বাড়ছে আকার, কমছে বাস্তবায়ন

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাস্তবায়ন

প্রতি বছরই বাজেটের আকার বাড়ছে, কিন্তু বাস্তবায়ন কমছে। সময়মতো প্রকল্প শুরু করতে না পারা, অর্থের জোগান নিশ্চিত না হওয়ার কারণেই এমনটি হচ্ছে।

বাজেটের বড় অংশই বাস্তবায়িত হচ্ছে শেষ মুহূর্তে। ফলে ব্যয়ের গুণগত মান ঠিক থাকছে না। এতে একদিকে অর্থের অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে প্রকল্পের গুণগত মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। তারা ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রথম বাজেট দিয়েছিল। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে ১০টি বাজেট দিয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তৃতীয় মেয়াদে আবার ক্ষমতায় আসার পর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি এবারই প্রথম বাজেট দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে নতুন বাজেটের সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদে তিনি বাজেট পেশ করবেন।

প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাজেট দেয়া হয়েছিল এক লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকার। ওই বছরে বাস্তবায়ন হয়েছিল এক লাখ এক হাজার ৬০৮ কোটি টাকার।

আওয়ামী লীগ সরকারই দেশে প্রথম লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছিল। এর আগে ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরেও তারা হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছিল। শুরুতে বাজেট ছিল শত কোটি টাকার। ২০০৯-১০ অর্থবছরের আগ পর্যন্ত বাজেট ছিল হাজার কোটি টাকার মধ্যে।

২০১০-১১ অর্থবছরের পর থেকেই বাজেট বাস্তবায়নের হার কমতে শুরু করেছে। এর আগে বাস্তবায়নের হার স্থিতিশীল ছিল। প্রতি বছরে বাস্তবায়নের হার কমায় অর্থবছর শেষে বাজেটের আকার কাটছাঁট করা হচ্ছে। এতে মূল বাজেট আর থাকছে না।

২০১০-১১ অর্থবছরে বাজেটের ৯৭.০৬ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছিল। গত অর্থবছরে বাস্তবায়নের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ। বাকি ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ কাটছাঁট করা হয়েছে। চলতি অর্থবছর এই হার ৭৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেননা বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে সরকারের অ্যাকাউন্টগুলোতে টাকা পড়ে আছে। কিন্তু খরচ করতে পারছে না। এমন কি সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সে অর্থও অ্যাকাউন্টে অলস ফেলে রাখছে। সেসব অর্থও খরচ করতে পারছে না। এতে ঋণের বিপরীতে সুদ দিতে হচ্ছে। সরকারি অর্থের অপচয় বেড়ে যাচ্ছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে এক লাখ ৩২ হাজার ২৭০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছিল এক লাখ ২৮ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার ছিল ৯৭ দশমিক ০৬ শতাংশ। এর পর থেকেই বাজেট বাস্তবায়নের হার কমতে থাকে। ২০১১-১২ অর্থবছরে এক লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকার বাজেট দেয়া হয়। বাস্তবায়ন করা হয় এক লাখ ৫২ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার ছিল ৯৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাজেট দেয়া হয় এক লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার। ব্যয় করা হয় এক লাখ ৭৪ হাজার ১৩ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার ছিল ৯০ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল দুই লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছিল এক লাখ ৮৮ হাজার ২২৩ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এটি ছিল নির্বাচনী বছরের বাজেট। যে কারণে বাস্তবায়নের হার কম ছিল। প্রতিটি নির্বাচনী বছরেই বাজেট বাস্তবায়ন কম হয়। কিন্তু নির্বাচনের পরের বছরের বাজেট বাস্তবায়ন বাড়ার কথা থাকলেও এখন আর বাড়ছে না।

২০১৪ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচনের পর ২০১৪-১৫ অর্থবছরেই ছিল নতুন সরকারের প্রথম বাজেট। এ বাজেটের আকার ছিল দুই লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার। এর মধ্যে ব্যয় হয় দুই লাখ চার হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার ছিল ৮১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আগের বছরের চেয়ে এ বছরে বাস্তবায়ন বেশি হওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়েনি।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন হয় না তার প্রধান কারণ হচ্ছে, বাস্তবায়নের কথা বিবেচনা করে বাজেট দেয়া হয় না। বাজেট দেয়া হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। ফলে মাঝ পথে অর্থের সংস্থান করা সম্ভব হয় না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সুশাসনের অভাব, বিদেশিদের সঙ্গে সমঝোতায় বিলম্ব এসব কারণে বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেট দেয়া হয় দুই লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার। ব্যয় করা হয় দুই লাখ ৩১ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট দেয়া হয়। ওই অর্থবছরে ব্যয় করা হয় দুই লাখ ৬৯ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে বাস্তবায়নের হার ছিল ৮০ শতাংশের নিচে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট দেয়া হয়। সংশোধিত বাজেটে এর আকার ধরা হয় তিন লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। এ হিসাবে বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে ৯৩ শতাংশ। চূড়ান্ত হিসাবে বাজেট বাস্তবায়নের হার আরও কমবে।

চলতি অর্থবছরে বাজেট ধরা হয় চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাজেটের আকার ১৯ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। হিসাব চূড়ান্ত করতে আরও ছয় মাস সময় লাগবে। এর মধ্যে এর আকার আরও কমবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×