দু’সপ্তাহের সফরে ঢাকায় আইএমএফ মিশন: আর্থিক খাতের দুর্বলতা চিহ্নিত করাই মূল লক্ষ্য

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আইএমএফ

দেশের আর্থিক খাতের কোথায় কী দুর্বলতা তা খুঁজে বের করতে পর্যবেক্ষণে নেমেছে বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ইতিমধ্যে সংস্থাটির ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেম স্ট্যাবিলিটি রিভিউ (এফএসএসআর) মিশন বাংলাদেশ ব্যাংকে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবে মিশনটি। এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করার কথা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, দেশের ব্যাংক খাতে যে অস্থিরতা তা পর্যবেক্ষণ করবে আইএমএফ। একই সঙ্গে তারা এ খাতের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের ব্যাপারে সুপারিশ করবে।

বিশেষ করে উচ্চ খেলাপি ঋণ, ঋণ অবলোপন, লোকসানি শাখা, একই ঋণ বারবার রিসিডিউল, খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা, সুদের হার নিয়ে টানাপড়েন, আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে বছরের পর বছর খেলাপিদের ঋণ ফেরত না দেয়া, ব্যাংক পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতাসহ ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন সমস্যা শনাক্ত করা হবে। সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে পরামর্শ দেবে আইএমএফ। তবে সংস্থাটির পরামর্শ আমলে নেয়া বা না নেয়ার পুরো এখতিয়ার বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের রয়েছে। তবে যেহেতু আইএমএফের ঋণের কিস্তি এখনও পরিশোধ করছে সে কারণে তাদের কিছু সুপারিশ মানার ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সূত্র জানায়, এর আগে ‘ব্যাসেল কোর প্রিন্সিপ্যালস ডিটেইলড অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট’-এর সুপারিশ বাস্তবায়ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে ৮টি বিষয়ে কী অগ্রগতি হয়েছে তা জানতে চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়েছে আগেই। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালক ও চেয়ারম্যানদের অপসারণের ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে দেয়ার সুপারিশ করেছে আইএমএফ। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বর্তমানে এ ক্ষমতা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের হাতে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালক ও চেয়ারম্যানদের অপসারণ করতে পারে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সংখ্যা কমানো এবং স্বাধীন পরিচালকের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটি ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম দূর করার জন্য একটি ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি কাউন্সিল’ গঠনেরও সুপারিশ করেছে।

সূত্র জানায়, আইএমএফের পক্ষ থেকে ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিদ্যমান কয়েকটি ধারার সংশোধন চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ৪৬ ধারা। এ ধারায় ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

আইএমএফ আরও জানতে চেয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্ডিন্যান্স ও ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধন অগ্রগতি। ব্যাংকের অডিট কমিটি ও রিস্ক কমিটিতে অধিক হারে স্বতন্ত্র বা স্বাধীন সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি। সরকারি পে-স্কেল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভিশন স্টাফদের সরিয়ে আনা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ম্যান্ডেটের সংশোধনী।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×