চাহিদা অনুযায়ী প্লট বরাদ্দ পাচ্ছে না বিনিয়োগকারীরা

কুমিল্লা ইপিজেড : বহুমুখী সংকটে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে বাধা * পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চালু ও ইপিজেড সম্প্রসারণে উন্মোচন হবে উন্নয়নের দ্বার

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ জোনে (ইপিজেড) চাহিদা অনুযায়ী প্লট বরাদ্দ পাচ্ছেন না দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগ, রফতানি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিক থেকে দেশের ইপিজেডগুলোর মধ্যে পঞ্চম স্থানে থাকা এ ইপিজেড শুরু থেকেই বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ঢাকা-চট্টগ্রামের মাঝামাঝি স্থানে এবং শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য সুবিধাজনক অঞ্চল হওয়ায় বিদেশি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী। কিন্তু এ ইপিজেডে চাহিদা অনুযায়ী প্লট বরাদ্দ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। অপরদিকে এই এলাকার বিমানবন্দরটি মুখথুবড়ে পড়ে থাকা, স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনগুলোর বৈরী আচরণসহ নানাবিধ কারণে ইপিজেডে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে বিমানবন্দরটি চালু করা হলে ইপিজেডসহ সবক্ষেত্রে উন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হবে। ব্যবসায়ী, শিল্প মালিক, নানা শ্রেণী-পেশার লোকজন ও ইপিজেড সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (বেপজা) মহাব্যবস্থাপক নাজমা বিনতে আলমগীর জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়ায় এবং শান্তিপূর্ণ কর্ম-পরিবেশ থাকায় নতুন ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছে কুমিল্লা ইপিজেড একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগের স্থান হিসেবে ইতিমধ্যে দেশে-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও প্লট খালি না থাকায় বড় আকারের নতুন বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিদ্যমান কারখানার ভবনগুলোর ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে ছোট আকারের বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) সূত্র জানায়, ২০০০ সালের ১৫ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লা বিমানবন্দর এলাকার ২৬৭ দশমিক ৪৬ একর জায়গা নিয়ে এ ইপিজেড উদ্বোধন করেন। বর্তমানে এখানে দেশি-বিদেশি ও যৌথ উদ্যোগীসহ মোট ৫৪টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারী কোম্পানি রয়েছে ৩০টি, দেশি ও বিদেশি যৌথ উদ্যোগী কোম্পানি রয়েছে ৮টি এবং বাংলাদেশি কোম্পানি রয়েছে ১৬টি। এ ইপিজেডে উৎপাদিত পণ্য ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের ১৩টি উন্নত দেশে রফতানি করা হয়। এখানে ইটিপির আওতায় ইপিজেডের ৪২ কোম্পানির বর্জ্য পরিশোধন করা হয়। এখানে ৫৪টি কোম্পানিতে ২৮ হাজার ৫৬৮ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এছাড়া ১৯৫ জন বিদেশি কর্মরত রয়েছেন। এ ইপিজেডে বর্তমানে ২৩৯টি প্লট রয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে একটি প্রস্তাব হয়েছিল সীমানা বাড়িয়ে ৫৩১টি প্লট করার। বিশ্বব্যাংক ভূমি সম্প্রসারণের অর্থায়ন করবে। কিন্তু ৪ বছর পরও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ ইপিজেডে গ্লোবাল ব্র্যান্ড, কেনন ক্যামেরার ব্যাগ, ফটোকপিয়ার ড্রাম উৎপাদন করা হয়। এছাড়া সোয়েটার, ডেনিম ফেব্রিকস, গার্মেন্টস, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, এইচএনএম, সিএন্ডএ, জুতা, জিপার, সুতা, পলিব্যাগ, প্লাস্টিকসামগ্রী ও কাপড় ছাড়াও রয়েছে ব্যতিক্রম পণ্য হেয়ার এক্সেসরিজ, মেডিসিন প্লেনার বক্স ও খেলনা তৈরির কারখানা। সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠার পর পরই বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী এ ইপিজেডে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেন। এ ইপিজেডে গ্যাস ও বিদ্যুৎ, শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য শিল্প প্লট সংকট, স্থান সংকুলান, স্থানীয় শিল্পে উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়া, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত ব্যয় এবং অবকাঠামোগত সমস্যাসহ নানান সংকট রয়েছে। যার ফলে তুলনামূলকভাবে এ ইপিজেডে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়ছে না। এখানে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বিদেশি কর্মরত কর্মকর্তাদের সঠিক আবাসন এবং আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমান জানান, ‘বিমানবন্দরের আংশিক পরিত্যক্ত জমিতে সরকার ইপিজেড প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ এলাকাটি যেন অন্ধকার থেকে আলোতে ফিরে এসেছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিবেচনায় ইপিজেড সামগ্রিক দৃষ্টিপট পাল্টে দিয়েছে। সুযোগ-সুবিধা বাড়ালে আরও দেশি-বিদেশি কোম্পানি এখানে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে।’ এ ইপিজেডে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৩৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.