প্রণোদনা শেয়ারবাজারে সংকট তৈরি করবে

বাজেটে শেয়ার বাজারের জন্য চারটি প্রণোদনা দেয়া হয়েছে

  মনির হোসেন ২১ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সংকট

প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে শেয়ারবাজারে যেসব প্রণোদনা দেয়া হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে বাজারে সংকট তৈরি করবে।

এর ফলে নতুন কোম্পানির বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখা যাবে না। ফলে প্রস্তাবিত প্রণোদনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এদিকে বাজেট ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন চলছে।

জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে মোটা দাগে শেয়ারবাজারে চারটি প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের করমুক্ত লভ্যাংশসীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা লভ্যাংশ পেলে তার জন্য কোনো কর দিতে হবে না। দ্বিতীয়ত এবার বোনাস শেয়ার লভ্যাংশকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

এ ছাড়াও এখন থেকে কোনো কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের বোনাস শেয়ার দিলে, তার ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। কোনো কোম্পানির আর্থিক বছরে রিটেইনড আর্নিংস, রিজার্ভ ইত্যাদির সমষ্টি যদি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের যতটুকু বেশি হবে, তার ওপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এ ছাড়াও দ্বৈত কর কমানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চারটি সিদ্ধান্তের মধ্যে দুটিই শেয়ারবাজারের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করবে। যা হল বোনাস শেয়ার এবং রিজার্ভের ওপর কর আরোপ। এতে নতুন করে কোনো কোম্পানি বাজারে আসতে চাইবে না। এ ছাড়াও কোম্পানির সম্প্রসারণে বোনাস শেয়ার অন্যতম একটি পদক্ষেপ। কোনো কোম্পানি তার আয়ের টাকা ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করে এর পরিবর্তে বিনিয়োগকারীদের বোনাস দেয়।

আর নতুন করে কর আরোপ করায় বোনাস বন্ধ হলে কোম্পানির বিনিয়োগ বাড়বে না। দীর্ঘমেয়াদে যা শিল্পায়নকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তবে বোনাস শেয়ার কিছু কোম্পানি অনৈতিক কাজ করছে, এটি স্বীকার করছেন। অন্যদিকে বাজারে সবচেয়ে বেশি রিজার্ভ রয়েছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর। আর এগুলোতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার খুব কম। বেশিরভাগই বিদেশিদের। এ কারণে রিজার্ভের ওপর আরোপ করায় কোম্পানিগুলো রিজার্ভ ভেঙে লভ্যাংশ দেবে। এতে টাকা দেশের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জ বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে এ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে কোনো স্টক এক্সচেঞ্জের বাজেট প্রস্তাবে এ ধরনের সুপারিশ ছিল না। ফলে বাজারের স্বার্থে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ চেয়েছেন দুই স্টক এক্সচেঞ্জের নেতারা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) পৃথকভাবে এ দাবি করে।

এ ছাড়াও তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর্পোরেট কর আরও ১০ শতাংশ কমানোর দাবি করেছে তারা।

ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, বাজেটে অপদর্শিত আয় নির্দিষ্ট কর প্রদান সাপেক্ষে ফ্ল্যাট, জমি কেনা এবং ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতে অর্থ পাচার রোধ হবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বন্ডেও অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া উচিত। এতে পুঁজিবাজার উপকৃত হবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে। তবে বোনাস শেয়ার নিয়ে ডিএসইর দুই পরিচালক দু’রকম বক্তব্য দেন। এ ব্যাপারে রকিবুর রহমান বলেন, বোনাসের ওপর করের সিদ্ধান্তে বাজার ইতিবাচক হবে। তবে এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেন আরেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী প্রণোদনা এবং শেয়ারবাজারকে শক্তিশালী করার জন্য ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের জন্য পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ আয়ের করমুক্ত সীমা ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে। বছরের তারল্য সরবরাহ বাড়বে। একই সঙ্গে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে। এ ছাড়াও ব্যাংক, শেয়ারবাজার, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক খাতের সংস্কার ও উন্নয়নে সরকার নানামুখী কার্যক্রম নেয়া ও বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের মূলধনের পরিমাণ বাড়ানো, ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংস্কার, প্রয়োজন বোধে ব্যাংক একীভূতকরণ, খেলাপি ঋণ গৃহীতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, সুদের হার এক অঙ্কে (সিঙ্গেল ডিজিট) নামিয়ে আনা এবং হোল্ডিং কোম্পানি ও সাবসিডিয়ারি কোম্পানির কার্যক্রম যুগোপযোগী করতে ব্যাংক কোম্পানি আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার কথা বলা হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে শেয়ারবাজারের আরও উন্নতি হবে।

সিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গোলাম ফারুক বলেন, এবার নির্দিষ্ট হারে কর দিলে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু যেসব খাতে তা দেয়া হয়েছে, তাতে শেয়ারবাজারকে রাখা হয়নি। দেশের পুঁজিবাজার বিকাশের স্বার্থে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া উচিত। তিনি বলেন, বাজেটের জন্য সিএসই যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছিল, তার মধ্যে কোনোটিই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। এগুলো বিবেচনা করা উচিত। এর মধ্যে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা উচিত।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×