পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া নদীবন্দর আধুনিকায়ন: প্রশ্নের মুখে ১৩৭২ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

পিইসি সভা ১৯ আগস্ট * পরামর্শক ব্যয় ৩০ কোটি টাকা

  হামিদ-উজ-জামান ০৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নদীবন্দর

দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এজন্য ১ হাজার ৩৭২ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

কিন্তু বন্দর আধুনিকায়নে এত টাকা বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রশ্নের মুখে পড়তে যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যয় প্রস্তাব অতিরিক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে পরামর্শক খাতে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৩০ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশন থেকে বলা হচ্ছে, এই দুটি ঘাটে ভবিষ্যতে সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই ওই স্থানে এত বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন। প্রস্তাবিত ‘পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া বা গোয়ালন্দে আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দর আধুনিকায়ন’ প্রকল্পটি নিয়ে আগামী ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় কমিশনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান (পরিকল্পনা) রফিক আহম্মদ সিদ্দিক সোমবার যুগান্তরকে বলেন, একটি সেতু করেই বর্তমান চাহিদা মেটানো যাবে না। নৌপথ হচ্ছে ব্যয় সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। এতদিন এই নদীপথকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। তাই এখন অভ্যন্তরীণ নৌপথ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

সেক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর সেতু হলেও নদীবন্দর দুটির ব্যবহার বন্ধ হবে না। তিনি জানান, বিশ্বের মোট ব্যবসা-বাণিজ্যের চার ভাগের তিন ভাগই হচ্ছে নদীপথে। সেখানে আমরা কেন আমাদের নদীপথকে পিছিয়ে রাখব। পরিকল্পনা কমিশন প্রশ্ন ওঠাতেই পারে। কিন্তু আমরা মনে করি নৌপথকে পেছনে ফেলে রাখা ঠিক হবে না।

সূত্র জানায়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি তহবিলের অর্থে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগের জন্য মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এক সময় দেশের উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উৎপন্ন পণ্য ও যাত্রীদের ঢাকা যাতায়াতের জন্য ১৯৪০-১৯৪৫ সালের দিকে আরিচায় ফেরিঘাট প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটিই ছিল ঢাকার সঙ্গে দেশের একটি বড় অংশের পরিবহনের প্রধান পথ।

কিন্তু ২০০১-০২ সালে এ ঘাটতি পাটুরিয়াতে স্থানান্তরিত হয়। এর প্রধান কারণ ছিল আরিচা এলাকায় নদীতে প্রচুর বালু পড়ায় পানির গভীরতা কমে গিয়েছিল। এখন পাটুরিয়াতে চারটি ফেরিঘাট, একটি লঞ্চঘাট, তিনটি টার্মিনাল, ১৯টি ফেরি, ৬০-৯০টি রঞ্চ রয়েছে। নদীর পাশে দৌলতদিয়া ঘাটেও তাই। পদ্মা নদী দিয়ে এখন পর্যন্ত সড়কপথের যোগাযোগ ফেরির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ফেরি সার্ভিস পরিবহনের সক্ষমতা এখনও সীমিত। এমনকি বাস ও হালকা যানবাহনের জন্য ফেরিঘাটে অপেক্ষার সময় হল এক ঘণ্টা এবং ট্রাকের জন্য দুই ঘণ্টা। এ প্রকল্পটির মাধ্যমে নদীবন্দরে আধুনিক অবকাঠামো ও উন্নত বন্দর সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। ফলে যাত্রীরা উন্নত সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ৬৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ, বহুতল টার্মিনাল বিল্ডিং ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ, ৪৫ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং, ফেরিঘাট নির্মাণ, ১ লাখ ৫৯ হাজার ১১০ বর্গমিটার পার্কিং ইয়ার্ড তৈরি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, স্টিল জেটি নির্মাণ, পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়ায় ৮ হাজার মিটার নদীশাসন কাজ, দুই ঘাটে ২২টি পন্টুন স্থাপন এবং ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫০ বর্গমিটার আরসিসি রোড নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম করা হবে।

পিইসি সভার কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ড্রেজিং ব্যয় বাবদ প্রতি ঘনমিটার ২২০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি অনুমোদিত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই এবং পুনর্ভবা নদীর নাব্য উন্নয়ন পুনরুদ্ধার প্রকল্পে সরকারি ড্রেজারের জন্য প্রতি ঘনমিটার ১২০ টাকা এবং বেসরকারি ড্রেজারে প্রতি ঘনমিটার ড্রেজিংয়ের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮০ টাকা।

এই আলোকে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ড্রেজিং খরচের হার নির্ধারণ করা যেতে পারে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। এছাড়া যেহেতু সরকারি ড্রেজারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে সেহেতু মোট ড্রেজিংয়ের অর্ধেক সরকারি ড্রেজার দিয়ে এবং বাকি অর্ধেক বেসরকারি ড্রেজার দিয়ে খনন করার সুপারিশ করবে কমিশন। আরও বলা হয়েছে, ২২টি পন্টুন নির্মাণের জন্য ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা হারে ৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কিন্তু সম্প্রতি অনুমোদিত আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ বিশেষ ধরনের পন্টুন নির্মাণ ও স্থাপন প্রকল্পের আওতায় ৫০টি পন্টুন নির্মাণের জন্য ২ কোটি ২ লাখ টাকা হারে মোট ১১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাই প্রস্তাবিত প্রকল্পে ব্যয় নির্ধারণের ভিত্তি ও পন্টুন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×