মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ সড়ক: ফের ব্যয় বাড়ছে ৪২ কোটি টাকা

দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব একনেকে উঠছে মঙ্গলবার

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  হামিদ-উজ-জামান

ফের ব্যয় বাড়ছে মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ১২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সেখান থেকে বাড়ি করা হয়েছিল ১৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা।

এখন আবারও ৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ১৮৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ ও সড়ক বাঁধে মাটির কাজ বৃদ্ধিসহ ৬টি কারণে ব্যয় বাড়ছে বলে দাবি করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। তবে শুধু ব্যয়ই নয়, এক বছর বাড়ছে মেয়াদও। ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হচ্ছে। ‘বড়তাকিয়া (আবুতোরাব) থেকে মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্পটি দ্বিতীয় সংশোধনীর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে এ সংশোধনী প্রস্তাব। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, ২১ আগস্ট একনেক বৈঠকের নোটিশ জারি করা হয়েছে। সেখানে ১১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত আছে। এর মধ্যে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের চতুর্থ নাম্বার প্রকল্প তালিকায় এ প্রকল্পটি রয়েছে। একনেকে উঠতে যাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে, বেনাপোল স্থলবন্দরে কার্গো ভেহিক্যাল টার্মিনাল নির্মাণ, চারটি জাতীয় মহাসড়কের পার্শ্বে পণ্যবাহী গাড়ি চালকদের জন্য পার্কিং সুবিধা সংবলিত বিশ্রামাগার নির্মাণ, খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খুলনা সড়কাংশ চার লেনে উন্নীতকরণ, উত্তরা এলাকায় পয়ঃশোধনাগার নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ, ইসিবি চত্বর হতে মিরপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন এবং কালশী মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ, সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, পুকুর পুনর্খনন ও ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচ ব্যবহার, মানিকগঞ্জে কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ এবং বেগম আমিনা মনসুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট স্থাপন প্রকল্প।

সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরাতন অ্যালাইনমেন্ট হতে শুরু হয়ে আবুতোরাব বাজার অতিক্রম করে মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে গিয়ে শেষ হয়েছে। দুই লেন বিশিষ্ট ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের সড়কটি দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এ সড়কটি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের আওতায় মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে উন্নত ও নিরাপদ যোগাযোগ স্থাপন করবে।

এছাড়া এ অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষি ও শিল্প পণ্য পরিবহনে সড়কটি ব্যবহৃত হবে, যা শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে। সেই সঙ্গে পর্যটন শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মূল প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন করে। পরবর্তীতে সম্প্রতি প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১৮৭ কোটি ২১ লাখ টাকা ধরে দ্বিতীয় সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয় পরিকল্পনা কমিশনে। ২৩ এপ্রিল পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের বার্ধিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১৮৩ কোটি ৮৯ টাকা।

প্রকল্প সংশোধনের কারণগুলো হচ্ছে, বিদ্যমান ২ লেন বিশিষ্ট সড়কটি ৪ লেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ ৭ দশমিক ৫৬ হেক্টর বৃদ্ধি পাওয়ায় এ খাতে অতিরিক্ত ২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সড়ক বাঁধে মাটির কাজের পরিমাণ ১ দশমিক ৪৫ লাখ ঘনমিটার বৃদ্ধি পওয়ায় এ খাতে অতিরিক্ত ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা বাড়ছে। আরসিসি কালভার্ট নির্মাণের পরিমাণ ১০ মিটার বৃদ্ধি পাওয়ায় এ খাতে অতিরিক্ত এক কোটি ৮২ লাখ টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রীন বেল্ট প্লানটেশন খাতে অতিরিক্ত ২৮ লাখ টাকা বেড়েছে। নতুন আইটেম হিসেবে আরসিসি রিটেইনিং ওয়ালের জন্য ১৩ কোটি ২ লাখ টাকা বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ায় ব্যয়ও বাড়ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রকল্প প্রস্তাবে।