রবির ব্যাংক হিসাব জব্দে এনবিআরের চিঠি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রায় ১৯ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বেসরকারি মোবাইল অপারেটর রবি। এ টাকা আদায়ে সোমবার প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনস্থ বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ-ভ্যাট)। এর আগেও একাধিকবার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির দায়ে দাবিনামা জারি করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম কবীর বলেন, এটি কর ফাঁকি নয়। এনবিআরের সাথে এসব বিষয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলমান আছে। তাছাড়া ভ্যাট আইনের ২৬(খ) এর উপধারা ৫ এ বলা হয়েছে, ব্যাংক হিসাব জব্দ করার আগে করদাতার শুনানি গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে শুনানির সুযোগ দেয়া হয়নি। এছাড়া চিঠিতে এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যা আদালতে বিবেচনাধীন আছে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের পাঠানো চিঠি উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি এলটিইউ-ভ্যাটের অতিরিক্ত কমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল রবির গুলশানের কর্পোরেট অফিস পরিদর্শন করে। এ সময় রবির ট্রায়াল ব্যালেন্স, প্রতিষ্ঠানটির স্থান ও স্থাপনা ভাড়া, সিম বিক্রির তথ্য এবং বিটিসিএলের ইনভয়েস তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা গেছে, রবি আজিয়াটা লিমিটেড ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে সম্পূরক শুল্ক বাবদ ১০ কোটি ৩৫ লাখ ২৬ হাজার টাকা, ২০১৭ সালে স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার বিপরীতে ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ভ্যাট, ৮১ লাখ ৬ হাজার টাকা সিমের ওপর কম প্রদর্শিত সম্পূরক শুল্ক ও মূসক এবং বিটিসিএলকে প্রদত্ত সেবার ওপর প্রযোজ্য অপরিশোধিত মূসক বাবদ ৮১ লাখ ৭১ হাজার ৯৭৪ টাকাসহ মোট ১৮ কোটি ৭২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

এ পাওনা আদায়ে মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এর ধারা ২৬ এর উপধারা ৪ অনুযায়ী, রবি আজিয়াটা লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব ৩ কার্যদিবসের জন্য জব্দ করতে ব্যাংকগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলটিইউ-ভ্যাটের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, রবির কাছে বিভিন্ন বিষয়ে ভ্যাট পাওনা আছে। এসব ভ্যাট পরিশোধে গড়িমসি করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণে ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে হয়েছে। এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি রবি বিরুদ্ধে ৯২৪ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে দাবিনামা জারি করেছিল এলটিইউ-ভ্যাট। ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এ মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকি দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ওইসব দাবিনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ইন্টারকানেকশন চার্জ বাবদ রবির কাছে বিটিসিএলের ৪০ কোটি টাকা পাওনা আছে। এর মধ্যে কিছু টাকা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করেছে রবি। নিয়মানুযায়ী, এ অর্থের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করার কথা থাকলেও সেটি করেনি প্রতিষ্ঠানটি। সে হিসেবে ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা ভ্যাট দাবি করেছে এলটিইউ-ভ্যাট। অন্যদিকে রবি আজিয়াটা ও এয়ারটেল বাংলাদেশ কোম্পানি দুটি একীভূত করা হলেও মার্জ ফি ও স্প্যাক্ট্রাম চার্জের বিপরীতে ৯১ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেনি।

অপর দাবিনামায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিধিবহির্ভূতভাবে ১১৬ কোটি ৪০ লাখ রেয়াত নিয়েছে রবি আজিয়াটা। নিরীক্ষাকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাটারি, ক্যাবল, প্রিন্টেড বোর্ড, রাউটার, সুইচ আমদানির সময় রেয়াত নিয়েছে। অথচ এসব ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আমদানিতে রেয়াত নেই। এছাড়া রবি এসব পণ্য যথাযথভাবে ক্রয় হিসাব পুস্তকে এন্ট্রি করেনি। ফলে এ রেয়াত অবৈধ। তাই রবিকে রেয়াতের অর্থ ফেরত দিতে বলা হয়েছে। অন্য আরেকটি দাবিনামায় বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এসএপি সফটওয়্যার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ৩ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু পরিশোধ করেছে ২ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার ভ্যাট কম দিয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কাছে রক্ষিত তথ্যভাণ্ডার থেকে পাওয়া তথ্যে ১৫৮ কোটি টাকার উৎসে ভ্যাট ফাঁকির তথ্যও বের হয়ে আসে। সব মিলিয়ে এসএপি সফটওয়্যার বাবদ ৫৫৩ কোটি ও উৎসে ভ্যাট বাবদ ১৫৮ কোটি টাকাসহ মোট ৭১১ কোটি ৮২ লাখ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেনি।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.