বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও কমার শঙ্কা

অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে সরকারের ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণ

বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে ঠেকেছে। অথচ কয়েক বছর আগেও এই হার ২০-২২ শতাংশের ওপর ছিল। বর্তমানে নগদ টাকার চরম সংকটে আছে বেশির ভাগ বেসরকারি ব্যাংক।

চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রথম ১৮ দিনে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। ব্যাংক থেকে সরকারি ঋণের এ ঊর্ধ্বগতি বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধিকে আরও সঙ্কুচিত করার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সরকারের রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্য তা অর্জন করতে হবে। তা না হলে খরচ কমাতে হবে। দুইয়ের কোথাও ব্যত্যয় ঘটলে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়া বেড়ে যাবে। আর ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বাড়লে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরের (২০১৮-১৯) শেষ দিন অর্থাৎ ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রথম মাস জুলাই অর্থাৎ ১৮ জুলাই পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকায়।

সে হিসাবে মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়েছে ১৪ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান-পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ অব্যাহত থাকলে অবশ্যই বেসরকারি খাতে প্রভাব পড়বে। এর ফলে সুদের হার আরও বাড়বে।

পুরো বিষয়টি উল্টোদিকে যাচ্ছে, কারণ একদিকে সরকার বলেছে সুদের হার কমাতে, অন্যদিকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে সংকট আরও প্রকট করছে। মূলত বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার এসব ঋণ নিচ্ছে। অথচ সরকার ঘাটতি পূরণে রাজস্ব আদায়ে যেভাবে জোর দেয়া দরকার সেভাবে দিচ্ছে না।

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ছাড়াও তফসিলি ব্যাংক থেকে বেড়ে চলেছে সরকারি ঋণ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তফসিলি ব্যাংক থেকে ৮০ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা সরকারি ঋণ থাকলেও ১৮ দিনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকায়। তাই তফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে সরকারি দেনা বেড়েছে ১২ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা।

বেসরকারি ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন-অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মাত্র ১৮ দিনে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ কিছুটা অস্বাভাবিক। এমন চিত্র আগে কখনও দেখা যায়নি। গত জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে। সরকার যে হারে ঋণ নিচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও কমবে।

নতুন মুদ্রানীতিতে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুন পর্যন্ত লক্ষ্য ছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের (জুলাই-জুন) পর্যন্ত সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। আর অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রক্ষেপণ ছিল সাড়ে ১৬ শতাংশ। কিন্তু গত জুন শেষে এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। এটি চলতি মুদ্রানীতির ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ কম। তবে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ১ শতাংশ।

সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বাড়তি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ চাপের মুখে পড়তে পারে বলে বিবৃতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)। সংগঠনটি সম্প্রতি চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, এবারের মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়িয়ে ধরেছে। এতে উৎপাদনশীল খাত, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×