বৈদেশিক লেনদেনের হিসাবে ঘাটতি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বৈদেশিক লেনদেন

বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছে বিদায়ী অর্থবছর (২০১৮-১৯)। ফলে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও ঘাটতি দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত অর্থবছরের শেষের দিকে আমদানিতে ধীরগতি ছিল, তবুও বাণিজ্য ঘাটতি। এর নেতিবাচক প্রভাবে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম হলেও তার আগের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ৬৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। লাগামহীন আমদানিতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি ১ হাজার ৮১৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারে উঠেছিল।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল ৯৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরে আমদানি খাতে ব্যয় বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তার আগের বছরের চেয়ে আমদানি বেড়েছিল ২৫ দশমিক ২৩ শতাংশ।

সার্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, পদ্মা সেতু, মেট্রো রেলসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পের সরঞ্জাম আমদানির কারণে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় বেড়েছিল। এছাড়া বন্যায় ফসলের ক্ষতির কারণে চাল আমদানি বেড়েছিল। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বেড়েছিল এ খাতের খরচ।

কিন্তু গত অর্থবছরে এসব খাতেই আমদানি ব্যয় কমেছে। আর সে কারণেই বাণিজ্য কমেছে বলে জানান তিনি। আমদানি কমায় বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যও কমেছে। ৫২৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ঘাটতি নিয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষ হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল প্রায় দ্বিগুণ ৯৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ২০১৬-১৭ বছরে ছিল ১৩৩ কোটি ১০ লাখ ডলার।

সাধারণভাবে কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝা যায় চলতি হিসাবের মাধ্যমে। আমদানি-রফতানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে ঋণ নিতে হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সামগ্রিক লেনদেনে শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই লেনদেনে ৮৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ঘাটতি ছিল।

বিদেশি বিনিয়োগ ও সহায়তা ছাড়ের পরিমাণ বাড়ায় গত অর্থবছরে সরকারের আর্থিক হিসাবে ৫৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল। আগের বছরে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল আরও বেশি; ৯০১ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের সবমিলিয়ে ৪৫০ কোটি ১০ লাখ ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) দেশে এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৩২৯ কোটি ডলার।

সে হিসাবে গত অর্থবছরে এফডিআই প্রবাহ বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশে নিট এফডিআই এসেছে ২৫৪ কোটি ডলার। আগের বছরে এসেছিল ২৭৭ কোটি ডলার। সে হিসাবে নিট এফডিআই বেড়েছে ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। দেশের বিভিন্ন খাতে মোট যে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আসে, তা থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মুনাফার অর্থ দেশে নিয়ে যাওয়ার পর যেটা অবশিষ্ট থাকে, সেটাকেই নিট এফডিআই বলা হয়ে থাকে।

তবে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরে এখানে ১৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের নিট এফডিআই এসেছে। আগের বছরে এসেছিল ৩৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বাবদ দেশে এসেছে ৫৯৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ২০১৭-১৮ বছরে ছিল ৫৯৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×