সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ অবৈধ ব্যাংকিংয়ের বিরুদ্ধে

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে না

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অবৈধ ব্যাংকিং

দেশে বেআইনিভাবে অনেক সমবায় সমিতি ও কো-অপারেটিভ সোসাইটি ব্যাংক ব্যবসা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে টাকা জমা রেখে অনেকে প্রতারিত হচ্ছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে যাতে কোনো আমানতকারী টাকা জমা না রাখেন সে বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হবে, যারা বেআইনি ব্যাংক ব্যবসা করছে তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে, যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে নিবন্ধন নিয়ে বেআইনি ব্যাংক ব্যবসা করছে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের নামের শেষে বা শুরুতে কিংবা মাঝে ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করতে পারে না। কিন্তু অনেক কো-অপারেটিভ প্রতিষ্ঠান তাদের নামের শেষে ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করছে। ওই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংক ব্যবসা করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে লাইসেন্স নিতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক ব্যবসা করার কোনো সুযোগ নেই। সমবায় অধিদফতর থেকে নিবন্ধন নিয়ে শুধু সদস্যদের মধ্য থেকে আমানত সংগ্রহ ও তাদের ঋণ দেয়া যায়। এর বাইরে কিছু করা যায় না। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অভিযোগ রয়েছে সমবায় অধিদফতর থেকে নিবন্ধন নিয়ে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বেআইনিভাবে ব্যাংকিং ব্যবসা করছে। এর মধ্যে সম্প্রতি আজিজ কো-অপারেটিভ ব্যাংকটির মালিক পক্ষ আমানতকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ধরা পড়েছে। এ রকম আরও কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা জনগণের কাছ থেকে আমানত নিয়ে এখন তা ফেরত দিতে পারছে না।

সূত্র জানায়, বিশেষ করে কিছু সমবায় সমিতি ও কো-অপারেটিভ সোসাইটি নিজেদের নামের শেষে ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করে ব্যাংকিং ব্যবসা করছে। সমবায় অধিদফতরের কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতেও রয়েছে।

এদিকে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ও দমন কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে গঠিত কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের সভায়ও এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসানের সভাপতিত্বে ওই সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), পুলিশ, সিআইডি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সমবায় অধিদফতর, জীবন বীমা কর্পোরেশন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও বেসরকারি ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে বলা হয়, অনেক প্রতিষ্ঠানে কো-অপারেটিভ নামের সঙ্গে ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করে অবৈধভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থা নিতে গেলে দফায় দফায় রিটের মাধ্যমে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এখন পর্যন্ত যেসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সেগুলো রিটের কারণে থেমে আছে।

সূত্র জানায়, বেআইনি ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লি., আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটি বা আজিজ ব্যাংকের বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ইতিমধ্যে কিছু ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে, কিন্তু এর বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে রিট করে কার্যক্রম থামিয়ে রেখেছে। এছাড়াও মাল্টিপারপাস ক্রেডিট ব্যাংক নামেও ব্যাংক ব্যবসা পরিচালনা হচ্ছে। এগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, কোনো প্রতিষ্ঠানের নামের শেষে ব্যাংক শব্দটি থাকলে সেখানে মানুষ সঞ্চয় রাখতে উৎসাহিত হয়। তারা সরকারি সংস্থার লাইসেন্স প্রাপ্ত বলে প্রচার চালায়। কিন্তু একটি সময় মানুষের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যায়। প্রতারিত হয় সাধারণ আমানতকারীরা। এ কারণে প্রচলিত ব্যাংক ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, সমবায় সমিতি বা কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে সমবায় অধিদফতর। এদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সমবায় অধিদফতরের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। দুই পক্ষের বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে সমবায় অধিদফতর থেকে চিঠি দিয়ে সমবায় সমিতি বা কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলোকে তাদের নামের কোনো পর্যায়ে ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করে এখনও ব্যাংক শব্দটি ব্যবহার করছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×