প্লাস্টিক খাতে সম্ভাবনা

পাঁচ বছরে রফতানি আয় ৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার

  ইয়াসিন রহমান ও বাহাউদ্দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসবাবপত্র থেকে শুরু করে অটোমোবাইল, খেলনা কিংবা ওষুধ শিল্পে বাড়ছে প্লাস্টিকের ব্যবহার। তাই প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নিত্যনতুন প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা। আর তা পূরণে ছোট পরিসরে হলেও এগিয়ে চলছে দেশের প্লাস্টিক খাত। যেখানে ছোট, বড় ও মাঝারি মিলিয়ে ৫ হাজার কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার আয় হয় এ খাত থেকে। আর বিগত পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০১২-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত মোট রফতানি আয় হয়েছে ৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিকাশমান শিল্পখাত প্লাস্টিক। প্রযুক্তি ও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেশ পরিবর্তন ঘটেছে দেশের প্লাস্টিক পণ্যে। ফলে অ্যালুমিনিয়াম, সিরামিক পণ্যকে পেছনে ফেলে এসব পণ্য খুব সহজেই দেশি ও বিদেশি ক্রেতাদের মন জয় করে নিচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে প্লাস্টিক খাত থেকে রফতানি আয় ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার টার্গেট নেয়া হয়েছে। এজন্য সরকার ২০১৮ সালের মধ্যে প্লাস্টিক শিল্পনগরী প্রকল্পের কাজ শেষ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এছাড়া জাতীয় শিল্পনীতি ২০১৬-তে সরকার প্লাস্টিক শিল্পকে অগ্রাধিকার খাতের শীর্ষে রেখেছে। সরকার উদীয়মান শিল্প খাত হিসেবে পরিবেশবান্ধব সবুজ প্লাস্টিক শিল্পখাত বিকাশে বদ্ধপরিকর। তাই প্লাস্টিক শিল্পের বিকাশে ইতিমধ্যে মুন্সীগঞ্জে ৫০ একর জমির ওপর প্লাস্টিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এতে ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে ৩৬০টি প্লাস্টিক শিল্প ইউনিট স্থাপন করা হবে। যেখানে প্রায় ১৮ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে প্লাস্টিক ও প্লাস্টিক পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করে ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে রফতানি আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে রফতানি আয় আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার। এরপর ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে রফতানি আয় কমে যায়। সে সময় আয় হয় ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে রফতানি আয় আবারও বেড়ে যায়। তখন এ খাতে রফতানি আয় দাঁড়ায় ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এছাড়া ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি জসিম উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী উদ্যোক্তারা মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করায় প্রতি বছরই রফতানির আয়ের পরিমাণ বাড়ছে। এছাড়া পণ্য বহুমুখীকরণসহ সরকার বিভিন্ন ধরনের নীতিসহায়তা দিলে প্লাস্টিক পণ্যের রফতানি আয় ২০২১ সালের মধ্যে ১০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এজন্য সরকারের বিভিন্ন নীতিসহায়তা প্রয়োজন।

বিপিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫২ সাল থেকে প্লাস্টিক শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। তখন পুরান ঢাকায় এ শিল্পের ঘনত্ব বাড়তে শুরু করে ১৯৬৫ সাল থেকে। আর প্লাস্টিক শিল্পের প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করে ১৯৮০-এর দশকে। বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারিসহ প্রায় ৫ হাজার প্লাস্টিক কারখানা রয়েছে। এর ৮০ ভাগই পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। এ শিল্পে প্রায় ১৩ লাখ শ্রমিক সরাসরি জড়িত। বিআইডিএসের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পণ্য বহুমুখীকরণের আওতায় সরকার এ খাতে বিভিন্ন ধরনের নীতিসহায়তা দিলে প্লাস্টিক পণ্যের রফতানি আয় ২০২১ সালের মধ্যে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। তবে সেজন্য তাদের পৃথক প্লাস্টিক শিল্প পার্ক গড়ে দিতে হবে। সহজ শর্তে ঋণের সুবিধা দিতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং কাঁচামালের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter