দুই মাসে ছয় দফা দাম বেড়েছে: সোনার অলংকার বিক্রিতে ভাটা

বেশিরভাগ দোকান ক্রেতাশূন্য

  ইকবাল হোসেন ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সোনার অলংকার

দেশে সোনার বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত দু’মাসে মূল্যবান ধাতুটির দাম ছয় দফা বেড়েছে। এ কারণে অলংকার ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জুয়েলার্স ব্যবসায়ীরা বলেছেন, গহনা বেচাকেনা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

গত ৪ জুলাই দেশের বাজারে ভালো মানের সোনার দাম ছিল প্রতি ভরি ৫২ হাজার ১৯৬ টাকা। আর ২৭ আগস্ট তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮ হাজার ২৮ টাকা। অর্থাৎ দু’মাসের ব্যবধানে ভরিতে দাম বেড়েছে ৫ হাজার ৮৩২ টাকা। কম সময়ের ব্যবধানে অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় আতঙ্কিত ক্রেতারা।

একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ সোনার অলংকার ক্রয় করছেন না। শনিবার দুপুরে দেশে সোনার অলংকারের বড় বাজার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ দোকানই ক্রেতাশূন্য। বিক্রয়কর্মীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন।

সেখানে কথা হয় লাবণ্য জুয়েলার্সের ম্যানেজার আনিসুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, সকাল থেকে কোনো ক্রেতা নেই। ঈদের পর থেকে প্রায় প্রতিদিন একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতে সোনার দাম বাড়ছে। দাম নিয়ে ক্রেতারা আতঙ্কিত। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ সোনা ক্রয় করছেন না। যারা ক্রয় করছেন তারাও পরিকল্পনায় কাটছাঁট করছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেচাকেনা প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে।

ঝলক জুয়েলার্সের বিক্রয়কর্মী মিনহাজ বলেন, সোনার দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বেচাকেনা কমে গেছে। অনেকে দোকানে এসে দাম জিজ্ঞেস করে ফিরে যাচ্ছেন। জুয়েলার্স ব্যবসায়ীরা বলেছেন, সাধারণত কোরবানির ঈদের পর বিয়ে বেশি হয়। এ সময় সোনার অলংকারের ক্রয়াদেশ বাড়ে। তবে গত দু’মাসে সোনার দামে অস্থিরতা থাকায় অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ক্রয়াদেশ দিচ্ছেন না। যার ফলে বেচাকেনা কমে গেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। বায়তুল মোকাররম মার্কেটে কথা হয় ক্রেতা সাবরিনা সুলতানার সঙ্গে। তিনি বলেন, ছোট ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে সোনার অলংকার কিনতে এসেছি। পরিকল্পনা ছিল ১০ ভরি কেনার। কিন্তু দাম অনেক বেশি। তাই সাত ভরি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়ছে তাই আমাদেরও দাম বাড়াতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বছরের শুরু থেকে পর্যায়ক্রমে আউন্সপ্রতি দাম বেড়েছে আড়াইশ’ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় একুশ হাজার টাকা। ভরিপ্রতি বেড়েছে আট হাজার টাকা। কিন্তু আমরা একবারে না বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে বাড়াচ্ছি।

তিনি জানান, দেশে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সোনা আমদানি শুরু হয়নি। ব্যাগেজ রুলসের আওতায় বিদেশ থেকে আসা সোনা ও স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটের মাধ্যমে সোনার চাহিদা পূরণ হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের দর অনুসরণ করে দীর্ঘদিন সোনার দাম নির্ধারণ করছে বাজুস। অবশ্য সরাসরি আমদানি হলে সোনার ভরি বর্তমান দরের চেয়ে কয়েক হাজার টাকা কম হতো।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে সোনার দাম ২০১২ সালের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। সে বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ভালো মানের সোনার ভরি ৬০ হাজার ৬৫২ টাকা হয়েছিল। যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দর। ১৯৭০ সালে সোনার ভরি ছিল মাত্র ১৫৪ টাকা। ১৯৮০ সালে তা ৩ হাজার ৭৫০ টাকা হয়। ১৯৯০ সালে দাম দাঁড়ায় সাড়ে ৬ হাজার টাকা। ২০০০ সালের দিকে দাম ছিল ৬ হাজার ৯০৬ টাকা। ২০১০ সালে ৪২ হাজার ১৬৫ টাকায় ঠেকে মূল্যবান ধাতুটির দাম।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার হিড়িক, ডলারের দাম পড়ে যাওয়া, বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ ক্ষেত্র মনে করে সোনা কিনছেন। এতে চাহিদায় বাড়তি চাপ পড়ায় ধাতুটির দামও বাড়ছে। ব্ল–মবার্গের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে (স্পট মার্কেট) ২০১৩ সালের এপ্রিলে সোনার দাম আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৩৪ ডলার ৩১ সেন্টে উঠেছিল। ২০১৪ সালে সর্বোচ্চ দাম ছিল আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৩৭১ ডলার, ২০১৫ সালে ১ হাজার ২৯৪ ডলার, ২০১৬ সালে ১ হাজার ৩৮৯ ডলার, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৩৩৩ ডলার এবং ২০১৮ সালে ছিল ১ হাজার ৩৫৫ ডলার। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার প্রতি আউন্স ২২ ক্যারট সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৫৩৮ ডলার। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাণিজ্যযুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৬০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×