বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: পানি দূষণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমছে এক-তৃতীয়াংশ

লবণাক্ততায় বাংলাদেশের উপকূলে ৩ শতাংশ নবজাতকের মৃত্যু হচ্ছে * আর্সেনিকের দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ২ কোটি মানুষ

  শিল্প-বাণিজ্য ডেস্ক ২২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পানি দূষণ

বিশ্বব্যাপী পানির গুণগতমান এক অদৃশ্য সংকটের মুখোমুখি। বিশ্বব্যাংকের এক নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, পানির ভারি দূষণের কারণে অনেক দেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশ কম হচ্ছে। এ দূষণ মানুষ ও পরিবেশের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পানিতে আর্সেনিকের দূষণে বাংলাদেশের ২ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর লবণাক্ততায় উপকূলীয় অঞ্চলে ৩ শতাংশ নবজাতকের মৃত্যু হচ্ছে।

‘গুণমান অজানা : পানির অদৃশ্য সংকট’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত হয়। এতে দেখানো হয়েছে কিভাবে ব্যাকটেরিয়া, সুয়ারেজ, রাসায়নিক এবং প্লাস্টিকের সংমিশ্রণ পানি থেকে অক্সিজেন চুষে নিচ্ছে এবং তা মানুষ ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য বিষে পরিণত হচ্ছে।

প্রতিবেদন সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেন, পরিষ্কার পানি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। পানির গুণমানের অবনতি হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস, স্বাস্থ্যের অবনতি, খাদ্য উৎপাদন হ্রাস এবং বহু দেশে দারিদ্র্যকে বাড়িয়ে তুলছে।

তিনি বলেন, সরকারগুলোকে পানি দূষণ মোকাবেলায় সহায়তা করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে দেশগুলো ন্যায়সঙ্গত এবং পরিবেশগতভাবে টেকসই পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, তীব্র খরা, ঝড়ের তাণ্ডব এবং ক্রমবর্ধমান উত্তোলনের ফলে পানি এবং মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে কৃষির ফলন হ্রাস পেয়েছে। লবণাক্ততার কারণে বিশ্বে প্রতিদিন ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য নষ্ট হচ্ছে। যা বাংলাদেশের মতো একটি দেশের মানুষের এক বছরে গ্রহণ করা খাদ্যের সমান।

পানিতে লবণাক্ততা গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের ওপর মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলে। ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, লবণাক্ততার কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ৩ শতাংশ নবজাতকের মৃত্যু হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বরিশালের উপকূলীয় এলাকার ২০ শতাংশ মানুষ লবণাক্ত পানি পান করছেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পানিতে আর্সেনিক দূষণে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ দূষণে বাংলাদেশের ২ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ দূষণকে বিশ্বের মানুষের ওপর সবচেয়ে বড় বিষক্রিয়া বলে উল্লেখ করেছে। আর্সেনিকের দূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর কয়েক লাখ মানুষ ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিষ্কার পানির অভাব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে। এ সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে উন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশ। তাই পানি দূষণের বিপদগুলোর দিকে দ্রুততার সঙ্গে বৈশ্বিক, জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে যথাযথভাবে গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

পানির গুণগতমান দুর্বল হওয়াতে প্রধান অবদান রাখছে নাইট্রোজেন, যা কৃষিতে সার হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। এটি শেষ পর্যন্ত নদী, হ্রদ এবং মহাসাগরে প্রবেশ করে যেখানে নাইট্রেটে রূপান্তরিত হয়। শিশুরা প্রাথমিকভাবে নাইট্রেটে আক্রান্ত হলে তাদের বৃদ্ধি এবং মস্তিষ্কের বিকাশের ওপর প্রভাব ফেলে। প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্য ও উপার্জনের সম্ভাবনার ওপর প্রভাব পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষিতে যে সার প্রয়োগ করা হয় তাতে নাইট্রোজেন, ফরফরাস ও পটাশিয়াম এবং এগুলোর অনুপাত প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×