শেয়ারবাজারে লাগামহীন দরপতন

পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ১৪১ পয়েন্ট * বৃহস্পতিবার সূচক ৪৪ পয়েন্ট ও লেনদেন কমেছে ৫৩ কোটি টাকা * বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা বাড়ছে

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দরপতন

লাগামহীন দরপতনে আবার ধুঁকছে শেয়ারবাজার। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বড় দরপতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

এর মাধ্যমে টানা দুই কার্যদিবস বড় দরপতন হল। আর চলতি সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই দরপতন হল। পাঁচ কার্যদিবসে সূচক কমেছে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ১৪১ পয়েন্ট।

টানা পতনে আবার ধুঁকছে শেয়ারবাজার। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত কম-বেশি ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচক। ওই সময়ে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছিল ১০৩ পয়েন্ট। ঈদের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই কমছে সূচক ও লেনদেন।

সূচক ও লেনদেনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৭৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৩৬টির। আর ৩৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল শেয়ারের দামের দিক থেকে শীর্ষে থাকা চার কোম্পানি। দামের দিক থেকে শীর্ষ চারটি কোম্পানিরই শেয়ারের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রেকিট বেনকিজারের ১৪০ টাকা ৬০ পয়সা, গ্ল্যাস্কোস্মিথক্লাইন’র ৭৬ টাকা ৩০ পয়সা, মেরিকোর ৩৯ টাকা ৫০ পয়সা এবং বার্জার পেইন্টের ৩ টাকা ৪০ পয়সা দাম বেড়েছে।

শীর্ষ চার কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার পরও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪৪ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাকি দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ ৯ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১৮৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর

ডিএসই-৩০ সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৮০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সবক’টি সূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪০২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৫৬ কোটি ৭১ লাখ টাকার। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৫৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

বাজারটিতে টাকার পরিমাণে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিলকো ফার্মাসিউটিক্যাল ১৩ কোটি ৩১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ১২ কোটি ৯৭ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে ওঠে এসেছে ন্যাশনাল পলিমার। এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, ওয়াটা কেমিক্যাল, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, ন্যাশনাল টিউবস, বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল, গ্রামীণফোন এবং ডরিন পাওয়ার।

অন্যদিকে, শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫৬৩ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৪২টির, কমেছে ১৭৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নানাবিধ কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা আছে। বড় বিনিয়োগকারীরা নিষ্ক্রিয়। বিদেশিরা শেয়ার কেনার তুলনায় বিক্রি করছেন বেশি। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অবশ্য সূচককে টেনে তুলতে নানা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে দামি ও বহুজাতিক শেয়ারগুলোর দর বাড়িয়ে সূচকের পতন ঠেকানোর চেষ্টা ছিল বেশি। একই সঙ্গে বড় ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে বলে শেয়ার বিক্রি কমানোর পুরনো চেষ্টা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনোটাই কাজ করেনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×