পিপিএসসির সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী: কালো তালিকাভুক্ত ঠিকাদারকে কাজ দেয়া যাবে না

সব সংস্থাকে তালিকা সরবরাহ করতে হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরিকল্পনামন্ত্রী

কালো তালিকাভুক্ত ঠিকাদাররা যাতে অন্য কোনো সংস্থার কাজ না পায় সে জন্য ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তিনি বলেন, ব্ল্যাক লিস্টেড কোন ঠিকাদারকে কাজ দেবেন না।

ঠিকাদাররা কোনো একটি সংস্থা থেকে ব্ল্যাক লিস্টেড হলে তাদের তালিকা সরকারের বিভিন্ন সংস্থা জানে না। তাই এদের তালিকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে সরবরাহ করতে হবে। এসব ঠিকাদারকে কাজে রাখার কোনো মানে হয় না। এ ক্ষেত্রে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) একটি বড় দায়িত্ব রয়েছে। এদের খুঁজে বের করতে হবে এবং দ্রুত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

পাবলিক-প্রাইভেট স্টেকহোল্ডার কমিটির (পিপিএসসি) ১৩তম সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এসব নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলকক্ষে এ সভার আয়োজন করে সিপিটিইউর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিআইজিডি।

পরিকল্পনামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে নাগরিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে এই পিপিএসসি গঠন করা হয়েছে। সভায় বক্তব্য রাখেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন, আইএমইডির সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজউল্লাহ, সিপিটিইউর মহাপরিচালক মো. আলী নূর এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা, ঢাকা ওয়াসা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, টিআইবি, বেসিসসহ বেসরকারি সংস্থার প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়নের মোট দুটি বাধা আছে- একটার নাম নাইবা বললাম, অন্যটি হচ্ছে ঠিকাদার। তারা কাজ নিয়ে বসে থাকে শুরু করে না। ঠিকাদাররা অহেতুক প্রকল্পের কালক্ষেপণ করেন। এটা উন্নয়নের খারাপ দিক। আমরা দেখছি কিছু কিছু সিমেন্ট কোম্পানি ঠিকাদারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। আমরাও ঠিকাদারদের প্রশিক্ষণ দিতে পারি। এসএসসি পাস অনেক ঠিকাদার আসছে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া সহজ হবে। এ দেশে অভিযোগের শেষ নেই। অনেক কর্মকর্তাও ইট-সিমেন্ট সমন্ধে কিছু বোঝেন না অথচ ঠিকাদারদের ধমক দিয়ে থাকেন ইট ভালো না সিমেন্ট ভালো না। এসব কিছু বন্ধ হওয়া দরকার। আমরা উভয়ের স্বার্থ দেখব। তিনি আরও বলেন, বড় প্রকল্প এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করব। এ দেশ এখন সিসিটিভি ক্যামেরার দেশ হয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয় সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবসা বাংলাদেশে বেশ ভালোই চলছে। তিনি বলেন, অডিট কাজে দক্ষতার অভাব রয়েছে। এখন বিশ্বব্যাপী অডিটের ধারণায় পরিবর্তন আসছে সেগুলো দেখতে হবে।

এমএ মান্নান বলেন, এবার প্রথম মাসেই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ভালো বাস্তবায়ন হয়েছে। আমরা পিডিদের (প্রকল্প পরিচালক) টাকা সরাসরি দিয়ে দিয়েছি। এবার শুরুতেই আমরা ছক্কা মেরেছি। প্রকল্প দু’বারের বেশি সংশোধন করা যাবে না। তিনবার সংশোধনের জন্য আনলে তা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হবে। আমি অনুমোদন দেব না। ডাইমেপ প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হবে জনগণকে সম্পৃক্ত করা। প্রকল্পের টাকা সঠিকভাবে ব্যয় করতে হবে। কোনো ভাবেই জনগণের টাকা অপচয় করা যাবে না।

মূল প্রবন্ধে বিআইজিডির সম্মানীয় ফেলো মির্জা হাসান জানান, প্রথম পর্যায়ে পাইলট আকারে নাগরিক অংশগ্রহণের বিষয়টি শুরু হলেও এখন ৪৮টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হবে। এখন পর্যন্ত ৩৪টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটির সমাধান করা সম্ভব হয়নি। বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও ওঠে এসেছে। এগুলো হচ্ছে- স্থানীয় পর্যায়ে পাবলিক-প্রাইভেট স্টেকহোল্ডার কমিটির সদস্যদের ভাষাগত সমস্যা, নারী অংশগ্রহণ কম, ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া, প্রণোদনার কোনো ব্যবস্থা না থাকা ইত্যাদি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×