চলতি অর্থবছরের দুই মাস: এডিপির বাস্তবায়ন বেড়ে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশে

আজ একনেকে প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন হচ্ছে

  হামিদ-উজ-জামান ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এডিপি

বাড়ছে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন। ফলে সার্বিকভাবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হারও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পর্যন্ত বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

গত অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের এ হার ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাড়াতে নতুন পদ্ধতি অর্থাৎ সরাসরি প্রকল্প পরিচালকদের অ্যাকাউন্টে অর্থছাড় করার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন অর্থছাড়ে আগের মতো অনুমতি নেয়াসহ নানা জটিলতা না থাকায় প্রকল্পের গতি বেড়েছে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এডিপির অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাস পর্যন্ত ৫৮টি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নে অবস্থা পর্যালোচনা করে অগ্রগতির এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই দুই মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে ৯ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের দুই মাসে ব্যয় হয়েছিল ৬ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে এর আগে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছিলেন, প্রকল্পের বাস্তবায়ন গতি বাড়াতে গত অর্থবছর থেকে অর্থছাড় সহজ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আগে সরকারি তহবিলের অর্থ চার কিস্তিতে ছাড় করার নিয়ম ছিল। কিন্তু এখন প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে ছাড়ের কোনো বিষয় নেই। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাস সরাসরি প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ চলে যাচ্ছে। ফলে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রথম এক-দুই মাসে এত বেশি অর্থছাড় আর আগে কখনই হয়নি। পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন সোমবার যুগান্তরকে বলেন, অর্থছাড় প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও কমিশন থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া আইএমইডি এখন এডিপিভুক্ত সব প্রকল্পই মনিটরিং করছে। সেই সঙ্গে পিডিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে বৈঠক করছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় এ মাসেই রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম বিভাগে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বিভিন্ন সময় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সচিবদের ডেকে প্রকল্পের তদারকি ও গতি বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হচ্ছে। এর বাইরে কম অগ্রগতি সম্পন্ন প্রকল্পের গতি বাড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেয়া হচ্ছে। সব কিছু মিলে সার্বিক এডিপি বাস্তবায়নে ভালো ফল দিচ্ছে। তিনি আরও জানান, এখন জেলা পর্যায়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করছি। এর আগে কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুরে গিয়েছে। গত রোববার গিয়েছি সিলেটে। এভাবে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় অংশ নিয়ে প্রকল্পের মানসম্মত বাস্তবায়ন এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি যাতে না হয় সেজন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিচ্ছি।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) ২ লাখ ১৫ হাজার ১১৪ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বাইরে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বরাদ্দ থাকছে ১২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। এডিপিতে পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেলসংযোগসহ গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। এছাড়া মন্ত্রণালয় হিসেবে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

সূত্র জানায়, শুরু থেকেই উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। এ প্রেক্ষিতে গত অর্থবছর থেকে উন্নয়ন প্রকল্পের গতি বাড়াতে নিয়ে আসা হয় নতুন একটি সংস্কার। অর্থাৎ প্রকল্পে অর্থছাড় সহজ করা হয়। এক্ষেত্রে সরকারি তহবিলের অর্থ চার কিস্তিতে ছাড় করার নিয়ম ছিল। কিন্তু গত অর্থবছরের বাজেটের পর থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে ছাড়ের কোনো বিষয় তুলে দেয়া হয়।

ওই সময় অর্থমন্ত্রী (বর্তমানে সাবেক) আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করতে গিয়ে বলেছিলেন, অর্থছাড়ে আমূল সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়িত প্রকল্পের সরকারি তহবিলের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থছাড়ের কোনো প্রয়োজন হবে না। ফলে এখন থেকে বাজেট অনুমোদনের পর প্রকল্প পরিচালকরা জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকেই প্রকল্পের অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।

বাজেট বক্তৃতায় সাবেক অর্থমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এডিপির আকার দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া বর্তমান সময়ে এডিপির আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ মেগা প্রকল্প। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আর্থিক সংস্কারের প্রভাবে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নয়ন কর্মসূচির সঠিক ও সময়মতো বাস্তবায়নে আরও উৎকর্ষ সাধনে আমরা এখন এডিপির অর্থছাড় প্রক্রিয়ায় আমূল সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×