বাজারে বাজেটের প্রভাব

চিনি, ভোজ্যতেল গুঁড়ো দুধ, ওষুধ মোবাইল ফোন ও সিগারেটের দাম বেড়েছে

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাটের আওতা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারে।

বিশেষ করে যেসব পণ্য ও সেবায় ভ্যাট বাড়ানো ও আরোপের ঘোষণা দেয়া হয়েছে সেগুলোর দামও বাড়তে শুরু করেছে। যদিও ভ্যাটের বড় অংশই কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পরদিন থেকেই বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

ইতিমধ্যে বাজেটের প্রভাবে বেড়েছে চিনি, ভোজ্যতেল, গুঁড়ো দুধ, ওষুধ, মোবাইল ফোন ও সব ধরনের সিগারেটের দাম। এ ছাড়াও পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর ফলে অনেক পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেননা স্থানীয় সব পাইকারি পর্যায়ের লেনদেনে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে আমদানিতে শুল্ক না বাড়লেও বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ, রসুন ও চীনা আদার দাম বেড়েছে। শনিবার রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে বর্তমানে বাজারে যে চিনি ও ভোজ্যতেল রয়েছে তা চলমান অর্থবছরের নির্ধারিত কর বা শুল্কে আমদানি করা। এখন যা আমদানি করা হচ্ছে তা বাজারে আসতে অন্তত এক মাস, ক্ষেত্রবিশেষে তার চেয়ে বেশি সময় লাগবে। অথচ এরই মধ্যে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮২ টাকা। যা বাজেট প্রস্তাবের আগে বিক্রি হয়েছে ৭৮-৮০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৫ টাকা। যা দাম বাড়ার আগে বিক্রি হয়েছে ৫০-৫২ টাকা কেজি। তাছাড়া বাজেট ঘোষণার আগে থেকেই বাজারে প্যাকেটজাত গুঁড়ো দুধ কেজিতে ৫-১০ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সম্প্রতি এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, বাজেটে শুল্ক আরোপের কারণে চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম লিটার বা কেজিতে সর্বোচ্চ ৫ টাকা বাড়তে পারে।

অন্যদিকে আমদানি করা পেঁয়াজ, রসুন ও আদা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০-৩৫ টাকা। যা গত দুই সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ২৫-৩০ টাকা কেজি। চীনা আদা মানভেদে বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৪৫ টাকা কেজি। দুই সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ১৩৫-১৪০ টাকা। আর ঈদের আগে বিক্রি হয়েছে ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে। দেশি আদা মানভেদে বিক্রি হয়েছে ১৯০-২১০ টাকা। গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ১৭৫-১৮০ টাকা। রসুন বিক্রি হয়েছে ১০০-১১০ টাকা কেজি। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৮০-৯০ টাকা।

এদিকে প্রস্তাবিত বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে অপরিশোধিত চিনির ওপর প্রতি টনে স্পেসিফিক ডিউটি (নির্ধারিত কর) ছিল ২ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে তা ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। প্রতি টনে কর বেড়েছে ১ হাজার টাকা। পরিশোধিত চিনিতে স্পেসিফিক ডিউটি ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ কর বেড়েছে দেড় হাজার টাকা। এ ছাড়া ভোজ্যতেল আমদানিতে বর্তমানে ভ্যাট রয়েছে ১৫ শতাংশ। বাজেট প্রস্তাবে সেটি বহাল আছে। তবে এর সঙ্গে ৫ শতাংশ অগ্রিম কর আরোপ করা হয়েছে। বর্তমানে ট্যারিফ মূল্য ৪ হাজার ১১০ টাকা। এর ওপর কর দিতে হতো। প্রস্তাবিত বাজেটে ট্যারিফ মূল্য বাতিল করা হয়েছে। ফলে বাজারদরের ওপর ভ্যাট দিতে হবে। ভোজ্যতেলের প্রতি টনের মূল্য ট্যারিফ মূল্যের চেয়ে বেশি। এতে ভোজ্যতেল আমদানির খরচ বাড়বে। ভোজ্যতেল উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী পর্যায়ে আগে ভ্যাট অব্যাহতি ছিল। প্রস্তাবিত বাজেটে উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ আগাম কর এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। রাজধানীর নয়াবাজারের মুদি বিক্রেতা মো. নাজমুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বাজেট ঘোষণার আগেই গুঁড়ো দুধের দাম বেড়েছে। তবে বাজেটের পর বেড়েছে চিনি ও সয়াবিন তেলের দাম। এ ছাড়া মসলাজাতীয় পণ্যের দামও বাড়ছে। কোনো কারণ ছাড়াই আমদানি করা পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বাড়িয়েছে পাইকারি বিক্রেতারা। এদিকে বাজেট কার্যকর হওয়ার আগেই সব ধরনের সিগারেট বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মাওলা যুগান্তরকে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে চিনি ও ভোজ্যতেলের ওপর ভ্যাট আরোপ করায় ইতিমধ্যে চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। এতে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, বাজেটসহ যে কোনো অজুহাতে বাজার অস্থিতিশীল করা যাবে না। কারণ বাজেট মাত্র পেশ করা হয়েছে। এই বাজেট চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো ধরনের পণ্যের দাম বাড়ানোর কথা নয়। আর অহেতুক যদি দাম বাড়ে, তাহলে যারা বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে আছে তাদের দেখভাল করতে হবে। প্রয়োজনে অসাধুদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। গুঁড়ো দুধে শুল্ক আরোপের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের গুঁড়ো দুধে শুল্ক আরোপ করার কথা আরেকবার ভাবা উচিত। কারণ এটা শিশুখাদ্য। তাই এর দাম যাতে না বাড়ে সেদিকে সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×