ঈদের আগে আজ শেষ ব্যাংকিং লেনদেন

ব্যাংকের শাখা খোলা জানেন না গ্রাহক

নেই ভিড়, লেনদেন কম * এটিএম বুথে নগদ টাকার সংকট গ্রাহকদের ভোগান্তি

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদ উপলক্ষে গ্রাহকদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কিছু শাখা ছুটির দিনেও খোলা রাখা হয়েছে। কিন্তু কোন ব্যাংকের কোন কোন শাখা খোলা থাকবে সে তথ্য গ্রাহকদের জানানো হয়নি। ফলে গ্রাহকরা জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংকের সেবা নিতে পারেননি। শনি ও রোববার ব্যাংকগুলোর যেসব শাখা খোলা ছিল সেগুলোতে গ্রাহকদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যে কারণে লেনদেনও তেমন হয়নি।

এদিকে ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথগুলোতে নগদ টাকার প্রবাহ কম থাকায় গ্রাহকরা চাহিদা অনুযায়ী টাকা তুলতে পারেননি। ফলে ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তি বেড়েছে।

এদিকে আজ সোমবার ঈদের আগে শেষ ব্যাংকিং লেনদেন হবে। এদিন পূর্ণ দিবস ব্যাংক খোলা থাকবে। অর্থাৎ সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা। লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারিং হাউসও আজ খোলা থাকবে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শনি ও রোববার সরকারি ছুটির দিনে ব্যাংকগুলোর কিছু শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ২৬ মে দেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই নির্দেশে পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধ ও রফতানি বাণিজ্য সচল রাখার সুবিধার্থে ব্যাংকগুলোর কিছু শাখা খোলা রাখতে বলা হয়। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত ব্যাংকগুলোর শাখা খোলা রাখার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ব্যাংক প্রয়োজন মনে করলে অন্য যে কোনো শাখাও খোলা রাখতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই নির্দেশ অনুযায়ী শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ব্যাংকগুলোর বেশ কিছু শাখা খোলা ছিল। কিন্তু কোন ব্যাংকের কোন শাখা খোলা থাকবে সে তথ্য গ্রাহকদের জানানো হয়নি। ফলে গ্রাহকরাও সংশ্লিষ্ট শাখায় গিয়ে ব্যাংকিং সেবা নিতে পারেননি। রাজধানীর মিরপুর, শ্যামলী, কল্যাণপুর এলাকায় অনেক তৈরি পোশাক শিল্প থাকলেও ওই অঞ্চলে বেশির ভাগ ব্যাংকের শাখাই বন্ধ ছিল। আবার মতিঝিল ও এলিফেন্ট রোড বাণিজ্যিক এলাকা হলেও এখানকার অনেক শাখা খোলা ছিল।

এ বিষয়ে আল আরাফাহ ব্যাংকের একটি শাখার ব্যবস্থাপক বলেন, প্রধান কার্যালয় থেকে তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বিধায় তিনি শাখা খোলা রেখেছেন। ওই শাখায় গ্রাহকের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। লেনদেনও তেমন হয়নি। তিনি জানান, ব্যাংকগুলোর সব শাখাই এখন অনলাইনের আওতায় রয়েছে। ফলে যে কোনো শাখায় অ্যাকাউন্ট থাক না কেন ওই ব্যাংকের অন্য যে কোনো শাখায় গিয়ে জরুরি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, বেশ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংকের শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিলে ব্যাংকগুলো কোন কোন শাখা খোলা থাকবে তা গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বা বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকদের অবহিত করত। ইদানীং সেটা করা হচ্ছে না। বিষয়টি তিনি উচ্চ পর্যায়ের নজরে আনবেন বলে জানান।

এদিকে ব্যাংকের এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় গ্রাহকরা ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়ে টাকা তুলতে পারছেন না। ফলে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে।

গ্রাহকরা জানান, শুক্রবার ও শনিবার রাত ১২টার পর থেকে এলিফেন্ট রোড এলাকায় ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের কোনো বুথ খোলা ছিল না। এলিফেন্ট রোড ইস্টার্ন মল্লিকা মার্কেট, বাটা সিগন্যালের পাশে ও হাতিপুলের বাজারের কাছের ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের বুথ বন্ধ ছিল। বুথের পাশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুথে টাকা না থাকায় গ্রাহকরা হৈচৈ করেছে। এ কারণে টাকা না থাকলে বুথ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন মার্কেটগুলোর আশপাশের বুথগুলোতেও টাকার সংকট রয়েছে।

এ বিষয়ে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, বুথে টাকা না থাকলে বন্ধ রাখা হয়। কিছুক্ষণ হয়তো বন্ধ থাকে, ঘণ্টা খানেকের মধ্যে মেশিনে টাকা ঢুকিয়ে আবার খোলা হয়। টাকা সরবরাহের দায়িত্বে একটি কোম্পানি রয়েছে। তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার জন্য।

তিনি আরও জানান, শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে এটিএম বুথে জালিয়াতির ঘটনার কারণে বুথে নগদ টাকার লেনদেনে কিছুটা মন্থর গতিতে হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×