সংস্কার হচ্ছে জরাজীর্ণ ২৬৭ ডাকঘর

আগারগাঁওয়ে নতুন জিপিও ভবন হওয়ায় পুরাতটির স্থানে সবুজ পার্ক তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ৯ * অর্থবছরের প্রথম একনেকে ৭ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

  যুগান্তর রিপোর্ট ১০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডাকঘর

দেশের ২৬৭টি জরাজীর্ণ ডাকঘর সংস্কার হচ্ছে। এ জন্য হাতে নেয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অধীনন্থ জরাজীর্ণ ডাকঘরগুলোর সংস্কার পুনর্বাসন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২২৫ কোটি টাকা।

চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক মঙ্গলবার এটিসহ ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৭ হাজার ৭৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৬ হাজার ৪১৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১ হাজার ১৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৮৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। এ সময় পরিকল্পনা সচিব নুরুল আমিন, শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এবং আইএমইডি সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, একনেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুশাসন দিয়ে বলেছেন, ডাক বিভাগকে আধুনিক হতে হবে। এখন যেহেতু চিঠি যায় না, সেহেতু তাদের নিজস্ব চিন্তা দিয়ে ডিজিটাল ডাকঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বহুমুখী এবং বিকল্প কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে- যাতে তারা নিজেরাই আয় করতে পারে। তা না হলে ডাক বিভাগ আগামীতে আর টিকে থাকতে পারবে না। সারা জীবন তাদের এভাবে চালানো যাবে না। সেই সঙ্গে আগারগাঁওয়ে নতুন জিপিও ভবন নির্মাণ হওয়ায় পুরাতন জিপিও’র স্থানটিতে সবুজ পার্ক তৈরির নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেছেন, সেখানে যেন মানুষ অবসরে ঘুরতে যেতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে সড়ক-মহাসড়কগুলো প্রশস্ত এবং পুরুত্ব বেশি করার অনুশাসন দিয়েছেন। এছাড়া ধীরগতির যান চলাচলের জন্য সব মহাসড়কের পাশে আলাদা লেন করতে বলেছেন। মহাসড়কে বাস-বে তৈরির পাশাপাশি সেখানে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যাতে দোকান বা টয়লেট বানাতে পারেন সেজন্য স্থান নির্ধারণ করতে বলেছেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা জায়গা দেব, কিন্তু দোকান তুলে দেব না। ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যবসা করতে পারবেন যে কেউ। তাছাড়া সড়কের যে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও সৃজনশীলতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুধু দালান দেখি, কিন্তু গবেষণা তো দেখি না। তাই বিল্ডিংয়ের পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। তাছাড়া এখন থেকে যেসব জেলায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হবে তার আশপাশের যত সরকারি কলেজ থাকবে সবগুলো ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিতুমীর কলেজের মাঠটিকে মাঠ হিসেবেই রাখতে হবে। সেখানে যাতে কোনো অবকাঠামো তৈরি না হয়। পরিকল্পনা কমিশন জানায়, ‘বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অধীনন্থ জরাজীর্ণ ডাকঘরগুলোর সংস্কার পুনর্বাসন প্রকল্পটি চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ডাক অধিদফতর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের শহরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছে।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ ডাকঘর অতি পুরাতন এবং জরাজীর্ণ হওয়ায় দাফতরিক কাজসহ ডাক সেবা দেয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। প্রকল্পটির আওতায় বাংলাদেশ ডাক অধিদফতর দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ১০৪টি জরাজীর্ণ ডাকঘর সংস্কার পুনর্নির্মাণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- বগুড়া-নাটোর জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৭০৭ কোটি টাকা। ঢাকা-উথুলি-পাটুরিয়া জাতীয় মহাসড়ক আমিনবাজার থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকা ডেডিকেটেড লেনসহ সার্ভিস লেন ও বাস-বে নির্মাণ, ব্যয় ৬৯৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×