ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদন

ভ্যাটে বাড়বে ভোজ্য তেলের দাম

অর্থনৈতিক অঞ্চল অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করছে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে কর কাঠামোয় পরিবর্তন আনায় ভোজ্য তেলের দাম প্রতি লিটারে ৩ টাকা ৮৩ পয়সা বাড়তে পারে। অবশ্য আমদানি পর্যায়ে নতুন করে ৫ শতাংশ যে আগাম কর আরোপ করা হয়েছে, তা সমন্বয় করা গেলে তেলের দাম বাড়তে পারে ২ টাকা ৯৩ পয়সা। ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ২৮ আগস্ট বাজেটে কর কাঠামো সংস্কারে ভোজ্য তেলের মূল্যের প্রভাব সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি ট্যারিফ কমিশন থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে দেয়া কর অব্যাহতি সুবিধা ভোজ্য তেলের বাজারে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতে পারে। এতে বাজার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে ভোজ্য তেল উৎপাদন প্রতিষ্ঠানকে শুধু আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হতো। সে হিসাবে প্রতি লিটার ভ্যাট দিতে হতো ১০ টাকা ১৭ পয়সা। চলতি বাজেটে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের কারণে অপরিশোধিত ভোজ্য তেল আমদানিতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ, আগাম কর ৫ শতাংশ, উৎপাদন ও বিপণনের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হয়। প্রতি স্তরে ভ্যাট আরোপ করায় প্রতি লিটার তেলে ভ্যাট দিতে হবে ১৪ টাকা। অর্থাৎ প্রতি লিটার তেলের দাম বাড়বে ৩ টাকা ৮৩ পয়সা। তবে আমদানির সময় দেয়া আগাম কর ফেরত পেলে দাম বাড়তে পারে ২ টাকা ৯৩ পয়সা।

প্রসঙ্গত, চলতি বাজেটে ভোজ্য তেল আমদানিতে ৫ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপ করা হয়েছিল। পরে ২৯ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেটি প্রত্যাহার করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, নতুন ভ্যাট আইনের কারণে তেলের দাম বাড়বে, সেটা আমরা আগে থেকেই বলে এসেছি। আগে যেখানে শুধু আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট দিতে হতো, এখন সেখানে আমদানি থেকে বিপণনের প্রতিটি স্তরে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। এরই মধ্যে ট্যারিফ কমিশনে দাম বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলেই ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানো হবে।

এদিকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থাপিত ভোজ্য তেল কোম্পানির কারণে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, কিছু প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভোজ্য তেল উৎপাদন শুরু করেছে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থাপিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কর অব্যাহতি সুবিধা পাবে। এ অব্যাহতি সুবিধার ফলে অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরের শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বেশি হারে কর দিতে হবে। এ কারণে ভোজ্য তেলের বাজারে অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, একই দামে, একই উৎস থেকে অপরিশোধিত ভোজ্য তেল আমদানি করে দেশি কোম্পানিগুলো। অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে ও বাইরে থাকা কোম্পানিকে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আগাম কর (এটি) দিতে হয়। কিন্তু বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এসইজেড) ভেতরের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে কর অবকাশ সুবিধা রয়েছে। আমদানি অপরিশোধিত তেল শোধন খরচ সবার জন্য সমান হলেও কর অব্যাহতি সুবিধা না থাকায় এসইজেডের বাইরের কোম্পানিগুলোর উৎপাদন খরচ বাড়ছে ৬ শতাংশের মতো। এতে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হচ্ছে জানিয়ে এসইজেডের বাইরে থাকা বেশকিছু প্রতিষ্ঠান তা দূর করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি পাঠিয়েছে। শুধু ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রেই নয়, উৎপাদিত পণ্য দেশের বাজারে বিপণনকারী অন্য শিল্প খাতেও একই ধরনের বৈষম্য দেখা দিয়েছে। দেশের বেশির ভাগ সিমেন্ট, ইস্পাত শিল্প, এলপি গ্যাসের প্লান্টগুলো তাদের উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছে। স্থানভেদে কারখানাগুলোর উৎপাদন খরচ প্রায় একই সমান হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক দরে বিপণন করছে তারা। এরই মধ্যে এসইজেডে বেশকিছু শিল্পগ্রুপ স্টিল মিল, এলপিজি প্লান্ট, সিমেন্ট কারখানা গড়ে তুলছে। এসইজেডের বাইরের কারখানার চেয়ে কম খরচে তারা পণ্য উৎপাদন করে বিক্রির সুযোগ পাবে। এতে এসব খাতেও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

সম্প্রতি গ্লোব এডিবল অয়েল এ সমস্যার কথা উল্লেখ করে এনবিআরের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য ও শিল্প সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছে। এতে বলা হয়, দেশের মোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে অবস্থিত। স্বাধীনতার পর ৪৫ বছরে এসব প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে সারা দেশে গড়ে উঠেছে। গত দুই-তিন বছরে গুটিকয়েক শিল্পপ্রতিষ্ঠান এসইজেডের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই গুটিকয়েক শিল্পকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে দেশের সিংহভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইচ্ছা করলেই রাতারাতি বন্ধ করে দিয়ে এসইজেডে স্থানান্তর করে আয়কর সুবিধা নেয়া সম্ভব নয়। এই অসম প্রতিযোগিতার কারণে এসইজেডের বাইরে থাকা বিপুল পরিমাণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যাংকনির্ভর হওয়ায় দেশের ব্যাংক ধসের পাশাপাশি কোটি কোটি লোকের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×