অনলাইন বেচাকেনায় বাড়তি খরচ

ডিজিটাল সেবায় কর ও ভ্যাট আরোপ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৮ জুন ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল সেবার ওপর কর ও ভ্যাটের হার বাড়ানো হয়েছে। কিছু খাতে এবার নতুন করে কর ও ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।

এর ফলে এসব খাতে সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে খরচের পরিমাণ বেড়ে যাবে। এ খাতের উদ্যোক্তারা মনে করেন, সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করছে। সে ক্ষেত্রে এবারের বাজেটে এসব সেবায় কর ও ভ্যাটের হার বাড়ানোর কারণে সার্বিকভাবে এ খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে বাধাগ্রস্ত হবে তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিকাশ।

প্রস্তাবিত বাজেটে সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচালিত ব্যবসা ও ভার্চুয়াল বিজনেস (অনলাইনে বেচাকেনা), মোবাইল ফোনের সিম বা রিমের ওপর বাড়তি কর আরোপের ফলে এসব খাতের খরচের পরিমাণ বেড়ে যাবে।

উদ্যোক্তারা জানান, অনলাইন ব্যবসার বড় অংশই পরিচালিত হচ্ছে তরুণ উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে। তারা শোরুম নিতে পারছে না পুঁজির অভাবে। নিজেদের বাসা বা কোনো একটি ছোট অফিস নিয়ে অনলাইনে অর্ডার পেয়ে পণ্য ডেলিভারি দিচ্ছে। এভাবে অনেক ছোট উদ্যোক্তা শুরু করে এখন উপরে উঠে এসেছে। এবারের বাজেটে অনলাইনে বেচাকেনায় ভ্যাট আরোপ করায় এ খাতে খরচ বেড়ে যাবে।

আগে দেশীয় ছোট ছোট ব্র্যান্ডের পোশাক বা যে কোনো পোশাক অনলাইনে কিনতে কোনো ভ্যাট দিতে হতো না। এবার এ খাতে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। ফলে শোরুম থেকে কিনলে যেখানে কোনো ব্যাট দিতে হবে না, সেখানে অনলাইনে কিনলে ভ্যাট দিতে হবে সাড়ে ৭ শতাংশ। ফলে দোকানের চেয়ে অনলাইনে কেনাবেচায় খরচ বেশি হবে। এতে ক্রেতারা অনলাইনের পরিবর্তে নগদ আকারে কেনাবেচা করবেন। ফলে অনলাইন কেনাকাটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুধু পোশাকই নয়, প্রস্তাবিত বাজেটে অনলাইনে সব ধরনের পণ্য বেচাকেনায়ই ভ্যাট দিতে হবে সাড়ে ৭ শতাংশ হারে। এ ছাড়া গুগল, ফেসবুক বা টুইটারে বিজ্ঞাপন দিলে বা এর মাধ্যমে কোনো ব্যবসা পরিচালনা করলে ভ্যাট দিতে হবে। আগে এসব খাতে কোনো ভ্যাট ছিল না। ফলে এ খাতে খরচ বাড়বে।

বর্তমানে দেশের ই-কমার্স প্লাটফর্মে প্রথাগত পণ্য বিক্রি করা হয়, যেগুলো বিভিন্ন মার্কেটেও বিক্রি হয়। এ পণ্য মার্কেট থেকে কিনতে গ্রাহকদের ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। কিন্তু ই-কমার্স সাইট থেকে পণ্য কেনায় ভ্যাট অব্যাহতি থাকায় মার্কেটের দোকানপাট বা সুপার শপগুলো অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে। প্রতিযোগিতা সুষম করার যুক্তিতে এনবিআর ই-কমার্সকে ভ্যাটের আওতায় আনে। সব শ্রেণীর ব্যবসাকে সমান সুযোগ করে দিতে বাজেটে ভার্চুয়াল বিজনেসে ভ্যাট ৫ শতাংশ করা হয়। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে রাইড শেয়ারিং সেবা এখন বেশ জমে উঠেছে। এ সেবা নিতে এখন ভ্যাট দিতে হবে ৫ শতাংশ হারে। আগে এ খাতে কোনো ব্যাট ছিল না। ফলে এ খাতেও বাড়তি খরচ করতে হবে।

মোবাইল সিমের ওপর করহার ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আগে মোবাইলে কথা বলায় ১০০ টাকায় ২২ টাকা কর দিতে হতো, এখন দিতে হবে ২৭ টাকা। এর ফলে সব ধরনের মোবাইল সেবার খরচ বাড়বে। আগে ল্যাপটপ কিনলে আয়কর রেয়াত দেয়া হতো। এখন সেটি দেয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে অনেক নারী-পুরুষ ই-কমার্সের মাধ্যমে তাদের পণ্য বিক্রি করছেন। পাশাপাশি ঘরে বসেই অনেকে পণ্য পেয়ে যাচ্ছেন। ধীরে ধীরে দেশে একটা বড় মার্কেট গড়ে উঠছিল ই-কমার্সের। কিন্তু বাজেটে ভ্যাট আরোপ করায় এ খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এতে ডিজিটাল বাংলাদেশ বানানোর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, ই-কমার্সের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারে এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তারা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবে বলে জানিয়েছে।

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত