অর্থ সংকটে মূলধনের জোগান পেল না সরকারি ব্যাংক

৬ ব্যাংকের চাহিদা ২৪৭১১ কোটি বরাদ্দ ১৫শ’ কোটি ছাড় ১৫১ কোটি টাকা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি ব্যাংক

অর্থ সংকটের কারণে মূলধনের জোগান পেল না সরকারি খাতের ছয় ব্যাংক। সরকারি খাতের ছয়টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ২৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।

এর বিপরীতে সরকারের কাছে ব্যাংকগুলো চেয়েছে ২৪ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল দেড় হাজার কোটি টাকা।

গত ২৯ জুন ছাড় করা হয়েছে মাত্র ১৫১ কোটি ১২ লাখ টাকা। মোট চাহিদার মধ্যে ১ শতাংশেরও কম ছাড় করা হয়েছে। এর মধ্যে মূলধন ঘাটতিতে থাকা শুধু বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক পেয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। অন্য ৫ ব্যাংক কোনো অর্থ পায়নি। এর বাইরে বিশেষায়িত গ্রামীণ ব্যাংক পেয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি জোগান দেয়ার জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। ওই অর্থের মধ্যে দেড় হাজার কোটি টাকাই ২৯ জুনের মধ্যে ছাড় করার কথা। কিন্তু ওইদিন ছাড় করা হয়েছে মাত্র ১৫১ কোটি ১২ লাখ টাকা। বাকি ১ হাজার ৩৪৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ছাড় করা সম্ভব হয়নি।

এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় সরকারের রাজকোষে অর্থ সংকট চলছে। এ সংকটের কারণে সরকারের ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের পরিমাণও বেড়ে গেছে। ফলে মূলধন ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী জোগান দিতে পারেনি সরকার।

বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। রাজস্ব আয়ের প্রধান খাত এনবিআর থেকেও বড় অঙ্কের ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করছে। এসব কারণে সরকারি ব্যাংকগুলোতে মূলধনের জোগান দিতে দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেও দিতে পারেনি।

কেননা শেষ মুহূর্তে অর্থের সংস্থান হয়নি। আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে কমপক্ষে ১০ শতাংশ মূলধন রাখতে হয়। তবে এর পরিমাণ হবে কমপক্ষে ৪০০ কোটি টাকা। কোনো ব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে ওই হারে অর্থ রাখতে না পারলে মূলধন ঘাটতি হিসেবে ধরা হয়। যে পরিমাণ অর্থ ঘাটতি থাকবে সেটিই তাদের মূলধন ঘাটতি। ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণ খেলাপি হলেই ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বেড়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি খাতের ছয়টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের।

এর পরিমাণ ৮ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। সরকারের নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কৃষিঋণের বিপরীতে মওকুফ করা সুদ ও মূল ঋণের সব অর্থ এখনও ফেরত পায়নি ব্যাংক। এ ছাড়া বেড়ে গেছে খেলাপি ঋণ। এসব কারণে মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

এর বিপরীতে ব্যাংকটি সরকারের কাছে চেয়েছে ৭ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। সরকার দিয়েছে মাত্র ১৫০ কোটি টাকা। গ্রামীণ ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো হচ্ছে। এ কারণে এদেরকে সরকারি অংশের মূলধন বাবদ ১ কোটি ১২ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×