নতি করার লক্ষ্য স্থির করা হয়। ওই বৈঠকে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে লক্ষ্য সংশোধন করে ১০ শতাংশ করার সুপারিশ করেন বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

বৈঠকে উপস্থিতি অর্থনীতিবিদ ও পল্লি কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের মধ্যে মেয়েদের ক্ষমতায়নের কোনো লক্ষ্য নেই। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া দরকার। পাশাপাশি উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ ৫০ শতাংশ উন্নীত করে মেয়েদের ক্ষমতায়ন লক্ষ্যমাত্রা পরিমাপকল্পে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সবার জন্য পূর্ণাঙ্গ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপি’র বার্ষিক প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রার অগ্রাধিকার তালিকায় শতভাগ পাকা সড়ক নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে গ্রামীণ সড়ক শতভাগ করা যেতে পারে।

জানা গেছে, এসডিজি বাস্তবায়নে আর্থিক রূপরেখা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ প্রণয়ন করেছে সরকার। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বাড়তি প্রয়োজন হবে ৯২ হাজার ৮৪৮ কোটি ডলার। দেশীয় মুদ্রা ৭৪ লাখ ২৭ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। মোট এই ব্যয়ের মধ্যে ৮৫ দশমিক ১১ ভাগ বা প্রায় ৬৩ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে হবে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। এই অর্থায়নের জন্য সরকারি খাতের চেয়ে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা বলা হয়। এ জন্য বছরে গড়ে প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বা এফডিআই আসতে হবে। যদিও দেশে বর্তমানে আসছে মাত্র গড়ে ২০০ কোটি ডলার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যে ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে সেটি অব্যাহত থাকলেও ৯২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বেশি ব্যয় করতে হবে ২০১৭ সাল থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।

এসডিজি বাস্তবায়নে রোডম্যাপ তৈরির নির্দেশ

 মিজান চৌধুরী 
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য) বাস্তবায়নে ১৭টির পরিবর্তে ৩৪টি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে বাংলাদেশকে। জাতিসংঘ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশকে এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য ১৭টি লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু সরকার মনে করছে, এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে ৩৪টি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি সংক্রান্ত এক বৈঠকে নেয়া হয় এই সিদ্ধান্ত। বৈঠকে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ৪৩টি মন্ত্রণালয়কে চার দফা নির্দেশ দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি বলেন, আগামী জুন-জুলাইয়ে এসডিজি বিষয়ক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে খুব শিগগিরই পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়।

জানা গেছে, ২০৩০ সালে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বিশ্বগড়ে তুলতে জাতিসংঘ ২৭টি লক্ষ্য অর্জন নিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) ঘোষণা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশকে তা অর্জনে লক্ষ্য পূরণ করতে হবে।

সূত্র মতে, বৈঠকে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বলা হয় এসডিজির মূল্য প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘কাউকে বাদ দিয়ে নয় নীতি’। এই প্রতিপাদ্য অনুসরণ করতে গেলে ৩৪টি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। ওই বৈঠকে পরবর্তীতে ৩৪টি লক্ষ্য চূড়ান্ত করা হয় বাংলাদেশের জন্য।

বৈঠকে এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ ও অর্জনের সূচক পর্যালোচনার নির্দেশ দেয়া হয় ওয়ার্কিং কমিটিকে। এ ছাড়া আসন্ন বাজেটে অনুন্নয়ন খাতে এসডিজি ব্যয় নির্ধারণের নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি আগামী এক বছরের এসডিজির বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রণয়ন করে মুখ্য সমন্বয়ক বরাবর দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসডিজি বাস্তবায়নে এনজিও, সিএসও, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি খাত থেকে তাদের কর্ম-পরিকল্পনা সংগ্রহের কথা বলা হয়।

জানা গেছে, এসডিজি বাস্তবায়নের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ২০ শতাংশ উন্নতি করার লক্ষ্য স্থির করা হয়। ওই বৈঠকে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে লক্ষ্য সংশোধন করে ১০ শতাংশ করার সুপারিশ করেন বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

বৈঠকে উপস্থিতি অর্থনীতিবিদ ও পল্লি কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের মধ্যে মেয়েদের ক্ষমতায়নের কোনো লক্ষ্য নেই। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া দরকার। পাশাপাশি উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ ৫০ শতাংশ উন্নীত করে মেয়েদের ক্ষমতায়ন লক্ষ্যমাত্রা পরিমাপকল্পে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সবার জন্য পূর্ণাঙ্গ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপি’র বার্ষিক প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রার অগ্রাধিকার তালিকায় শতভাগ পাকা সড়ক নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে গ্রামীণ সড়ক শতভাগ করা যেতে পারে।

জানা গেছে, এসডিজি বাস্তবায়নে আর্থিক রূপরেখা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ প্রণয়ন করেছে সরকার। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বাড়তি প্রয়োজন হবে ৯২ হাজার ৮৪৮ কোটি ডলার। দেশীয় মুদ্রা ৭৪ লাখ ২৭ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। মোট এই ব্যয়ের মধ্যে ৮৫ দশমিক ১১ ভাগ বা প্রায় ৬৩ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে হবে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। এই অর্থায়নের জন্য সরকারি খাতের চেয়ে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা বলা হয়। এ জন্য বছরে গড়ে প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বা এফডিআই আসতে হবে। যদিও দেশে বর্তমানে আসছে মাত্র গড়ে ২০০ কোটি ডলার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যে ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে সেটি অব্যাহত থাকলেও ৯২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বেশি ব্যয় করতে হবে ২০১৭ সাল থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।