প্লাস্টিক শিল্পনগরী: সাড়ে ৩ বছরে বাস্তব অগ্রগতি শূন্য

অতিরিক্ত সামঞ্জস্যহীন ব্যয় ধরে সংশোধনী প্রস্তাব * পরিকল্পনা কমিশনের ভেটো

  হামিদ-উজ-জামান ২৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্লাস্টিক শিল্পনগরী

পেরিয়ে গেছে ৩ বছর ৭ মাস। কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি শূন্য। এর বাইরে ভূমি অধিগ্রহণের অতিরিক্ত ও সামঞ্জস্যহীন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। বিসিক প্লাস্টিক শিল্পনগরী স্থাপন প্রকল্পে ঘটেছে এমন ঘটনা। ফলে এ প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি না থাকলে তা রুগ্ন প্রকল্পে পরিণত হয়, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।

এ অবস্থায় দ্রুত যথাযথভাবে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ ব্যয় নির্ধারণের নির্দেশনাও দিয়েছে সংস্থাটি। তবে এসব অভিযোগ মানতে নারাজ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে বাস্তব অগ্রগতি না হলেও প্রকল্পটির ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমের নানা জটিলতা কাটিয়ে এখন সমাধানের পথে আসতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। স্থানীয়দের আক্রমণের শিকার, এমনকি মামলার মধ্যেও পড়তে হয়েছে।

প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ২১ আগস্ট এ কার্যবিবরণী জারি করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. নিজাম উদ্দিন বুধবার যুগান্তরকে বলেন, পিডব্লিউডি প্রকল্প এলাকার ঘরবাড়ির জরিপ করেছে।

বন বিভাগ গাছপালার জরিপ করেছে। জেলা প্রশাসক জমির দামের মূল্যায়ন করেছে। এভাবে তিন সরকারি সংস্থার যৌথ মূল্যায়ন শেষে এখন ভূমি মন্ত্রণালয়ে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবটি রয়েছে। অনুমোদন পেলেই পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে ছাড়পত্র নিয়ে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করা হবে। এ অবস্থায় আসতে অফিসিয়াল অনেক কাজ করতে হয়েছে। স্থানীয়রা জমি দিতে চায়নি। পিডিকে মারধর পর্যন্ত করেছে। মামলা হয়েছে। পরে নানাভাবে তাদের বুঝিয়ে এখন শান্ত— করা হয়েছে।

অতিরিক্ত ব্যয় প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে মৌজা রেট অনুযায়ী ব্যয় প্রাক্কলন দেয়া হয়নি। আনুমানিক ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। তাই একটু বেশি দেয়া হয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। মৌজা রেট পাওয়া গেলে তখন প্রকৃত ব্যয় প্রাক্কলন করা সম্ভব হবে। সূত্র জানায়, পুরান ঢাকার অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা প্লাস্টিক শিল্প কারখানাগুলো একটি সুবিধাজনক ও পরিবেশবান্ধব স্থানে স্থানান্তরের জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। মুন্সীগঞ্জে ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৮-এর জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। এটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)। পরে ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পের অগ্রগতি না হওয়ায় ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে নতুন ভূমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী, ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধি, অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে পিডব্লিউডির রেট সিডিউল ২০১৮ অনুযায়ী ব্যয় প্রাক্কলন এবং কয়েকটি নতুন খাত অন্তর্ভুক্ত করায় প্রকল্পটির ব্যয় ৪৮২ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৬১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ধরে প্রথম সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এতে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে ৩৬৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এছাড়া প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ার প্রস্তাব করা হয়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত পিইসি সভার কার্যবিবরণী সূত্রে জানা গেছে, মূল প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় ৬৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা থেকে ৪২৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বৃদ্ধি করে ৪৯০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা অত্যধিক এবং সামঞ্জস্যহীন। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া প্রতি বর্গফুট প্লটের মূল্য ১ হাজার ২৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৫৫৬ টাকা হয়েছে।

প্লটের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে শিল্পোদ্যক্তারা এসব ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী হবেন কিনা সে বিষয়ে সভায় জানতে চাওয়া হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সভায় জানান, জেলা প্রশাসক আনুমানিকভাবে দাম প্রাক্কলন করায় ভূমির উচ্চমূল্য হয়েছে। এরপর সভায় উপস্থাপিত অনুমিত প্রাক্কলনটি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। সর্বশেষ মৌজা রেটের ভিত্তিতে যথাযথভাবে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ ব্যয় নির্ধারণসহ ভূমি অধিগ্রহণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সভায় নির্দেশনা দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×