রি-সাইকেলিং পরিবেশের জন্য আশীর্বাদ

সেমিনারে বক্তারা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন কারখানাগুলোতে বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপন না করার ফলে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প-কারখানা স্থাপন, শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত বর্জ্য, হাসপাতালের চিকিৎসা বর্জ্য খাল, বিল এবং নদীর পানিতে মিশে পরিবেশ ও বায়ু দূষণ হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য নতুন শিল্পনগরী-শিল্পপার্ক স্থাপনের পূর্বে ই-বর্জ্য পরিশোধনের জন্য পূর্বপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কারণ ডাম্পিং ইয়ার্ড পরিবেশের জন্য অভিশাপ অপর দিকে ই-বর্জ্যের রি-সাইকেলিং পরিবেশের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। ই-বর্জ্যরে সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য ই-বর্জ্যরে রি-সাইকেলিংয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

সোমবার বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনে (বিসিক) উদ্যোগে ই-বর্জ্যরে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়েজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখারের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের প্রফেসর ড. রওশন মমতাজ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) পরিচালক ড. আবদুল গফুর এবং হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট, ঢাকার পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাদেক প্রমুখ ।

সেমিনারে ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক পণ্য হইতে সৃষ্ট বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনার ওপর মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করে বক্তারা বলেন, দেশে ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্য সংযোজন গার্মেন্ট শিল্পের অপেক্ষায় শতগুণ বেশি। এ শিল্পের প্রসারের জন্য ই-শিল্পের রি-সাইকেলিং ম্যানেজমেন্টের কারিগরি জ্ঞান প্রসারের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক পণ্য হইতে সৃষ্ট বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৭” চূড়ান্ত হলে এবং তা যথাযথ অনুসরণ করা হলে দেশ দ্রুত শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে যাবে। বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাতি, টিভি, রেফ্রিজারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, মুঠোফোন, বিচিত্র ধরনের ইলেকট্রনিক খেলনাসহ আধুনিক মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বর্জ্য পদার্থে পরিণত হয়। এসব যন্ত্রপাতিতে মানবস্বাস্থ্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য অনেক ক্ষতিকর উপাদান থাকে। সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, বেরিলিয়াম, লিড অক্সাইড প্রভৃতি ধাতব ও রাসায়নিক উপাদান মানুষের স্নায়ুতন্ত্র, যকৃৎ, বৃক্ক, হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, ত্বক ইত্যাদির জন্য ক্ষতিকর। তাই ই-বর্জ্যরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের দেশে সে রকম কোনো ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি এবং আইনের প্রয়োগ সঠিকভাবে হয়নি। এমনকি বছরে কী পরিমাণ ই-বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে, সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যও নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter