শিল্প ও শ্রম সম্পর্কিত ২৫ প্রতিষ্ঠান

টেকসই সংস্কার না হওয়ায় ফের বেহাল দশা

আইএমইডির প্রভাব মূল্যায়ন

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  হামিদ-উজ-জামান

শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন ও শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। প্রয়োজনের তুলনায় সংস্কার ও মেরামত খুবই কম করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে যেসব ভৌত অবকাঠামো সংস্কার করা হয়েছে তার অধিকাংশেরই অবস্থা ভালো নয়। কিছু কিছু ভবনের ছাদ, ওয়াল, কলাম ও বীমে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে যে কোনো সময় ভবন সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এ চিত্র। ‘৩টি শিল্প সম্পর্কিত শিক্ষায়তন এবং ২২টি শ্রমকল্যাণ কেন্দ্র সংস্কার ও আধুনিকায়ন’ শীর্ষক সমাপ্ত হওয়া প্রকল্পটির প্রভাব মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি। গত মে মাসে আইএমইডির নিয়োগ করা এম আর কন্সালট্যান্টস প্রকল্পটির সরেজমিন পরিদর্শন করে খসড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

আইএমইডির সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লা যুগান্তরকে বলেন, প্রতিবেদনটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। চলতি মাসের মধ্যেই চূড়ান্ত করা হবে। তারপর সুপারিশসহ প্রতিবেদনটি পাঠানো হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। এক্ষেত্রে যেসব মূল্যায়ন তুলে ধরা হবে, ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সেগুলো কাজে লাগালে ভালো ফল পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণায়লগুলো আশা করছি গুরুত্ব দিয়ে বিষয়গুলো দেখবে।

সূত্র জানায়, সরকার দেশের বিভিন্ন শ্রম নিবিড় এলাকায় ৩০টি শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করে। এগুলোতে শ্রম আইন, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও পুষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পাশাপাশি বিকালে খেলাধুলা, পত্রিকা ও বই পড়ারও সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আর্থিক সংকটে এসব শ্রমকল্যাণ কেন্দ্রের কাজ প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এদিকে আঠারো শতকের প্রথমদিকে শ্রম আইন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও স্টাফ ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে তিনটি শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়। পরবর্তীকালে এসব নীরব হয়ে পড়ে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে টর্নেডো ও বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে অফিস ও বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবনের বৈদ্যুতিক কাজ ও পানি ব্যবস্থাপনা নষ্ট হয়ে যায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ‘৩টি শিল্প সম্পর্কিত শিক্ষায়তন এবং ২২টি শ্রমকল্যাণ কেন্দ্র সংস্কার ও আধুনিকায়ন’ নামের প্রকল্পটি হাতে নেয় সরকার। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। মাঝপথে সংশোধন করে ব্যয় কমিয়ে ধরা হয় ১০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত ব্যয় হয় ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় শ্রম অধিদফতর। আইএমইডি’র খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় যেসব ভৌত অবকাঠামো সংস্কার করা হয়েছে তার বেশির ভাগেরই অবস্থা ভালো নয়। প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম মেরামত ও সংস্কার কাজ করা হয়েছে, যা টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কেন্দ্রের সিলিং, দেয়ালের প্লাস্টার ও রং, স্যানিটারি ফিটিংস, বৈদ্যুতিক ফিটিংস, জানালার গ্লাস, টয়লেটের টাইলস ও ফিটিংস, পানির লাইনের বেশির ভাগই সংস্কারের কিছুদিন পরই নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র ও শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তনগুলোতে প্রশিক্ষণ ভাতা খুবই কম ছিল। আপ্যায়নের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। প্রশিক্ষণ-পরবর্তী ফলাফলের ওপর ফিডব্যাক নেয়ার কোনো ব্যবস্থা বা রেকর্ড পরিলক্ষিত হয়নি। ওষুধ সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল। কেন্দ্রগুলোতে জরুরি প্রয়োজনেও রোগী ভর্তির ব্যবস্থা নেই। বাচ্চাদের চিকিৎসারও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। এছাড়া কেন্দ্রগুলোতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে সার্বক্ষণিক কোনো ডাক্তারের ব্যবস্থা নেই। নেই নার্স, টেস্টের ব্যবস্থা ও বেডের ব্যবস্থাও। চাহিদা অনুযায়ী আধুনিকায়নের কাজ করা হয়নি। অধিকাংশ ট্রেনিং হল আধুনিকায়ন করা হয়নি। শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রগুলো অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী স্টেশনে অবস্থান না করায় কোয়ার্টারগুলো প্রায় সবই অব্যবহৃত পড়ে আছে। ফলে সেগুলো ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বেশির ভাগ শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের সীমানার ভেতর আগাছা জন্মেছে। অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করছে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের পর এর সুফল ধরে রাখতে কোনো ফলোআপ প্রোগ্রাম রাখা হয়নি। প্রতিবেদনে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে বিভিন্ন ইতিবাচক দিকও তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ভৌত অবকাঠামো সংস্কার করায় প্রায় জরাজীর্ণ ও প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী ভবনগুলো ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। এছাড়া আসবাবপত্র, চিত্তবিনোদন ও স্টেশনারি সামগ্রী সরবরাহ করায় প্রদত্ত প্রশিক্ষণ ও চিত্তবিনোদনমূলক সেবা আগের তুলনা বৃদ্ধি পেয়েছে।