মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখার নীতি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখার নীতি

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই করতে মূল্যস্ফীতির হার সহনীয় রাখার নীতিতে এগুচ্ছে সরকার। কেন না, এ হার বেশি মাত্রায় বাড়লে উন্নয়ন গ্রাস করে ফেলে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যায়। বেড়ে পণ্যমূল্য। জিডিপির হারও তখন দৃশ্যমান হয় না।

আর মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে সরকার এ নীতি গ্রহণ করেছে।

মূল্যস্ফীতির হার সহনীয় রেখে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেয়া হবে। উন্নত দেশগুলোতেও তাই হয়েছে। প্রবৃদ্ধির হার একটি পর্যায়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে মূল্যস্ফীতির হার কমিয়ে এনে উন্নয়নের সুফল মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অর্থের জোগান বাড়াতে বাজারে টাকার প্রবাহ আগামী অর্থবছরে আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি এর প্রভাবে যাতে মূল্যস্ফীতির হার না বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। যে কারণে অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ কমানো হবে। বাড়ানো হবে উৎপাদনশীল খাতে টাকার প্রবাহ।

আইএমএফের তথ্য মতে, উন্নত দেশগুলোতে বর্তমানে গড় মূল্যস্ফীতির হার ১ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২ দশমকি ৪ শতাংশ, ইউরো অঞ্চলে ১ দশমকি ৬ শতাংশ। চীনে ২ দশমকি ৬ শতাংশ, ভারতে ৫ শতাংশ। চীন ও ভারতে আগে মূল্যস্ফীতির হার বেশি ছিল। এখন কমে আসছে। ২০১৬ সালে চীনে এ হার ছিল ৬ দশমকি ৭ শতাংশ, ভারতে ৭ দশমকি ১ শতাংশ।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য কম হওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানির নামে এখন মূল্যস্ফীতি দেশে আসছে না। ফলে আন্তর্জাতিক কারণে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার প্রবণতা কমে গেছে। তবে এখনও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে মূল্যস্ফীতির হারের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় বাইরের দেশগুলোতে পণ্যমূল্য বেড়ে গেলে সেগুলোর সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও আমদানি হয়। যে কারণে এ হার বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, বাংলাদেশে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার ৭ দশমকি ৪ শতাংশে উঠেছিল। এরপর থেকে তা কমতে থাকে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা কমে ৬ দশমকি ৪ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা আরও কমে ৫ দশমকি ৯ শতাংশ হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা আরও কমে ৫ দশমকি ৪ শতাংশ হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে হয় ৫ দশমকি ৮ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ হার কমে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

আগামী অর্থবছরের জন্য মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ। জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে আগামী বাজেট সংসদে পাস হলে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। সেখানেও মূল্যস্ফীতির হার যাতে লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে থাকে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×