আইএমইডির প্রতিবেদন

সমন্বয়ের অভাবে শেষ হচ্ছে না বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রকল্প

ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির আশঙ্কা

  হামিদ-উজ-জামান ১৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকল্প

শুধু সমন্বয়ের অভাবই প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পে। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার স্থাপন।

দেশের অন্য অঞ্চলের জনগণ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প থেকে সুবিধা পেলেও বঞ্চিত হবেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষ। কেননা প্রকল্পটি ব্যয় ও মেয়াদ বাড়তে হবে।

বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) খসড়া নিবিড় পরিবীক্ষণে উঠে এসেছে এ চিত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালক পদে ঘন ঘন পরিবর্তন আসেনি। যথাসময়ে অর্থছাড়ও হচ্ছে। এমনকি প্রয়োজনীয় জনবলও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু শুধু উপকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবে নির্মিতব্য গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ অবমোচনে যথাসময়ে প্রকল্প গ্রহণ করতে পারছে না বিতরণ সংস্থাগুলো।

এ কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে টাওয়ার স্থাপন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি)। গত জুনে প্রকল্পটির নিবিড় পরিবীক্ষণ করে সংস্থাটি।

প্রকল্পের দুর্বল দিকগুলো তুলে ধরতে গিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকেন্দ্রগুলোর স্থান নির্ধারণে সমন্বয় না থাকায় নির্মীয়মান গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ অবমোচনের জন্য বিতরণকারী সংস্থাগুলো যথাসময়ে প্রকল্প নিতে পারেনি। বিতরণকারী সংস্থার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আরও সুবিধাজনক জায়গায় গ্রিড উপকেন্দ্রগুলো স্থাপন করা যেত।

এছাড়া টাওয়ার স্থাপনের জন্য ব্যক্তিমালিকাধীন জমির ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না থাকাও প্রকল্পের অন্যতম দুর্বল দিক। ফলে বর্তমানে টাওয়ার নির্মাণ ও লাইনের কাজ শেষ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা দুর্বলতাও।

এ কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে টাওয়ার স্থাপন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, টাওয়ার স্থাপনের জায়গা ও লাইনরুট নির্ধারণে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং নৌবাহিনীর সঙ্গে আরও আগে আলোচনা করা হলে সৃষ্ট জটিলতা ও সময় ব্যয় হতো না। আইএমইডির সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজুল্লাহ বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ন্যাশনাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্টে প্রকল্পের প্রতিবেদনটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। আমরা কাজ করছি।

যেসব ত্রুটি রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে সুপারিশ দিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেব। এমনকি এ পরিপ্রেক্ষিতে তারা কি ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সেগুলোও জানতে চাওয়া হবে।

প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গড়ে শতকরা ৭৫ দশমিক ৬৮ ভাগ ভৌত অগ্রগতি হয়েছে। প্যাকেজ ৩, ৪, ৮ ও ৯-এর কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় ডিসেম্বরের মধ্যে বারোইয়ার হাট, রামগঞ্জ, ভালুকা, মহাস্থানগড়, বগুড়া, বরিশাল (উত্তর), জলঢাকা ও সৈয়দপুর উপকেন্দ্রের আওতাধীন এলাকার জনগণ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

তবে প্যাকেজ ২ ও ৬-এর নির্মাণ কাজ বেশ পিছিয়ে থাকায় শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের অবমুক্তি এখন বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনগণ এ প্রকল্পের সুবিধা পুরোপুরি পাবেন না।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

শিকলবাহায় নির্মিত ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ অবমুক্ত, রামপুরা ও শিকলবাহার মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ১৩২/৩৩ কেভি সাবস্টেশনের মাধ্যমে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটানোর জন্য ‘ন্যাশনাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।

সরকারের নিজস্ব তহবিল, পিজিসিবি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে মোট ২ হাজার ৪২৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি একনেকে অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৩ সালের জানুয়ারি হতে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত ছিল।

পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো ছাড়াই ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাকেজ-১ এর অধীনে শিকলবাহা ২৩০/১৩২ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ প্রায় শতভাগ শেষ হয়েছে। এ উপকেন্দ্রের মাধ্যমে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অবমুক্ত করে দোহাজারী, জুরদা, মদুনাঘাট সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যোগ করা হয়েছে।

প্যাকেজ-২ ও প্যাকেজ-৬ এর নির্মাণ কাজ পিছিয়ে থাকায় রামপুর ও আগ্রাবাদ উপকেন্দ্র যথাসময়ে পরিপূর্ণভাবে চালু করা সম্ভব হবে না। ফলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সঞ্চালন নিশ্চিত পিছিয়ে যাবে। প্যাকেজ-৬ বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত দূর করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়া প্রয়োজন। তা না হলে ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×