সক্ষমতার অভাবে কমেছে বরাদ্দ

প্রস্তাবিত বাজেটে ১৬ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কমল ৫২৭১ কোটি টাকা

  হামিদ বিশ্বাস ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট

সক্ষমতার অভাবে প্রস্তাবিত বাজেটে ৯টি মন্ত্রণালয় ও ৭টি বিভাগে বরাদ্দ কমেছে পাঁচ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দ রয়েছে ৪৬ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা।

আর আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৪১ হাজার ৬০১ কোটি টাকা। ফলে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দের চেয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেটে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নামে বরাদ্দ কমেছে সাড়ে ১১ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বরাদ্দ কমা মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, বস্ত্র ও পাট, প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শিল্প, যুব ও ক্রীড়া, ধর্ম, সংস্কৃতি, নৌ পরিবহন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক। আর বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে সুরক্ষা সেবা বিভাগ, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে সংশোধিত বাজেটে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ বেড়েছে। আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের আলোকে। যে কারণে সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় আগামী অর্থবছরের মূল বরাদ্দ কম হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এদের বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হলে এসব খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বাড়ানো সুযোগ রয়েছে প্রচলিত নিয়মে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কোনো দুর্ঘটনা এসব বিশেষ কারণে বরাদ্দ বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু আগামী এক বছরে মন্ত্রণালয়গুলোর কি ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে, এর বিপরীতে কি পরিমাণে অর্থ খরচ করতে হবে সেসব হিসেব থাকলে বরাদ্দের ক্ষেত্রে এত হেরফের হতো না। তারা চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে অবহিত থাকে না বলেই এমনটি হয়। এতে বাজেট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বাধাগ্রস্ত হয়।

আগামী অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি কমেছে নির্বাচন কমিশনে। এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণে চলতি অর্থবছরের বাজেটে তাদের অনুকূলে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হয়েছে। আগামী বছরে জাতীয় কোনো নির্বাচন নেই। এ কারণে এদের বরাদ্দ কমানো হয়েছে।

দেশের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের পাটকলগুলোতে ভর্তুকি দেয়ার কারণে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু চলতি অর্থবছরের বাজেটের মূল বরাদ্দের তুলনায় আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই এমন কারণে বরাদ্দ কমানো হয়েছে।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৮০০ কোটি টাকা। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেটে তাদের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ৭৩৮ কোটি টাকা। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে তাদের বরাদ্দ বাড়িয়ে এক হাজার ৬১৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ ও পাটকলগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়াতে হয়েছে। যে কারণে মূল বাজেটের তুলনায় সংশোধিত বাজেটে তাদের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৭৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে তাদের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫০৯ কোটি টাকা। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬২৫ কোটি টাকা করা হয়। দেশে-বিদেশে সংস্কৃতিবিষয়ক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর কারণে সংশাধিত বাজেটে বরাদ্দ বেড়েছে। বাড়তি অর্থে বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল বিদেশ সফর করেছে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জন্য তাদের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল এক হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তাদের বরাদ্দ বাড়িয়ে এক হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে এক হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে এক হাজার ৫১৯ কোটি টাকা করা হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে এক হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে এক হাজার ৫৭২ কোটি টাকা করা হয়।

প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে ৫৯১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বরাদ্দ করা হয় ৫৯৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫৯৬ কোটি টাকা করা হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে দুই হাজার ২৯০ কোটি টাকা করা হয়। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে তিন হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে চার হাজার ২১৪ কোটি টাকা করা হয়। চলতি অর্থবছরে বিদেশ থেকে জাহাজ কেনা ও নৌপথ সংস্কারের ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করায় তাদের বাড়তি অর্থ খরচ হয়েছে। যে কারণে সংশোধিত বাজেটে অর্থ বরাদ্দ বাড়াতে হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে এক হাজার ১৯৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে তাদের নামে বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে এক হাজার ৩৬০ কোটি টাকা করা হয়।

সুরক্ষা সেবা বিভাগের অনুকূলে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তিন হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে মূল বরাদ্দ ছিল তিন হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে চার হাজার ২৫ কোটি করা হয়। এর আওতায় সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্যদের সহায়তা দেয়া, বিশেষ প্রয়োজনে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৯৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বরাদ্দ ছিল ১৮০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ বরাদ্দ বাড়িয়ে ২১৩ টাকা করা হয়।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক হাজার ৯২১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছিল এক হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে চার হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা করা হয়। সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১০২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৭৭ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১২৮ কোটি টাকা করা হয়।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩৭৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে মূল বরাদ্দ ছিল ৫৯৯ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৭৪১ কোটি টাকা করা হয়।

জননিরাপত্তা বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে ২১ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বরাদ্দ ছিল ২১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ২২ হাজার ৯৯ কোটি করা হয়।

লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটেও বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৩৫ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩৮ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×