১৯ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস: নির্মাণের দুই বছরেই বেহাল দশা

আইএমইডির প্রতিবেদন : নির্মাণ ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবসহ নানা কারণে ভবনগুলোর অবস্থা নাজুক * প্রকল্পে ব্যয় হয়েছিল ১৩১ কোটি টাকা

  হামিদ-উজ-জামান ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বেহাল

নির্মাণের দুই বছরের মাথায় জরাজীর্ণ রূপ ধারণ করেছে তিন তলা ভবনটি। ২০১৭ সালে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে, সিলিং থেকে খসে পড়ছে প্লাস্টার।

স্যাঁতসেঁতে হয়ে দেয়ালের রং নষ্ট হয়ে গেছে, ভেঙে গেছে ভবনের অনেকগুলো দরজা। দরজা ভেঙে যাওয়ায় ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে ভবনের বাথরুম। এ চিত্র ১৯টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত পাবনার পাসপোর্ট অফিসের। ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে নির্মাণ করা ১৯টি পাসপোর্ট অফিসের অধিকাংশতেই রয়েছে এ ধরনের নানা সমস্যা।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) উদ্যোগে প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা প্রতিবেদনটি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে আইএমইডি।

নির্মাণে ত্রুটি, গণপূর্ত অধিদফতরের তালিকাভুক্ত না হওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণে বরাদ্দ ও জনবল না থাকায় ভবনগুলোর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ করতে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত।

সূত্র জানায়, বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে ১০৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় হয় ১৩১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আড়াই বছর বাড়তি সময় লাগার পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যয় বাড়ে ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা মূল বরাদ্দের প্রায় সাড়ে ২৬ শতাংশ বেশি। প্রকল্পের আওতায় পাবনা, ফেনী, চাঁদপুর, টাঙ্গাইল, বগুড়া, পটুয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, কক্সবাজার ও রাঙ্গামাটি জেলায় চারতলা ভিত্তির ওপর তিন তলা ভবন, চট্টগ্রামে ছয়তলা ভিতের ওপর চারতলা ভবন এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও উত্তরায় ১০ তলা ভিত্তির ওপর ৬ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভৌত কাজ, পণ্য ও সেবার ক্রয়ে বিদ্যমান আইনের পরিপালন, পাসপোর্ট সুবিধার মান, প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা, দুর্বলতা, সুযোগ এবং ঝুঁকি পর্যালোচনা করে প্রকল্পের প্রভাব টেকসই করার লক্ষ্যে সুপারিশমালা প্রণয়ন করতে সমীক্ষাটি পরিচালনা করে আইএমইডি। এ সমীক্ষায় বেশ কিছু ভবনে বাহ্যিক ত্রুটি, ব্যবহারজনিত কারণে কিছু ভবনে অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন, স্যাঁতসেঁতে বিবর্ণ দেয়াল, প্লাস্টার খসে পড়া দেয়াল ও সিলিং দেখা গেছে।

প্রকল্পের অধিকাংশ ভবনে অগ্নিনির্বাপণী যন্ত্রগুলো মেয়াদউত্তীর্ণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাও কার্যকর নয় বলে জানিয়েছে আইএমইডি। ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় বৃদ্ধি, নতুন রেট সিডিউল, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী পাসপোর্ট অফিস ছয়তলায় উন্নীত করা ও প্রকল্পের বেশির ভাগ জমি নিচু হওয়ায় ভূমি উন্নয়নে বাড়তি ব্যয়, সীমানা প্রাচীরের কাঠামো পরিবর্তন, কুষ্টিয়া, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জের সম্মুখ রাস্তা নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সংযোগের খরচ ও স্টাফদের বেতন বৃদ্ধির কারণে দুই দফায় প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এছাড়া ঠিকাদারদের কাজে বিলম্ব, বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মৌলভীবাজারে ঠিকাদারের অপারগতা এবং টাঙ্গাইল, চাঁদপুর ও ফেনীতে বরাদ্দ পাওয়া জমি বুঝে পেতে বিলম্বেও কারণে বাস্তবায়নে বাড়তি সময় লেগেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তা ছাড়া রাঙ্গামাটিতে সিডিউল জমা না পড়ায় পঞ্চমবারের মতো দরপত্র আহ্বান করা, পাবনায় প্রকল্পের জমিতে পুকুরের গভীরতা সম্পর্কে তথ্য না থাকার কারণেও বাড়তি সময় লেগেছে।

আইএমইডি সূত্র আরও জানায়, কাজ শেষ হওয়ার পর গণপূর্ত অধিদফতরের তালিকাভুক্ত না হওয়ায় ভবনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কাজে বিলম্ব হচ্ছে। সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না পাসপোর্ট। কাজে গতি আনতে ১৯ অফিস ভবন নির্মাণ করা হলেও প্রত্যাশিত সময়ে পাসপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে না বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×